• ই-পেপার

মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য

‘শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, জামায়াতে ইসলামীর বিচারও হতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক
‘শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, জামায়াতে ইসলামীর বিচারও হতে হবে’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য একাধিকবার প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও দলগতভাবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুশোচনা প্রকাশ’ বা ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ করেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান এবং হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দলটির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনপরিসরে বিতর্ক রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল।’ এর জবাবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন দলের নেতারা মনে করছেন, জামায়াতের অতীতের দায়, ক্ষমা প্রার্থনা, বিচার এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—সবকিছুই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কেউ বলছেন, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা জরুরি; কেউ বলছেন, শুধু ক্ষমা নয়, বিচারও হতে হবে; আবার কেউ মনে করছেন, দলটির নামই তাদের ঐতিহাসিক দায় বহন করছে।

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি নিয়ে সমালোচনার আগে আপনাদের নিজেদের দিকে একবার ফিরে তাকানো দরকার। এজন্য তাকানো দরকার যে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য একবারও তো ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে কিন্তু আজকের এই সমস্যা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের নেতা প্রফেসর গোলাম আজম তখন বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে আমরা ভুল করিনি। আমার মনে হয় এখনো সময় আছে। আপনারা এখনো ভেবে দেখতে পারেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার করে আমাদের জানানো উচিত, বাংলাদেশকে জানানো উচিত বলে আমি মনে করি। আমি এর বেশি যেতে চাই না। কারণ বারবার আপনারা এই কথাগুলোই বলতে থাকেন।’

তার ভাষ্য, ‘১৯৭১ সম্পর্কে আপনাদের ধারণা খুব পরিষ্কার করে আপনারা বলেন না, বলেননি। আমি আজ পর্যন্ত শুনিনি। এটা কেউ শোনেনি। এই কথাটা আমরা এজন্য বলছি যে, আজ যদি আপনারা এটা স্বীকার করে নেন, তাহলে আপনাদের জন্য রাজনীতি অনেক সহজ হয়ে যাবে।’

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা ইস্যুতে বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও এগারো দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। ক্ষমা আপনার বাবাকে কবর থেকে চাইতে বলেন।’

তার মতে, ‘অতীতে বিভাজনের রাজনীতির কারণে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আবার বর্তমান সরকার সেই বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য জামায়াত ক্ষমা চায়নি। ফ্যাসিবাদীরা যে সুরে কথা বলেছে, সেটি বাংলাদেশের জনগণ জুলাই আন্দোলনের সময় রিজেক্ট (বাতিল) করে দিয়েছে। পুরোনো কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ হবে না।’

হামিদুর রহমান আযাদের বলেন, ‘আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। ক্ষমা আপনার বাবাকে কবর থেকে চাইতে বলেন। আমরা অপরাধ করি নাই, ক্ষমা চাইবো কেন? সেই হিসেবে আপনার বাবাও অপরাধী, এই অভিযোগ আছে। সুতরাং আপনাদের কথা সতর্কভাবে বলা উচিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা বলেন, ‘জামায়াত ইনিয়ে-বিনিয়ে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পক্ষ থেকে একাত্তরের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।’

তার ভাষ্য, ‘পাকিস্তানের হানাদারদের তারা রাজনৈতিক সহায়ক ছিল, সামরিক সহায়ক ছিল এবং হত্যাকাণ্ডেও তাদের সহায়ক ভূমিকার একটা প্রামাণিক ইতিহাস বা দলিলপত্র আছে, মানুষ জানে। সুনির্দিষ্টভাবে এই অপরাধের সহায়তার ব্যাপারে এবং গণহত্যার সহায়ক হিসেবে বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তাদের যে অবস্থান, এটা যে ভুল ছিল, অন্যায় ছিল, ফলে তার জন্য যে ক্ষমা প্রার্থনা করা—এটার কোনো “যদি-কিন্তু” দেওয়া যাবে না। নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।’

সাইফুল হক মনে করেন, শুধু ক্ষমা প্রার্থনা করলেই বিষয়টির সমাপ্তি হবে না। তার মতে, এরপর কীভাবে দলটি প্রায়শ্চিত্ত করবে, সেটিও তাদের নির্ধারণ করতে হবে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্ন যেমন উঠেছে, তেমনি জামায়াতেরও দল হিসেবে বিচারের প্রশ্ন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মানুষের বিচারের মুখোমুখিও তাদের হতে হবে।

তার ভাষায়, ‘তাদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একাত্তরকে ধারণ করা, লালন করার একটা বিষয় আছে। এটা কেবল একটা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার প্রশ্ন না। জামায়াতের এই বিচারের প্রশ্নটা কোনো শোধ-প্রতিশোধের বিষয় না। এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন।’

বর্তমান নেতৃত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেক নেতা ব্যক্তিগতভাবে ওই সময়ের অপরাধে যুক্ত ছিলেন না। তবে তাদের বহু আগেই দলীয়ভাবে এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স মনে করেন, জামায়াতের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন তুলে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ করা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর ও আলশামস বাহিনীর মাধ্যমে যে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার সঙ্গে জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না, বিচারও চলমান রাখতে হবে। জামায়াত যদি রাজনৈতিকভাবে এই যুক্তিতে একমত হয় যে পাকিস্তানকে রাখার পক্ষে যে সংগ্রাম করেছিলাম, এইটা আমাদের ভুল ছিল—এই রাজনৈতিক উপলব্ধি হলে তখন ভুল স্বীকারের প্রশ্ন আসবে। তখন কিভাবে বলবে না বলবে সরকার এবং রাষ্ট্র নির্ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘যে মনেই করে না হত্যা করেছে, জোর-জুলুম করেছে, তাহলে শুধু শুধু ক্ষমা চাইলে তো হবে না।’

রুহিন হোসেন প্রিন্স আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিলে ‘উইথ দেয়ার অল অক্সিলারি ফোর্স’ উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে আলবদর ও আলশামস অন্তর্ভুক্ত। তার মতে, সেই বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশের রাজনীতি করার অধিকার নেই।

তিনি বলেন, জনগণ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত রাজনৈতিকভাবে এই শক্তিকে মোকাবিলার পথ খুঁজে বের করা।

রাজনীতি বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, জামায়াত নামটিই দলটির সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক দায়।

তিনি বলেন, ‘জামায়াত নামটা তো ওই যে পাকিস্তানপন্থীদের পক্ষ নিয়েছে সেইরকম ইতিহাস। জামায়াত নামটা যতদিন থাকবে ততদিন তাদের এই দায় বহন করে যেতেই হবে।যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত অনেকের বিচার হয়েছে, অনেকের শাস্তিও হয়েছে। কিন্তু দল হিসেবে অতীতের দায় থেকে মুক্তি পেতে চাইলে নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে।’

তার ভাষায়, ‘তাদের তো রি-ইনভেন্ট করতে হবে নিজেদের। তারা যদি একাত্তরের দায়মুক্ত হতে চায়, জামায়াত নাম যতদিন থাকবে একাত্তরের সেই দায় তারা এড়াতে পারবে না। তাদেরকে নতুন কোনো নামে আবির্ভূত হতে হবে। তাদের শুধু নাম না, তাদের কর্মসূচিও তাদের জন্য যেটা ওই যে ধর্মীয় ওগুলো তাদের জন্য এক শ্রেণির কাছে গ্রহণযোগ্য না। তবে রাজনীতি তো বিভিন্ন দল বিভিন্ন মতবাদ থাকতে পারে। কিন্তু জামায়াতের বেলায় জামায়াত নামই তাদের জন্য দায় আমি মনে করি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার কারণে জামায়াত সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে মনে করেন কবি নজরুল কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতের আমিরকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমাদের ক্ষমা করে দিন, আমাদের একটি সুযোগ দিন।’ কিন্তু তার মতে, ক্ষমা চাইতে হলে আগে স্পষ্টভাবে ভুল স্বীকার করতে হয়।

সামিয়া বলেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত কোনো জামায়াতের পক্ষ থেকে অকপটে বলতে দেখিনি বা শুনিনি যে, ১৯৭১ সালে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ভুল ছিল বা তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থককে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস, শহীদের সংখ্যা বা যুদ্ধকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। এতে মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয় যে দলটি এখনো অতীতের অবস্থান থেকে স্পষ্টভাবে সরে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার প্রথম শর্ত হলো সত্য স্বীকার করা। আর সত্য স্বীকার না করে শুধু “ক্ষমা করে দিন” বলা রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত অনুশোচনা নয়।’ 

জুলাই শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বলন

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বলন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঐতিহাসিক সেই আন্দোলনের স্মৃতি ও শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ‘জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক বিশেষ মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে (১ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীরা হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে অবস্থান নেন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাণ দেওয়া সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ

বাংলাদেশে টার্কিশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) হলো অ্যারোমেট সার্ভিসের লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং অন্যতম কর্ণধার শাহরিয়ার নাসের জাহেদী সম্প্রতি জামায়াতে যোগদান করেছেন বলে ঝিনাইদহে জোর গুঞ্জন রয়েছে। যদিও শাহরিয়ার নাসের জাহেদী তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জামায়াতে যোগ দিন আর না দিন, দলটির সঙ্গে জাহেদীর ঘনিষ্ঠতার কথা সবাই জানেন। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তিনি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ’২৪-এর আমি-ডামি নির্বাচনে জাহেদী, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের আগে অবশ্য এই জাহেদী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় তিনি তার বন্ধু তৎকালীন সিজিএস জেনারেল (অব) সিনহা ইবনে জামালীর বদৌলতে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। সেই সময় তার হাতে বিএনপি নেতা মশিউর রহমানসহ বহু নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। জাহেদী শুধু অ্যারোমেটের কর্ণধার নন, দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ কোম্পানি রেডিয়েনটের কর্ণধারও বটে। ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষ বলছে জাহেদী যেখানে ক্ষমতার গন্ধ পায় সেখানেই বাসা বাঁধে। তাদের শঙ্কা, তাহলে কি জামায়াত শিগগিরই ক্ষমতায় আসবে?

দেশের অন্যতম একটি শিল্পগোষ্ঠীর মালিকের জামায়াতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন, সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে বলে অনেকে মনে করেন। জামায়াত এখন নিজেদের গণ্ডির বাইরে গিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করছে। এই ঘটনা তার প্রমাণ।

তবে এই সাধারণ সূত্রের পেছনে রয়েছে আরও গভীর ষড়যন্ত্রের সূত্র। শাহরিয়ার নাসের জাহেদীর জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুরস্কের সঙ্গে একাত্তরের পরাজিত শক্তির সম্পর্কের একটি উদাহরণ। কেবল টার্কিশ এয়ারলাইনসের জিএসএ নয়, তুরস্ক থেকে আসা জাকাত ফান্ডসহ দেশটির সঙ্গে একাধিক ব্যবসায় জড়িত জাহেদী। জাহেদীর মতো তুরস্ক কেন্দ্রিক বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এখন জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়, গত ২৩ বছর ধরে তুরস্কের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামক একটি মৌলবাদী দল। ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় আরোহণ দলটির প্রধান নেতা রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের। তিনি ধীরে ধীরে তুরস্ককে উদার, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের চরিত্র থেকে ইসলামপছন্দ রাষ্ট্রের দিকে টেনে আনেন। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ পদেই দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল। তার নেতৃত্বে কট্টর মুসলিম জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে তুরস্কে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সিরিয়া, লিবিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে তুরস্কের কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিদ্রোহী বা ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আঙ্কারার যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসেবেই বাংলাদেশে জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের গোপন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়। এই সময়ে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে এবং তাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান শুরু করে। জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের সম্পর্ক প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৬ সালে। যখন দেশটি জামায়াতের নেতা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়ের নিন্দা জানায় এবং রায় কার্যকর না করার জন্য তৎকালীন সরকারকে চিঠি দেয়।

তুরস্কের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ-এর উপদেষ্টা ‘সেলচুক কোলাগলু’ ২০১৯ সালে মিডল-ইস্ট ইনস্টিটিউটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ ব্যাপারে লিখেছেন, দেশটির ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২০১১ সালে ইসলামভিত্তিক রাজনীতির মতাদর্শ গ্রহণ করেছিল। এরই অংশ হিসেবে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলটি মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে যেমন সমর্থন দিয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর প্রতিও তাদের সমর্থন ছিল বলে মনে করেন মি. কোলাগলু।

বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে তুরস্ক জামায়াতকে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। অ্যারোমেট এমনই একটি প্রতিষ্ঠান। এই সময় তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বৃদ্ধি করে। এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। বাংলাদেশ তুরস্কের কাছ থেকে পিঁয়াজ থেকে শুরু করে সেনা সরঞ্জাম পর্যন্ত কেনা শুরু করে। আওয়ামী লীগ আমলে তুরস্কের সঙ্গে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির সুফল পায় জামায়াত। এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের আড়ালে তুরস্ক জামায়াতেকে পুনরুজ্জীবিত করে। আজকের জামায়াত তুরস্কের ব্রেন চাইল্ড বলেও মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই এক দশকে (২০১৬-২০২৬) জামায়াত সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে। এর পেছনে প্রধান অর্থদাতা ছিল তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশিরা। তাদের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিআরএসের (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) নামে জামায়াত নিয়ন্ত্রণাধীন মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী একই মতাদর্শে বিশ্বাসী। এ কারণেই এককালের ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক জামায়াতের ঘনিষ্ঠ মিত্রতে পরিণত হয়েছে। ১৯২৮ সালে মিসরে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড) প্রতিষ্ঠা করেন হাসান আল বান্না ও সাইয়্যেদ কতুব। ইতিহাসবিদ ফিলিপ জেনকিন্সের মতে, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদীর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে মওদুদী জামায়াত প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪০ সালে। ১৯৭৯ সালে মওদুদীর মৃত্যুর পর ব্রাদারহুডই হয়ে ওঠে তার দর্শনে বিশ্বাসী ও মতাদর্শে পরিচালিত দলগুলোর ঐক্যের প্রতীক। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে মওদুদীর মতাদর্শে বিশ্বাসী দল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে এরা জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। কয়েকটি দেশে ক্ষমতার শরিক হলেও সুদানে ও তুরস্কে এককভাবে ক্ষমতায় আছে তারা। এসব দলের ওপর ব্রাদারহুডের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াতের প্রতি সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে তুরস্কের বর্তমান সরকার। জুনের প্রথম সপ্তাহে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরকালে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এর আগে গত মে মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের হুদা পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হুসাইন এমির এবং এনজিও বিভাগের প্রধান ফিকির কারাভিল।

জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের বহুমুখী সম্পর্ক এখন দৃশ্যমান। বহু ছাত্রশিবিরের সদস্য উচ্চশিক্ষার জন্য তুরস্কে যাচ্ছেন। তাদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বেশির ভাগ ফায়দা নিচ্ছে জামায়াত। তুরস্কে জামায়াতের কর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির আদলে জামায়াতকে আধুনিকীকরণের কাজটা করছে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বাইরে উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব দেখানো, পোশাকে আধুনিকতা, ইত্যাদি নানা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে তুরস্কের ক্ষমতাসীনরা। বাংলাদেশে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনার একটি নীলনকশা তৈরি করেছে। এখন যার বাস্তবায়ন চলছে।

কিন্তু বাংলাদেশে জামায়াতের প্রধান প্রতিপক্ষ তাদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক যেমন গভীর পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে তেমনি জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হবে। জামায়াত এখন উদারতার এবং আধুনিকতার যে রাজনীতির কথা বলছে তা আসলে একটি মুখোশ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় ছাত্রশক্তির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় ছাত্রশক্তির

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে দেশজুড়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের কবর জিয়ারত, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণে সংহতি সমাবেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের গান, কবিতা, পথনাটক ও মূকাভিনয়ের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং আলোকচিত্র ও ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী।

এ ছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গল্প, কবিতা, ছবি ও অ্যানিমেশন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠান, জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল, জুলাই কনফারেন্স, শহীদদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, গ্রাফিতি অঙ্কন এবং অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন কর্মসূচিও রয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস ও আপসহীন সংগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করাই জাতীয় ছাত্রশক্তির অঙ্গীকার।

জাতীয় ছাত্রশক্তি দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণকে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অভিযাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।