• ই-পেপার

বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীদের নিয়ে ১৫ সদস্যের বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটি

নতুন মামলায়ও খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন মামলায়ও খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
সংগৃহীত ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা হয়েছে। তবে আজকের মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনও বাধা নেই।

এর আগে এ মামলায় গত ২১ জুন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী-সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হন। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ-র‍্যাবসহ কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন খোয়াইব। তাকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় তার ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে একে একে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধে হাছান মাহমুদ ও নওফেলের বিচার শুরুর আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানবতাবিরোধী অপরাধে হাছান মাহমুদ ও নওফেলের বিচার শুরুর আদেশ
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর জন্য আগামী ৬ আগস্ট প্রসিকিউশনের ‘সূচনা বক্তব্য’ উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এই আদেশ দেন।

এই মামলায় ২২ আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার আছেন। মঙ্গলবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। এরপর উপস্থিত আসামিদের কাছে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, তাঁরা দোষ স্বীকার করেন কি না। উপস্থিত আসামিরা বলেন, তাঁরা নির্দোষ।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ফজলে করিম চৌধুরীকে অ্যাম্বুল্যান্সে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে স্ট্রেচারে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তোলা হয়। বিচারের কাজ চলার সময় এজলাসে স্ট্রেচারে শুয়ে ছিলেন তিনি।

মামলার ২২ আসামির বিরুদ্ধে ৬ জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার। আর তৃতীয় অভিযোগে শতাধিক মানুষকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিজানুর রহমান ও আবদুল কাইয়ুম। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম।

গত ২ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় তদন্ত সংস্থা। পরে ৫ এপ্রিল তা আমলে নিয়ে ৭ এপ্রিল পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

নতুন মামলায় বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন মামলায় বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। সেই সঙ্গে রুল জারি করে আদালত জানতে চান, কেন তাকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না।

হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সাত মামলায় জামিনপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এক রিটে প্রাথমিক শুনানির পর গত ১৭ মে রুলসহ এই আদেশ দেওয়া হয়।

হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত ১২ মে এই দুই মামলাতেও হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে আগের পাঁচ মামলার জামিনও বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ফলে খায়রুল হকের কারামুক্তির পথ খোলে। কিন্তু নতুন মামলায় ফের তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৪ মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হক। সেই রিটে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার ও হয়রানী না করার নির্দেশ এসেছিল উচ্চ আদালত থেকে। এরপর কারামুক্তির অপেক্ষার মধ্যে গত ২৩ মে খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এ বি এম খায়রুল হককে। এ মামলায় গত ২১ জুন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা। পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ মামলায় জামিন হওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।’

দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই খায়রুল হককে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ পান খায়রুল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আট দিন পর ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে একে এক আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সব মামলাতেই তিনি এখন জামিনপ্রাপ্ত।

ইনুর রায়ে অসন্তুষ্ট প্রসিকিউশন, ক্ষুব্ধ আসামিপক্ষ

আপিল করা হবে জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইনুর রায়ে অসন্তুষ্ট প্রসিকিউশন, ক্ষুব্ধ আসামিপক্ষ
হাসানুল হক ইনুকে আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ছবি : সংগৃহীত।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখকে হত্যাসহ অভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে উসকানি, ষড়যন্ত্র, আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও নিপীড়নমূলক কৌশলে সমর্থনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ৮টি অভিযোগের মধ্যে তাঁকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে বাকি ৫ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রায় ঘোষণার আগে ইনুকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। রায় ঘোষণা শেষ হলে তিনি হেসে ওঠেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। হাসানুল হক ইনুর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

৩০ বছর সাজা হলেও ইনুকে খাটতে হবে ১০ বছর : 

মামলার ৩ নম্বর অভিযোগের কথা উল্লেখ করে রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এই অভিযোগের সাক্ষী রাইসুল হকসহ অন্য ভুক্তভোগীদের গুরুত্বর আহত তথা নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ণ করার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) (ক) (জ), ৪(১) ৪(২), ২০(২) ও ২০(ক) ধারায় আসামি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো।’

এ ছাড়া ষড়যন্ত্র, সংঘটিত অপরাধে প্ররোচনা ও সহযোগিতার দায়ে ৬,৭ নম্বর অভিযোগে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছর করে মোট ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেওয়া কথা উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, ‘আসামির বিরুদ্ধে আরোপিত সকল সাজা যুগপৎভাবে (একসঙ্গে) চলবে।’ ফলে তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হলেও হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর সাজা খাটতে হবে।

এটা প্রহসনের বিচার : ইনু

রায় ঘোষণা শেষে ট্রাইব্যুনালের এজলাশ থেকে নামিয়ে সেলে নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের দেখে গলার স্বর চড়িয়ে কথা বলতে শোনা যায় জাসদ সভাপতিকে। তিনি বলছিলেন, ‘১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান সাজা দিয়েছিল, আজ তাঁর ছেলে সাজা দিল। প্রহসনের আদালতে তারেক জিয়ার ফরমায়েশি রায়। এটা প্রহসনের বিচার।’ এরপর তিনি এও বলেন, ‘যাক বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি হলো।’

যে তিন অভিযোগে সাজা

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই দুপুরে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে আন্দোলন দমন ও আন্দোলনকারীদের আটক, নির্যাতন ও হত্যার নির্দেশ দেন ইনু।

ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দেন। একই সভায় জামায়াত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে তিনি মূলত আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড-নির‌্যাতনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

আর দোষী সাব্যস্ত করা সপ্তম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট বিকালে আন্দোলনকারীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে কারফিউ জারির মাধ্যমে গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে অধস্তনদের নির্দেশনা দেওয়া।

এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই, আপিল করা হবে : চিফ প্রসিকিউটর

রায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। যে ৩টি অভিযোগে ১০ বছর করে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেই সাজা বাড়াতে এবং যেসব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে, সেই খালাসের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করবো।’  

নিকৃষ্টতম অবিচার-ইনুর স্ত্রী

রায়ের পর সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দণ্ডিত হাসানুল হক ইনুর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আফরোজা হক রীনা। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মনে করি আইনের নিকৃষ্টতম অপব্যবহার এবং নিকৃষ্টতম অবিচার। আমরা এই রায়কে প্রত্যাখান করি। এটি একটি ফরমায়েশি রায়। মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যে মতবাদ, সেই মতবাদের প্রতিফলনেএই রায়ের মধ্যদিয়ে ঘটেছে। এই মতবাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সাল থেকে আমাদের যুদ্ধ। আইনজীবী এবং দলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মামলা বৃত্তান্ত

গত বছর ২৫ মার্চ এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। সাড়ে পাঁচ মাস তদন্তের পর ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার‌্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ হিসেবে তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই দিনই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরে অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি শুরু হয়। গত বছর ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের পর ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। আসামির পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন দুইজন। গত ১৩ এপ্রিল থেকে বিচারের তৃতীয় ধাপ। এদিন থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। তা শেষ হয় গত ১৪ মে। এদিন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২২ জুন মামলাটি ফের ট্রাইব্যুালের কার‌্যতালিকায় তোলা হয়। সেদিন আদালত ৩০ জুন রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করে দেন। সে অনুযায়ী রায় ঘোষণা করলেন ট্রাইব্যুনাল। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ মামলার রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন।