• ই-পেপার

বিকেলে প্রথম বৈঠকে বসছে দুদকের সার্চ কমিটি

জুলাইয়ে বীরত্বগাথা তুলে ধরতে মাসব্যাপী কর্মসূচি এনডিএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ে বীরত্বগাথা তুলে ধরতে মাসব্যাপী কর্মসূচি এনডিএফের
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলা, হুমকি ও নানা বাধা উপেক্ষা করে আহতদের চিকিৎসাসেবা, রক্ত ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন চিকিৎসকরা। এমনকি সরকারি পর্যায় থেকে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার (নো ট্রিটমেন্ট) নির্দেশ থাকলেও নানা কৌশলে আহতদের চিকিৎসা দিয়ে বহু প্রাণ রক্ষা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।

সংগঠনটি বলছে, সেই বীরত্বগাথা, আত্মত্যাগ এবং মানবিক দায়িত্ববোধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই মাসব্যাপী ‘জুলাই উদযাপন’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান : ইনসাফ, মেধা ও রাষ্ট্র বিনির্মাণ/রাষ্ট্র সংস্কার’ প্রতিপাদ্যে মাসব্যাপী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় এনডিএফ। কর্মসূচির স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জুলাইয়ের আত্মত্যাগ থেকে আগামীর অঙ্গীকার’।

সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের অফিস সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক জানান, জুলাই স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় গবেষণা, চিকিৎসাবিষয়ক সম্মেলন, স্মৃতিচারণ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘এনডিএফ ৩৬ জুলাই অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানসহ নানা আয়োজন করা হবে। আগামী ৯ আগস্ট রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শেষ হবে।

তিনি বলেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য শুধু একটি অনুষ্ঠান করা নয়; বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মাননা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের অবদান তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ন্যায়বিচার, মেধা, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থী, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এবং অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। একই সময়ে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমও আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এনডিএফের সিনিয়র সহ-সভাপতি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি চিকিৎসকরাও নীরবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গুলিতে মাথার খুলি উড়ে যাওয়া, মস্তিষ্ক বাইরে বেরিয়ে আসা কিংবা ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ভয়াবহ অবস্থায় থাকা আহতদের ঠাণ্ডা মাথায় চিকিৎসা দিয়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু এনডিএফের উদ্যোগেই আন্দোলনের সময় আহতদের জন্য ৮৪ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীও সরবরাহ করা হয়, যাতে আহতদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।

এনডিএফের সহ-সভাপতি ডা. আতিউর রহমান বলেন, আন্দোলনের সময় সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সেগুলো সরবরাহ করা হয়, যাতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুদ্দিন তালুকদার দাবি করেন, সে সময় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের অনেক সময় আহতদের পরিচয় গোপন করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল—‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’। অনেক ক্ষেত্রে বাধার মুখে বলতে হয়েছে, তিনি গুলিবিদ্ধ নন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। এভাবেই নানা কৌশলে চিকিৎসা দিয়ে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”

ডা. নুরুদ্দিন আরো বলেন, চিকিৎসকদের জন্য রোগীর জীবনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই নৈতিক দায়িত্ব থেকেই এনডিএফের চিকিৎসকেরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

এনডিএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক খান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সেই ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সবার।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে ধারণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মেধানির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা থেকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

এনডিএফের যুগ্ম সম্পাদক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং চিকিৎসকদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, মাসব্যাপী কর্মসূচিতে গবেষণাপত্র আহ্বান, স্মৃতিকথা সংগ্রহ, আলোকচিত্র ও তথ্যভিত্তিক প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. উসামা রাইয়ান। সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া যায় না : শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া যায় না : শামা ওবায়েদ
ছবি : কালের কণ্ঠ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা আদর্শিক কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়া যায় না। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকায় হলি আর্টিজান হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে ইতালি দূতাবাস আয়োজিত এক স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতি স্মারকে ফুল দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। তারা নিহতদের স্মরণে পুস্পস্তবক ও এক মিনীট নিরবতা পালন করেন। 

3
ছবি : আব্দুল্লাহ আল মিরাজ

অনুষ্ঠানে নিহতদের সম্মানে পুস্পস্তবক দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এরপর এই ঘটনাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের ক্ষত বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। হলি আর্টিজান হামলা দেশের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়েছে। 

তিনি বলেন, সেদিন সন্ত্রাসীরা আশা, মানবতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধকে আঘাত করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরীহ নাগরিকদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সন্তান ও স্বজন হারানোর বেদনা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

1
ছবি : আব্দুল্লাহ আল মিরাজ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান হামলা ছিল বাংলাদেশের সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার ওপর একটি পরিকল্পিত আঘাত। কিন্তু বাংলাদেশ ঐক্য ও দৃঢ়তার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। গত এক দশকে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নারী-যুবসমাজ, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সন্ত্রাসবাদ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ১০ বছর আগে সংঘটিত সেই হামলায় অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। নিহত ইতালীয়রা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। আর জাপানি নাগরিকরা জাইকার উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন, যার অবদান আজও বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান। নিহতরা বিভিন্ন দেশের হলেও অধিকাংশই ছিলেন তরুণ, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় মানুষ। তাদের স্মরণ করা মানে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে স্মরণ করা।

2
ছবি : আব্দুল্লাহ আল মিরাজ

ইতালির রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার বার্তা পাঠ করে শোনান। বার্তায় রাষ্ট্রপতি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সংহতি আরো শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নিরাপদ, উন্মুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, হলি আর্টিজানের দশম বার্ষিকীতে সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত—‘নেভার অ্যাগেইন’ বা এমন ঘটনা আর কখনো ঘটতে দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান অ্যালবার্ট সিয়া, বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিহতদের পরিবারের সদস্য, হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন জিম্মি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

4
ছবি : আব্দুল্লাহ আল মিরাজ

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস এ হামলায় ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, এক ভারতীয়, এক বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হামলাকারীদের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান তৎকালীন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম।

নতুন পোশাকে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
নতুন পোশাকে পুলিশ
সংগৃহীত ছবি

গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরল বাংলাদেশ পুলিশ। সংস্কারের অংশ হিসেবে ৫ আগস্টের পরই পোশাকে পরিবর্তন আনা হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আবার বদলানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বিএনপি সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পর আজ বুধবার (১ জুলাই) নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে পুলিশ কর্মকর্তাদের।

এদিন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে গাঢ় নীল শার্টে ও খাকি প্যান্টে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা জলপাই রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ জানান, আজ থেকে নতুন পোশাক পরছেন পুলিশ সদস্যরা। এখনো সব পুলিশ সদস্যের হাতে পৌঁছেনি নতুন পোশাক। পর্যায়ক্রমে সব সদস্যই পাবেন। যারা পেয়েছেন তারা নতুন ইউনিফর্মেই দায়িত্ব পালন করছেন।

এখানে উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। উঠে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবিও। গত বছর ২০ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের শার্টের রং আইরন বা লোহা-ধূসর, আর প্যান্টের রং ছিল কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর করা হয়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।

যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। পোশাকের রং নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠে। গত ১৮ জুন পোশাকের রং পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর।

প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্টিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং–সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়। 

নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টের সামনে চারটি পকেট থাকবে। সামনের অংশে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়। নারী পুলিশ চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজের কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা। শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা। মাথার আবরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সেটি অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হবে।

প্রচলিত নিরাপত্তা নয়, ডিজিটাল সক্ষমতাই ভবিষ্যতের মূল শক্তি : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রচলিত নিরাপত্তা নয়, ডিজিটাল সক্ষমতাই ভবিষ্যতের মূল শক্তি : তথ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা আর শুধু সীমান্ত পাহারা বা প্রচলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশের ফলে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও তথ্য ব্যবস্থাপনার ধারণায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ডিজিটাল নেতৃত্ব, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি।

আজ বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল রূপান্তরের বৃহত্তর মহাপরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সময়োপযোগী ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিয়ে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা দেশের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিপুল জনবলকে প্রচলিত ধারণার গণ্ডিতে আটকে না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল যোগাযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বে বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু ভৌত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং তথ্যভাণ্ডার ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখাই এখন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা আমাদের শিখিয়েছে যে নিরাপত্তার ধারণা এখন সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পেয়েছে।’

তিনি ডিজিটাল যুগে পুরনো মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে পরিবর্তনকে গ্রহণ করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে এনালগ চিন্তা থেকে ডিজিটাল চিন্তায় রূপান্তর এবং ডিজিটাল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রযুক্তির জগৎ কখনো স্থির নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আজ যা আধুনিক, আগামীকাল তা পুরনো হয়ে যেতে পারে। এজন্য ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-কেও ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সড়ক যোগাযোগ ও মহাসড়ক এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনসারের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এম সাজ্জাদ মাহমুদ। 

প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সঠিক, যাচাইকৃত ও জনস্বার্থভিত্তিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ দায়িত্বশীল গণযোগাযোগের একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে তথ্যমন্ত্রী প্রান্তিক কণ্ঠস্বরের স্টুডিও ও প্রোডাকশন হাউস ঘুরে দেখেন।