• ই-পেপার

কার্যকর হলো নবম পে স্কেল, গেজেটের পর মিলবে বর্ধিত বেতন

পূর্বাচলকে ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
পূর্বাচলকে ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সরকারের

রাজধানীর পাশেই গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পুরো এলাকা ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রকল্প পরিচালনার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নতুন তিনটি উপজেলা গঠনসহ মোট ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন পায়।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বেশিরভাগ অংশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এবং বাকি অংশ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার। তিন জেলার প্রশাসনিক সীমার সঙ্গে প্রকল্পের কার্যক্রম জড়িয়ে থাকায় বিভিন্ন সেবা ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে পুরো প্রকল্পকে ঢাকা জেলার আওতায় আনার প্রস্তাব দেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নিকার সভায় সেই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই দিনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে পূর্বাচলের সেক্টর-১ এলাকায় ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। রাজউকের সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প চালুর মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হলো। পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে পূর্বাচলকে গড়ে তুলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি জানান, পূর্বাচল এলাকায় ডিএমপির আওতায় চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইনস এবং তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয় স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কাজও চলমান।

আইজিপি আরো বলেন, পূর্বাচলের নিরাপত্তা জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজউক। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে পুরোপুরি ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র পুলিশ বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন।

বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল কার্যকর, সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন কত?

অনলাইন ডেস্ক
বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল কার্যকর, সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন কত?
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর কার্যকর হয়েছে নবম জাতীয় পে স্কেল। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, গেজেট প্রকাশ এবং হিসাব সমন্বয়ের ওপর বর্ধিত বেতন প্রাপ্তির সময় নির্ভর করছে।

এরআগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পে স্কেল কার্যকর হলেও প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ, সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব সমন্বয় এবং বেতন বিল প্রস্তুতের কারণে বর্ধিত অর্থ হাতে পেতে লাগতে পারে আরো কিছু সময়। গেজেট জারির পর বকেয়াসহ নতুন হারে বেতন দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে একই বেতন কাঠামোর অধীনে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বেতন বাড়ছে কত?

নবম পে কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নে সব সুপারিশ হুবহু থাকবে কিনা, তা সরকারের অনুমোদিত গেজেট ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে মূল বেতন ও ভাতার বিষয়টি আলাদা ধাপে কার্যকর করার চিন্তা ছিল। তবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থায় কারিগরি জটিলতা এড়াতে মূল বেতন এক ধাপে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার সংশোধন পরবর্তী ধাপে কার্যকর হতে পারে।

নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। এ অর্থ সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যবহার হতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের বেতন ও পেনশন খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা
সংগৃহীত ছবি

দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রুটের সমীক্ষা শেষ হলেও নতুন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে অর্থায়নের উৎস খুঁজছে কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে ভাঙ্গা থেকে ২৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন রেলপথ নির্মাণের সমীক্ষা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন অর্থসংস্থানের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই রেলপথ ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর হয়ে বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকল্পের আওতায় পায়রা বন্দরের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বরিশালে একটি মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পথে ১৯টি বড় স্টেশন, প্রায় ১৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং নদী ও খাল অতিক্রমে ৪৬টি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। কিছু অংশে আন্ডারপাস ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

রেল প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, রেলের বাইরে থাকা অন্যান্য জেলাগুলোতেও সম্প্রসারণের জন্য নতুন সমীক্ষা শিগগিরই শুরু হবে। তার ভাষায়, দেশের সব জেলাকে ধীরে ধীরে রেল নেটওয়ার্কের মধ্যে আনার পরিকল্পনা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ।

তিনি বলেন, পায়রা বন্দরসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে রেল সংযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ও দ্বীপ ভোলা এখনো রেল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে—সেগুলোও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, রেল প্রকল্পের সঙ্গে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকলে এই বিশাল বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে আমদানি-রপ্তানি করিডোর গড়ে তুলতে হবে। তার মতে, ফরওয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংক নিশ্চিত না হলে এসব রেল প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে চাপ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, জমির ব্যবহার পরিকল্পনা ও পরিবহন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় না হলে রেলপথ তৈরি হলেও তার পূর্ণ অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে না।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে, যা ৪৮টি জেলাকে সংযুক্ত করেছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের রেল নেটওয়ার্ক আরো বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে সরকার।

নতুন ৩ উপজেলা ও একটি থানার অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
নতুন ৩ উপজেলা ও একটি থানার অনুমোদন

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার)।

উপজেলা তিনটি হচ্ছে– চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গারা’ এবং ময়মনিসংহের ‘পাগলা’। একটি নতুন থানা হচ্ছে চট্টগ্রামের  ‘হালদা’।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার ১২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু বলেন,  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে  এসব উপজেলা  ও থানা অনুমোদন হয়।

হাসান শিপুল বলেন, এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা প্রকল্পের অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তুর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী তিনটি নতুন উপজেলার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গারা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরাগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘পাগলা’ উপজেলা।এ ছাড়া চট্টগ্রামের হাটাজারি থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা থানা’।