• ই-পেপার

‘অসভ্যের মতো ছবি-ভিডিও তোলেন কেন?’, চটেছেন অভিনেত্রী

স্পাইডারম্যানের জালে লিওনেল মেসি, ২০ সেকেন্ডের উপস্থিতিতেই নিলেন ১৮৫ কোটি!

বিনোদন ডেস্ক
স্পাইডারম্যানের জালে লিওনেল মেসি, ২০ সেকেন্ডের উপস্থিতিতেই নিলেন ১৮৫ কোটি!
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে এবার দেখা গেল মার্ভেলের জনপ্রিয় সুপারহিরো স্পাইডারম্যানের সঙ্গে একই ফ্রেমে। সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট প্রকাশিত একটি প্রচারণামূলক ভিডিও ঘিরে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মেসির সম্ভাব্য পারিশ্রমিক।

প্রায় ৪০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে শুরুতে দেখা যায়, পিটার পার্কার একটি কফিশপে বসে ফোনে কথা বলছেন। ঠিক তখনই হাতে একটি বিশেষ ট্র্যাকার নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন মেসি। কিছুক্ষণ পর পিটার নিজের পরিচয় বদলে স্পাইডারম্যানে রূপ নেন। ভিডিওর শেষ মুহূর্তে নিউইয়র্কের আকাশে স্পাইডারম্যানের জালে ভর করে উড়তে দেখা যায় মেসিকে, যা ভক্তদের জন্য ছিল বড় চমক।

ভিডিওটি প্রকাশের পরই হলিউডভিত্তিক কয়েকটি সূত্র দাবি করে, মাত্র ২০ সেকেন্ডের উপস্থিতির জন্য মেসি পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছেন ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা। তবে এই তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি সনি পিকচার্স কিংবা মেসির প্রতিনিধিরা। ফলে বিষয়টি আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি মার্ভেলের আসন্ন সিনেমা ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’–এর প্রচারণার অংশ। ছবিটি আগামী ৩১ জুলাই মুক্তির কথা রয়েছে।

ভিডিওতে মেসির হাতে থাকা ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ও দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মার্ভেল কমিকস অনুযায়ী, এটি পিটার পার্কারের তৈরি একটি বিশেষ ডিভাইস, যা প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল ভিলেন ডক্টর অক্টোপাসকে শনাক্ত করতে।

এ ছাড়া ট্র্যাকারের পর্দায় একাধিক লাল সংকেত দেখা যাওয়ায় অনেক ভক্তই মনে করছেন, এটি মার্ভেলের মাল্টিভার্সের নতুন কোনো ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

জানা গেছে, নতুন সিনেমার গল্প শুরু হবে ‘স্পাইডারম্যান: নো ওয়ে হোম’–এর ঘটনার পর থেকে। সেই কাহিনিতে পৃথিবীর সবাই ভুলে যায় যে, পিটার পার্কারই স্পাইডারম্যান। নতুন অধ্যায়ে তার সঙ্গে ‘পানিশার’ ও ‘হাল্ক’-এর মতো জনপ্রিয় চরিত্রদেরও দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

মেসির উপস্থিতিতে এই প্রচারণামূলক ভিডিও ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমী ও মার্ভেল ভক্ত—দুই পক্ষের মধ্যেই আলাদা উন্মাদনা তৈরি করেছে। তবে তার অভিনয় বা পারিশ্রমিক নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব তথ্যকে নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

চলে গেলেন মঞ্চনাট্যের কিংবদন্তি বিজয়া মেহতা

বিনোদন ডেস্ক
চলে গেলেন মঞ্চনাট্যের কিংবদন্তি বিজয়া মেহতা
সংগৃহীত ছবি

ভারতীয় মঞ্চনাট্যের প্রবাদপ্রতিম অভিনেত্রী, নাট্যপরিচালক ও আধুনিক মারাঠি থিয়েটারের অন্যতম পথিকৃৎ বিজয়া মেহতা আর নেই। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর ৩০ জুন মুম্বাইয়ের নেপিয়ান সি রোডের নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় নাট্যাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিল্পী, নাট্যব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই কিংবদন্তিকে।

ভারতীয় থিয়েটারের ইতিহাসে বিজয়া মেহতা ছিলেন এক অনন্য নাম। বিশেষ করে মারাঠি নাটকে আধুনিক চিন্তা, পরীক্ষাধর্মী উপস্থাপনা এবং সামাজিক বাস্তবতাকে নাট্যভাষায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। ‘ব্যারিস্টার’, ‘হামিদাবাইচি কোঠি’, ‘পুরুষ’ এবং ‘ওয়াদা চিরেবন্দি’র মতো নাটক তাঁর সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মুম্বাইয়ের এক মধ্যবিত্ত কায়স্থ পরিবারে জন্ম নেওয়া বিজয়া মেহতা মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। অভিনয়জীবনের শুরু হয় পার্সি থিয়েটারের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আদি মার্জবানের দলে। পরে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব ইব্রাহিম আলকাজির কাছে অভিনয় ও নির্দেশনার প্রশিক্ষণ নেন।

উইলিয়াম শেকসপিয়রের ‘ওথেলো’র মারাঠি রূপান্তরে ডেসডিমোনা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নাট্যকার বিজয় টেন্ডুলকার, অভিনেতা ড. শ্রীরাম লাগু, সুলভা দেশপান্ডে ও অরবিন্দ দেশপান্ডের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘রঙ্গায়ন’ নাট্যদল। এই দলটি মারাঠি থিয়েটারে আধুনিক নাট্যচর্চার নতুন ধারার সূচনা করে।

পরীক্ষাধর্মী নাটকের পাশাপাশি বাণিজ্যিক থিয়েটারেও সমান সফল ছিলেন বিজয়া মেহতা। জার্মান নাট্যকার বার্টোল্ট ব্রেখটের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য ককেশিয়ান চক সার্কেল’-এর মারাঠি রূপান্তর ‘আজব ন্যায় বার্তুলাচা’ পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসা পান। একই সঙ্গে মহেশ এলকুঞ্চওয়ার ও জয়বন্ত ডালভির মতো খ্যাতিমান নাট্যকারদের সৃষ্টিও নতুনভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন।

মঞ্চের বাইরে টেলিভিশনেও তাঁর সফল পদচারণা ছিল। আশির দশকে পরিচালিত চিকিৎসাবিষয়ক ধারাবাহিক ‘লাইফ লাইন’ দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালক পিটার ব্রুকের ‘মহাভারত’ প্রযোজনার সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস (এনসিপিএ) এবং ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার (এনএসডি) প্রশাসনিক দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন।

শুধু নির্মাতা বা অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, একজন অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক ও মেন্টর হিসেবেও বিজয়া মেহতার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর হাত ধরেই অভিনয়জগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন নানা পাটেকর, রীমা লাগু, অশোক সরাফ, বিক্রম গোখলে, নীনা কুলকার্নি, ভারতী আচরেকর ও বন্দনা গুপ্তের মতো অসংখ্য শিল্পী।

সংগীতশিল্পী মুগ্ধ এখন বিসিএস ক্যাডার

বিনোদন প্রতিবেদক
সংগীতশিল্পী মুগ্ধ এখন বিসিএস ক্যাডার
সংগৃহীত ছবি

সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত মুখ মির্জা তানজিম শরীফ মুগ্ধ এবার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখলেন। ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশ পাওয়া এই শিল্পী মেধাতালিকায় দেশের প্রথম ৫০ জনের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সুখবরটি শেয়ার করেন মুগ্ধ। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ৪৭তম বিসিএস। প্রশাসন ক্যাডার। মেধাক্রমে দেশের প্রথম ৫০-এ স্থান করে নিয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্তির সুসংবাদ জানাই সবাইকে।’

বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন মুগ্ধ। ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেও বিসিএসে এমন সাফল্য অর্জনের পেছনে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘শত দায়িত্বের চাপ, সহস্র সংশয়, দোটানা। তারপরও অজস্র প্রশ্নোত্তরের খোঁজে ৪৭, সমুদ্র পাড়ি দেওয়া বান্দার শ্রমের প্রতিদান যিনি দিয়েছেন, সেই মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া।’

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশার প্রতিও নিজের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় আমাকে যে আত্মতৃপ্তি দিয়েছে, বিসিএসের এই সাফল্যের আনন্দের মধ্যেও সেই অনুভূতির মূল্য কমে যায়নি।’

সংগীতাঙ্গনে মির্জা তানজিম শরীফ মুগ্ধের পরিচিতি অনেক দিনের। ২০১০ সালে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর সংগীতচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনেও সক্রিয় থেকেছেন। উপস্থিত বক্তৃতা, রচনা এবং চিত্রাঙ্কনেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই বহুমুখী প্রতিভাবান।

অন্ধ ছেলের চোখে আলো ফেরাতে অ্যাশেজের কনসার্ট

বিনোদন প্রতিবেদক
অন্ধ ছেলের চোখে আলো ফেরাতে অ্যাশেজের কনসার্ট
সংগৃহীত ছবি

শুধু গান নয়, মানবিক উদ্যোগেও নিয়মিত প্রশংসিত ব্যান্ড অ্যাশেজ। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কনসার্টের আয়ের একটি অংশ ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত অসহায় মানুষের চিকিৎসায় ব্যয় করে আসছে দলটি।

এবার সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যান্ডটির ভোকাল জুনায়েদ ইভান।

নিজের ফেসবুক পোস্টে ইভান জানান, শিশুটির চিকিৎসার জন্য নতুন একটি উদ্যোগ শুরু করতে যাচ্ছেন তারা।

তিনি লিখেছেন, ‘এবার একজন অন্ধ ছেলের জন্য কাজ করব। আমি গিয়েছি তার সাথে দেখা করতে। তাকে সুস্থ করতে চাই। গান লিখছি। কনসার্ট করব। প্রস্তুতি চলছে। সবার সহযোগিতা চাই।’

ইভান জানান, ছেলেটি একটি বস্তিতে বসবাস করে। কয়েক বছর আগে অসুস্থতার কারণে সে দৃষ্টিশক্তি হারায়। তার বাবা রিকশাচালক। ইতোমধ্যে ছেলেটির মা ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে ইভান বলেন, ‘ছেলেটি বস্তিতে থাকে। কয়েক বছর আগে অসুস্থতায় তার চোখের আলো নিভে যায়। ওর বাবা রিকশা চালান। ছেলেটি এবং তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে বলেছি। চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে জানতে বলেছি। এরপর আমাদের একজন প্রতিনিধি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলবেন এবং আমরা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

আগামী এক মাসের মধ্যেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে অ্যাশেজ। তবে শুরুতেই কনসার্ট নয়, অন্য উপায়ে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করবে দলটি।

ইভানের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই তার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। 

জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশও নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ইভানের পোস্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘ইভান ভাই, আমি আছি আপনার সাথে। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন থাকবে আপনার সাথে।’

পলাশের এই সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে ইভান বলেন, ‘পলাশ শুরু থেকেই তার ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমাদের মানবিক উদ্যোগগুলোর সঙ্গে থাকেন। আমরাও এরকম কাজে তার উদ্যোগের সঙ্গে থাকি।’