• ই-পেপার

‘শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, জামায়াতে ইসলামীর বিচারও হতে হবে’

মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক
মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য

এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে সংসদ থেকে ইস্তফা দেবেন হাসনাত আবদুল্লাহ। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক জায়গায় দাঁড়িয়ে জনগণকে এমন চ্যালেঞ্জ দেন তিনি। অথচ তার নিজ সংসদীয় আসনে লুটতরাজ ও অর্থনৈতিক অপরাধ এখন ওপেন সিক্রেট।

হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচিত এলাকা কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচাকান্দা পূর্বপাড়ার বাইতুলফালা জামে মসজিদ। জাতীয় নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দিতে হবে এমন শর্ত জুড়ে দিয়ে মসজিদ সংস্কার করে দেবেন নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এমন আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয়দের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এমপি বনে গেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ কিন্তু যে কথা দিয়েছিলেন এলাকাবাসীকে সেই কথা রাখেননি তিনি। এ নিয়ে চারদিকে সমালোচনা শুরু হলে কয়েক মাস পর নিজস্ব নেতাকর্মীদের পাঠিয়ে দায়সারা কাজ করে দেন এই সংসদ সদস্য।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিছে যে আমার ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে কাজ করব। পরে শুনলাম যে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আসছে। কাজ করছে মাত্র সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ।’

ওই এলাকার এক তরুণ বলেন, ‘বাজেট আনছে কুমিল্লা-৪ আসনের আমাদের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। উনি আইনা যারে এই কন্টাক্টে দিছে উনি এই কাজটা করছে। কিন্তু যতটুকু কাজ করছে ততটুকু কাজ ঠিক হয় নাই।’

আবার কাজের মান নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এলাকাবাসী বলছে তরিঘরি করে কোনোমতে কাজ করে গেছেন হাসনাত আবদুল্লাহর লোকজন। কত টাকার কাজ হয়েছে—এমন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং এমপি নিজ পকেট থেকে দিয়েছেন এই অর্থ।

মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মিরণ বলেন, ‘তারা বলেছিল ব্যক্তিগতভাবে কাজটা যত টাকা খরচ লাগে এটা করে দেবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন—একটা ভোটের জন্য এলাকাবাসী দাবি রাখবে। হাসনাত ভাই ব্যক্তি হিসেবে কাজ করাই দেবে। 

তিনি বলেন, ‘১২ লাখ টাকার কাজ করছে। এটার খরচটা কতটুকু হতে পারে আমরা একটা কনট্রাক্টরের সাথে আলাপ করেছি, কনট্রাক্টর বলছেন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হতে পারে এটার।’

কিন্তু গণেশ উল্টে গেছে নদীতে। বাইতুলফালা জামে মসজিদ সংস্কারের জন্য ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ আসে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এই তথ্য মসজিদ কমিটি জানে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘এ বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।’

সিরাজুল ইসলাম মিরণ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের একটা মিটিংয়ে আমরা জানতে পারি, আমাদের বাইতুলফালাহ জামে মসজিদের নামে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার একটা বাজেট আসছে। উনারা ওই অতীতে বলছেন ব্যক্তি দিছে, অহন আমরা পরে  দেখি এটা সরকারিভাবে কাজটা আসছে।’ 

মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের ঘটনা শুনে অবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে নীতিকথা বলা হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজ এলাকায় লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করবেন এটি তারা কখনো ভাবেননি।’

মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা মিরণ বলেন, ‘হাসনাত ভাই উনি সবসময় নীতিতে থাকেন। উনি আমাদের সাথে ১২ লাখ টাকার বাজেটের প্রতারণা করছেন, এটা ভালো দেখা যায় নাই। এটা ভালো যুক্তিতে আসে নাই। এটা আমাদের সমাজবাসীর মনে খুব কষ্ট লেগেছে। যারা সরকারি বাজেট দেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে বিষয়টা যেন একটু দেখেন।’

এ বিষয়ে ই-টেন্ডার আবেদনকারী ব্যক্তি ইয়াহিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, টেন্ডার তিনি আবেদন করেছিলেন ঠিকই কিন্তু কত টাকা বরাদ্দ এসেছে সেটি তিনি জানেন না। 

ইয়াহিয়া বলেন, ‘কত টাকা বরাদ্দ এসেছে সেটা জেলা পরিষদের লোকেরা ভালো জানেন, আর যিনি কাজ করছেন উনি ভালো জানেন। আমাদের কাগজ দেখান নাই। এটার বরাদ্দ কত টাকা আসছে ওইটা পর্যন্ত আমাদের জানানো হয়নি। আমাদের নানা টালবাহানা দেখাইছে।’ 

পরে ঠিকাদার মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুল মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, কার্যাদেশ তিনি পেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সেই কাজ সাব-ঠিকাদার বিল্লাল হোসেনকে দিয়ে করিয়েছেন।
 
তিনি বলেন, ‘বিক্রি না, যাকে কাজ দিছি তিনি আমার পরিচিত আরকি। এটা জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার জানেন। এটার কোনো অনিয়ম হওয়ার কথা না। কারণ জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার দাঁড়ায়ে কাজ তদারকি করেন।’

বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি কাজটি হাত বদল করে দিয়েছেন রিয়াদ নামের আরেক ব্যক্তির কাছে, যিনি স্থানীয় এনসিপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

জানা যায়, বিল্লাল দেবিদ্বার ক্যাপ্টেন সুজাত আলী সরকারি কলেজের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি কাজ করি না, ছোট ভাই রিয়াদকে দিয়ে দিছি। আমি তিন-চার বছর দেবিদ্বারে কোনো কাজ করিনি। কিন্তু দুই-একজনকে কাজ নিয়ে দিছি।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা এক সময় ঠিকাদারি করতাম। ছোট ভাই রিয়াদ নতুন আরকি, এনসিপিতে সংযুক্ত আছে কিনা আমি সঠিক জানি না। ছেলেটা আবার ওই মেইন ঠিকাদার থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসছে এবং এটা ৫ শতাংশ না ১০ শতাংশ লেস আছে।’

কালের কণ্ঠের হাতে আসা নথিতে দেখা যায়, বিল্লাল রিয়াদের কথা বললেও এই কাজ বাস্তবায়ন করেছে এই ছাত্রলীগ নেতার ছোট ভাই ইকবাল হোসেন। 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরাদ্দ নিয়ে যদি কোনো নয়-ছয় করা হয় তাহলে সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, ‘কাছ থেকে যে অভিযোগটি এখানে আমি জানলাম, সেটি আমি নোটডাউন করেছি এবং আমি খোঁজ খবর নেব। খোঁজ খবর নিয়ে যদি সত্যি সত্যি এখানে কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকে আমার প্রশাসক মহোদয় আছেন উনার সাথে আলাপ করে যে আইনগত প্রক্রিয়া আছে বা ব্যবস্থা আছে আমি সেটা নেব।’

জুলাই শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বলন

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বলন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঐতিহাসিক সেই আন্দোলনের স্মৃতি ও শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ‘জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক বিশেষ মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে (১ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীরা হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে অবস্থান নেন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাণ দেওয়া সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ

বাংলাদেশে টার্কিশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) হলো অ্যারোমেট সার্ভিসের লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং অন্যতম কর্ণধার শাহরিয়ার নাসের জাহেদী সম্প্রতি জামায়াতে যোগদান করেছেন বলে ঝিনাইদহে জোর গুঞ্জন রয়েছে। যদিও শাহরিয়ার নাসের জাহেদী তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জামায়াতে যোগ দিন আর না দিন, দলটির সঙ্গে জাহেদীর ঘনিষ্ঠতার কথা সবাই জানেন। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তিনি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ’২৪-এর আমি-ডামি নির্বাচনে জাহেদী, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের আগে অবশ্য এই জাহেদী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় তিনি তার বন্ধু তৎকালীন সিজিএস জেনারেল (অব) সিনহা ইবনে জামালীর বদৌলতে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। সেই সময় তার হাতে বিএনপি নেতা মশিউর রহমানসহ বহু নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। জাহেদী শুধু অ্যারোমেটের কর্ণধার নন, দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ কোম্পানি রেডিয়েনটের কর্ণধারও বটে। ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষ বলছে জাহেদী যেখানে ক্ষমতার গন্ধ পায় সেখানেই বাসা বাঁধে। তাদের শঙ্কা, তাহলে কি জামায়াত শিগগিরই ক্ষমতায় আসবে?

দেশের অন্যতম একটি শিল্পগোষ্ঠীর মালিকের জামায়াতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন, সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে বলে অনেকে মনে করেন। জামায়াত এখন নিজেদের গণ্ডির বাইরে গিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করছে। এই ঘটনা তার প্রমাণ।

তবে এই সাধারণ সূত্রের পেছনে রয়েছে আরও গভীর ষড়যন্ত্রের সূত্র। শাহরিয়ার নাসের জাহেদীর জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুরস্কের সঙ্গে একাত্তরের পরাজিত শক্তির সম্পর্কের একটি উদাহরণ। কেবল টার্কিশ এয়ারলাইনসের জিএসএ নয়, তুরস্ক থেকে আসা জাকাত ফান্ডসহ দেশটির সঙ্গে একাধিক ব্যবসায় জড়িত জাহেদী। জাহেদীর মতো তুরস্ক কেন্দ্রিক বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এখন জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়, গত ২৩ বছর ধরে তুরস্কের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামক একটি মৌলবাদী দল। ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় আরোহণ দলটির প্রধান নেতা রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের। তিনি ধীরে ধীরে তুরস্ককে উদার, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের চরিত্র থেকে ইসলামপছন্দ রাষ্ট্রের দিকে টেনে আনেন। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ পদেই দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল। তার নেতৃত্বে কট্টর মুসলিম জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে তুরস্কে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সিরিয়া, লিবিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে তুরস্কের কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিদ্রোহী বা ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আঙ্কারার যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসেবেই বাংলাদেশে জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের গোপন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়। এই সময়ে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে এবং তাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান শুরু করে। জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের সম্পর্ক প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৬ সালে। যখন দেশটি জামায়াতের নেতা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়ের নিন্দা জানায় এবং রায় কার্যকর না করার জন্য তৎকালীন সরকারকে চিঠি দেয়।

তুরস্কের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ-এর উপদেষ্টা ‘সেলচুক কোলাগলু’ ২০১৯ সালে মিডল-ইস্ট ইনস্টিটিউটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ ব্যাপারে লিখেছেন, দেশটির ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২০১১ সালে ইসলামভিত্তিক রাজনীতির মতাদর্শ গ্রহণ করেছিল। এরই অংশ হিসেবে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলটি মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে যেমন সমর্থন দিয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর প্রতিও তাদের সমর্থন ছিল বলে মনে করেন মি. কোলাগলু।

বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে তুরস্ক জামায়াতকে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। অ্যারোমেট এমনই একটি প্রতিষ্ঠান। এই সময় তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বৃদ্ধি করে। এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। বাংলাদেশ তুরস্কের কাছ থেকে পিঁয়াজ থেকে শুরু করে সেনা সরঞ্জাম পর্যন্ত কেনা শুরু করে। আওয়ামী লীগ আমলে তুরস্কের সঙ্গে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির সুফল পায় জামায়াত। এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের আড়ালে তুরস্ক জামায়াতেকে পুনরুজ্জীবিত করে। আজকের জামায়াত তুরস্কের ব্রেন চাইল্ড বলেও মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই এক দশকে (২০১৬-২০২৬) জামায়াত সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে। এর পেছনে প্রধান অর্থদাতা ছিল তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশিরা। তাদের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিআরএসের (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) নামে জামায়াত নিয়ন্ত্রণাধীন মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী একই মতাদর্শে বিশ্বাসী। এ কারণেই এককালের ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক জামায়াতের ঘনিষ্ঠ মিত্রতে পরিণত হয়েছে। ১৯২৮ সালে মিসরে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড) প্রতিষ্ঠা করেন হাসান আল বান্না ও সাইয়্যেদ কতুব। ইতিহাসবিদ ফিলিপ জেনকিন্সের মতে, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদীর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে মওদুদী জামায়াত প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪০ সালে। ১৯৭৯ সালে মওদুদীর মৃত্যুর পর ব্রাদারহুডই হয়ে ওঠে তার দর্শনে বিশ্বাসী ও মতাদর্শে পরিচালিত দলগুলোর ঐক্যের প্রতীক। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে মওদুদীর মতাদর্শে বিশ্বাসী দল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে এরা জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। কয়েকটি দেশে ক্ষমতার শরিক হলেও সুদানে ও তুরস্কে এককভাবে ক্ষমতায় আছে তারা। এসব দলের ওপর ব্রাদারহুডের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াতের প্রতি সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে তুরস্কের বর্তমান সরকার। জুনের প্রথম সপ্তাহে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরকালে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এর আগে গত মে মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের হুদা পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হুসাইন এমির এবং এনজিও বিভাগের প্রধান ফিকির কারাভিল।

জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের বহুমুখী সম্পর্ক এখন দৃশ্যমান। বহু ছাত্রশিবিরের সদস্য উচ্চশিক্ষার জন্য তুরস্কে যাচ্ছেন। তাদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বেশির ভাগ ফায়দা নিচ্ছে জামায়াত। তুরস্কে জামায়াতের কর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির আদলে জামায়াতকে আধুনিকীকরণের কাজটা করছে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বাইরে উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব দেখানো, পোশাকে আধুনিকতা, ইত্যাদি নানা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে তুরস্কের ক্ষমতাসীনরা। বাংলাদেশে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনার একটি নীলনকশা তৈরি করেছে। এখন যার বাস্তবায়ন চলছে।

কিন্তু বাংলাদেশে জামায়াতের প্রধান প্রতিপক্ষ তাদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক যেমন গভীর পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে তেমনি জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হবে। জামায়াত এখন উদারতার এবং আধুনিকতার যে রাজনীতির কথা বলছে তা আসলে একটি মুখোশ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় ছাত্রশক্তির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় ছাত্রশক্তির

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে দেশজুড়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের কবর জিয়ারত, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণে সংহতি সমাবেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের গান, কবিতা, পথনাটক ও মূকাভিনয়ের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং আলোকচিত্র ও ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী।

এ ছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গল্প, কবিতা, ছবি ও অ্যানিমেশন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠান, জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল, জুলাই কনফারেন্স, শহীদদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, গ্রাফিতি অঙ্কন এবং অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন কর্মসূচিও রয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস ও আপসহীন সংগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করাই জাতীয় ছাত্রশক্তির অঙ্গীকার।

জাতীয় ছাত্রশক্তি দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণকে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অভিযাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।