• ই-পেপার

মার্কিন জাদুঘরে ভারতীয় নারী মহাকাশ বিজ্ঞানীর পরিহিত শাড়ি

তামিলনাড়ু বিজেপিতে আরো পদত্যাগের হিড়িক

অনলাইন ডেস্ক
তামিলনাড়ু বিজেপিতে আরো পদত্যাগের হিড়িক

তামিলনাড়ু বিজেপির সাবেক সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের দলত্যাগ ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য ইউনিটে বিভাজন এখন প্রকাশ্যে। আন্নামালাইয়ের দলত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পরেই পদত্যাগ করেছেন সহসভাপতি কারু নাগরাজনসহ কয়েকজন প্রবীণ নেতা। বিজেপি ত্যাগ করে সাবেক আইপিএস কর্মকর্তার নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন তারা। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগরাজন তার সমর্থকদের নিয়ে বিজেপির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা সবাই আন্নামালাইয়ের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন করবেন বলে জানা গেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে নাগরাজন বলেন, ‌‘আমি কোনো নেতাকে দোষারোপ করতে চাই না। আমরা আন্নামালাইকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যিনি একজন উদ্যমী ও সাহসী নেতা।’

আন্নামালাইয়ের ঘোষণার পর বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য আইন বিষয়ক আহ্বায়ক অভিলাষ গোপীনাথও দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

গোপীনাথ তাঁর পদত্যাগপত্রে বলেছেন, পদত্যাগ সিদ্ধান্তের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো কে আন্নামালাইয়ের পথ ও স্বপ্নকে অনুসরণ করা। যাঁর নেতৃত্ব, সততা এবং জনজীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাকে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছিল। আমার রাজনৈতিক চলার পথে এখনো প্রভাব বিস্তার করে চলেছে তিনি বলে যোগ করেন গোপীনাথ।

‘প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে লেবাননকে রক্ষা করুন’

অনলাইন ডেস্ক
‘প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে লেবাননকে রক্ষা করুন’
রয়টার্স ছবি

লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানের কথিত প্রভাব নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি প্রেসিডেন্ট আউনকে ইরানের প্রতি লক্ষ না করে লেবাননের ‘প্রকৃত শত্রুর’ দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, লেবাননকে আপনার প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস টিভি বলছে, এর আগে শুক্রবার সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আউন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় লেবাননকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

আউনের বক্তব্যের জবাবে আরাগচি বলেন, ‘তার এ মন্তব্য শুনে মনে হতে পারে, ইরানই যেন লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। দেশটির এক-চতুর্থাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন লেবাননে বোমা হামলা চালাচ্ছে।’

আরাগচি দাবি করেন, লেবাননের বর্তমান সংকটের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে আউনের মূল্যায়ন ভুল এবং তিনি মূল হুমকিকে উপেক্ষা করছেন।

লেবাননকে ইরান আলোচনার ‘দর-কষাকষির উপকরণ’ হিসেবে ব্যবহার করছে— এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘যদি লেবানন সত্যিই ইরানের জন্য দরকষাকষির কোনো হাতিয়ার হতো, তাহলে আমরা অনেক আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছে যেতাম।’

কী বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট আউন?

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জোসেফ আউন বলেন, ‘এটি আপনাদের দেশ নয়, এটি আমাদের দেশ।’

এর আগে কানি বলেছিলেন, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর ন্যূনতম দাবি হলো— ৪০ দিনের যুদ্ধ শুরুর আগে যে অবস্থানে ইসরায়েল ছিল, সেখানে তাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।

আউন আরও বলেন, লেবাননকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।

যুদ্ধবিরতির পরও অব্যাহত হামলা

লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে বিমান হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবন, জনসেবা স্থাপনা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলায় কয়েকজন লেবাননি নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী সাইদা ও নাবাতিয়েহ অঞ্চলের অন্তত তিনটি শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে স্থানত্যাগের নির্দেশ জারি করেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৫২৬ জন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং সংঘাতে ইসরায়েলের জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের হামলা, ‘নজিরবিহীন’ বলল রুশ কর্তৃপক্ষ

অনলাইন ডেস্ক
সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের হামলা, ‘নজিরবিহীন’ বলল রুশ কর্তৃপক্ষ

যুদ্ধবিরতির আহ্বানের মাঝে ইউক্রেন আবারও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়ায়। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে কয়েক শ ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের চালানো এই হামলাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও তার আশপাশে ইউক্রেন একটি ‘নজিরবিহীন হামলা’ চালিয়েছে। যখন শহরটিতে রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামের শেষ দিন চলছিল। যা শহরটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে। 

গভর্নর আলেক্সান্দর দ্রোজদেঙ্কো বলেছেন, পার্শ্ববর্তী লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ১৪০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। 

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেন্ট পিটার্সবার্গ বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রুশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়ার হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অস্ত্রাগার ও একটি নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধ শেষ করার জন্য সরাসরি আলোচনার আহ্বানকারী ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার কোনো অর্থ নেই বলে ভ্লাদিমির পুতিনের এমন মন্তব্যের পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। তবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয় কোনো কিছু জানা যায়নি।

গত শনিবার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক্স দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘চলমান যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।’ তবে তিনি রাশিয়ার নেতার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাওয়ার’ অভিযোগ করেছেন তিনি।

মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
সংগৃহীত ছবি

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, নতুন এই উত্তেজনার মধ্যে আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে-  হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল নিয়ে উত্তেজনার জেরে কেশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে তাদের যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ইউনিট কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে জানানো হয়। 

বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো বলে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েকটি ট্যাংকার অনুমতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। সতর্ক করার পর একটি ট্যাংকারে আঘাত হানা হয় এবং বাকি জাহাজগুলো ফিরে যায়।

এর কিছু সময় পরই ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের দুটি টেলিযোগাযোগ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হলে আইআরজিসি সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তার জবাব আরো কঠোর হবে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তারা বলে, এর পরিণতির দায় মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকেই বহন করতে হবে।