• ই-পেপার

তামিলনাড়ু বিজেপিতে আরো পদত্যাগের হিড়িক

বিদ্রোহ ও ভাঙনের মুখে দলে পরিবর্তন আনলেন মমতা

অনলাইন ডেস্ক
বিদ্রোহ ও ভাঙনের মুখে দলে পরিবর্তন আনলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় হারের পর নানা সংকটে টানা তিনবার রাজ্য শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। অভ্যন্তরে বিদ্রোহ ও ভাঙনের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমিয়ে দিলেন টিএমসির সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নজিরবিহীন সংকট সামাল দিতে প্রবীণ ও অনুগত নেতাদের গুরুত্ব বাড়িয়ে দলে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইপো টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হয়েছে। পদ বহাল রাখা হলেও একক ক্ষমতা লাগাম টেনে ধরা হয়েছে এই টিএমসি নেতার। অভিষেকের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করতে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে  জাতীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এর ফলে অভিষেক আর এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

এদিকে দলের বর্তমান বিদ্রোহকে সরাসরি সভানেত্রীর বিরুদ্ধে নয়, বরং অভিষেক বিরুদ্ধে উঠেছে। আর এই সংকট তৈরি হয় বিধানসভায় হারের পরও টিএমসির এক দলীয় সভায় ভাইপোর ভূমিকার প্রশংসা করতে বলেছিলেন বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, এই পদক্ষেপে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, কারণ তাঁরা দলের অজনপ্রিয়তার মূল কারণ হিসেবে অভিষেকের কার্যপদ্ধতিকেই দেখছিলেন। সেটাই ছিল প্রথম সূত্রপাত। সেই মুহূর্ত থেকেই তৃণমূল বিধায়ক দলে ফাটল ধরতে শুরু করে।

এই মতবিরোধ একটি বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। তাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে নীতি সংশোধনের পথে যেতে বাধ্য করেছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের মধ্যে, প্রবীণ নেতা চন্দ্রমা ভট্টাচার্য নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে উন্নীত হয়েছেন। যা একটি প্রজন্মগত ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়। সুব্রত বক্সীকে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহসভাপতি পদে বহাল রাখা হয়েছে।

দলের সব শাখাতেই নতুন মুখ আনা হয়েছে। সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বাতী খান্ডেকর পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের সহসভাপতি নিযুক্ত হয়েছেন। সাংসদ সায়োনী ঘোষ তৃণমূলের যুব শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

দলে তীব্র বিদ্রোহের মাঝেও যারা এখনো ‘দিদি’-র পাশে আছেন, সেইসব অনুগত ও পুরনো কর্মীদের মধ্যে মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব বণ্টন করেছেন।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
ফাইল ছবি

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমে আসা এবং তেল সরবরাহে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি হ্রাস পাওয়ায় বাজারে এ দরপতন দেখা দিয়েছে।

গালফ নিউজ বলছে, শনিবার সকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম ২.৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০.৫৪ ডলারে নেমেছে।

এ ছাড়া ব্রেন্ট ক্রুড ১.৯৪ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২.০৪ শতাংশ পতন। মুরবান ক্রুড ২.৮২ ডলার বা ৩.০২ শতাংশ কমে ৯০.৬৮ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া ডব্লিউটিআই মিডল্যান্ড ২.৬৯ শতাংশ কমে ৯১.১৭ ডলার।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মার্স ক্রুড ১.৭৬ শতাংশ কমে ১১২.২১ ডলার এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্ট ৩.৫৬ শতাংশ কমে ৮০.৬৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামও কমেছে, তবে গ্যাসোলিনের সামান্য ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে চারটি ইরানি আক্রমণ ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা এবং হামলা চালিয়েছে ইরানের উপকূলীয় রাডার সাইটে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ভারত মহাসাগরে ইরান-সম্পর্কিত একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়েছে বলেও জানানো হয়।

ওই জাহাজটি ইরানের ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ নেটওয়ার্কের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে, যা অবৈধভাবে তেল পরিবহন করে থাকে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

চলতি বছরের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াত করে।

আরো সংকটে প্রয়াত জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে

অনলাইন ডেস্ক
আরো সংকটে প্রয়াত জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে
এআইএডিএমকে সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী, ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া

আবারও ভাঙনের মুখে প্রয়াত জয়ললিতার সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে)। সাবেক মন্ত্রী, বিধায়ক এআইএডিএমকে ছেড়ে থালাপতির তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) ও এমকে স্ট্যালিনের দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগময়ে (ডিএমকে) যোগ দিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) পদত্যাগকারী নেতারা চেন্নাইয়ে টিভিকের দলের সদর দপ্তরে সাধারণ সম্পাদক আনন্দ এবং নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপনার সাধারণ সম্পাদক আধব অর্জুনের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলে যোগদান করেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, চারজন সাবেক মন্ত্রী ও বিধায়ক শাসক দল টিভিকেতে যোগ দেওয়া এআইএডিএমকে চলমান অভ্যন্তরীণ সংকটের আরো তীব্রতর হলো।

দলত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন উডুমালাই কে রাধাকৃষ্ণন, এমসি সম্পথ, কাদাম্বুর সি রাজু ও এনআর শিবপতি। 

উদুমালাই কে রাধাকৃষ্ণান উদুমালপেট বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচনে হেরেছেন। এমসি সম্পাথ কুড্ডালোর নির্বাচনী এলাকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন। কদম্বুর রাজুও ২০২৬ বিধানসভায় কোভিলপট্টিতে পরাজিত হন।

এর আগে এআইএডিএমকের ২৫ জন বিদ্রোহী বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের পক্ষে আস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন।

২৩ এপ্রিলের নির্বাচনে বাজে ফলাফলের পর থেকে এআইএডিএমকে একের পর এক ধাক্কা খেয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরপরই, দলের ২৫ জন বিদ্রোহী বিধায়কের একটি দল এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের আনা আস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করে।

এর আগে সেই বিদ্রোহী বিধায়কদের মধ্যে চারজন পরে এআইএডিএমকে থেকে পদত্যাগ করে টিভিকেতে যোগ দেন। শেষতক আরো সাবেক চার মন্ত্রী ও বিধায়কের এই দলত্যাগে এআইএডিএমকে বড় ধাক্কা খেল।

‘প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে লেবাননকে রক্ষা করুন’

অনলাইন ডেস্ক
‘প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে লেবাননকে রক্ষা করুন’
রয়টার্স ছবি

লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানের কথিত প্রভাব নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি প্রেসিডেন্ট আউনকে ইরানের প্রতি লক্ষ না করে লেবাননের ‘প্রকৃত শত্রুর’ দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, লেবাননকে আপনার প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস টিভি বলছে, এর আগে শুক্রবার সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আউন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় লেবাননকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

আউনের বক্তব্যের জবাবে আরাগচি বলেন, ‘তার এ মন্তব্য শুনে মনে হতে পারে, ইরানই যেন লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। দেশটির এক-চতুর্থাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন লেবাননে বোমা হামলা চালাচ্ছে।’

আরাগচি দাবি করেন, লেবাননের বর্তমান সংকটের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে আউনের মূল্যায়ন ভুল এবং তিনি মূল হুমকিকে উপেক্ষা করছেন।

লেবাননকে ইরান আলোচনার ‘দর-কষাকষির উপকরণ’ হিসেবে ব্যবহার করছে— এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘যদি লেবানন সত্যিই ইরানের জন্য দরকষাকষির কোনো হাতিয়ার হতো, তাহলে আমরা অনেক আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছে যেতাম।’

কী বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট আউন?

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জোসেফ আউন বলেন, ‘এটি আপনাদের দেশ নয়, এটি আমাদের দেশ।’

এর আগে কানি বলেছিলেন, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর ন্যূনতম দাবি হলো— ৪০ দিনের যুদ্ধ শুরুর আগে যে অবস্থানে ইসরায়েল ছিল, সেখানে তাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।

আউন আরও বলেন, লেবাননকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।

যুদ্ধবিরতির পরও অব্যাহত হামলা

লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে বিমান হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবন, জনসেবা স্থাপনা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলায় কয়েকজন লেবাননি নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী সাইদা ও নাবাতিয়েহ অঞ্চলের অন্তত তিনটি শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে স্থানত্যাগের নির্দেশ জারি করেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৫২৬ জন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং সংঘাতে ইসরায়েলের জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।