• ই-পেপার

ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগানে গাঁজা চাষ, অভিযান চালিয়ে গাছ জব্দ

ফকিরহাটে ফুলকা পচা রোগে মরছে মাছ, চিন্তিত চাষিরা

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ফকিরহাটে ফুলকা পচা রোগে মরছে মাছ, চিন্তিত চাষিরা
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ঠিকরি পাড়া এলাকার মাছ চাষি বাবুি ফকিরের ঘেরে ফুলকা পচা রোগে মাছ মরে ভেসে উঠেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘের ও পুকুরে ব্রস্কিওমাইসিস ছত্রাকের আক্রমণে ফুলকা পচা রোগ দেখা দিয়েছে। এতে সাদা মাছের পাশাপাশি বাগদা ও গলদা চিংড়িও মারা যাচ্ছে। একের পর এক ঘেরে মাছের মড়কে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

কয়েকজন চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ করেই মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। উষ্ণ আবহাওয়া, বৃষ্টির ঘাটতি, পানির স্তর কমে যাওয়া এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে ফুলকা পচা রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছে চাষি ও মৎস্য বিভাগ।

ফকিরহাট উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি নিবন্ধিত ৮ হাজার ৪টি বাণিজ্যিক ঘের এবং ২ হাজার ৬০৮টি পুকুর রয়েছে। এছাড়া নিবন্ধনের বাইরে আরও কয়েক হাজার ঘের ও পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। চলতি বছরে ফকিরহাট উপজেলায় বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩১৫ মেট্রিক টন এবং সাদা মাছের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন। তবে বছরের শেষ দিকে ফুলকা পচা রোগের কারনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারাশিয়া এলাকার মাছ চাষি শেখ মনি বলেন, ‘সোমবার (২৯ জুন) পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু এক রাতের মধ্যে পানিতে অক্সিজেন কমে যাওয়ায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বাগদা ও গলদা চিংড়ি মারা গেছে।’

ঠিকরীপাড়া এলাকার মাছ চাষি বাবু ফকির বলেন, ‘এক রাতেই আমার প্রায় দুই লাখ টাকার সাদা মাছ মারা গেছে। মাছগুলোর ফুলকা ফ্যাকাসে সাদা হয়ে গেছে। মাছ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এ মাছ আর বিক্রি করা যাবে না। মরে সাদা মাছ পানির ওপরে ভেসে উঠেছে, আর চিংড়ি তলায় পড়ে আছে।’

উপজেলার আরো কয়েকজন চাষি জানান, তাদের অনেকের ঘেরেই মাছ মারা যাচ্ছে। অনেকে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন। এভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ফকিরহাট কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আদিত্য কুমার সরকার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্র ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধারা বদলে যাচ্ছে। এর প্রভাব জলাশয়ের পরিবেশের ওপর পড়ছে। উষ্ণতা বৃদ্ধি ও পানির গুণগত মানের অবনতির ফলে মাছের রোগবালাই বাড়ছে।’

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘অতিরিক্ত ঘনত্বে মাছ মজুদ, পুকুরে জৈব বর্জ্য জমে থাকা এবং পানির মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় এ রোগের প্রকোপ বাড়ে। এ সময় ঘেরে মাছের ঘনত্বও বেশি থাকে, আবার পানিও কমে যায়। ফলে ফুলকা পচা রোগ দ্রুত ছড়ায়।’

তিনি বলেন, ‘চাষিদের অতিরিক্ত খাবার না দিয়ে পরিমিত খাবার প্রয়োগ, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি আংশিক পরিবর্তন এবং প্রতি শতকে ২০০ গ্রাম হারে চুন প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।’

ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন, উদ্যোগ নেই পাউবোর

৫ দি‌নে ৭০ পরিবার বাস্তুহারা টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

রোকনুজ্জামান মানু, কুড়িগ্রাম
ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন, উদ্যোগ নেই পাউবোর

সত্তর বছর বয়সী মমেনা বেগমের জীবন অনেকটা ব্রহ্মপুত্রপারের ভূমির মতো। জন্মের পর থেকেই দেখছেন নদীর বুকে নতুন চর জাগতে, আবার কিছুদিন পর সেই চর স্রোতের তোড়ে নদীগর্ভে হারাতে। বহুদিন পর কোনো একদিন হয়তো ভেসে ওঠে হারানো চর।  

সাত দশকের জীবনে অন্তত ২৫ বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন মমেনা। একে একে হারিয়েছেন বসতভিটা, জমি-জিরাত ও গবাদি পশু। এমনকি ব্রহ্মপুত্রের উত্তাল স্রোত কেড়ে নিয়েছে তার কোলের সন্তানও। বিলীন হওয়া জমির মতো তার জীবনে বিপর্যয় এসেছে, আবার দাঁড়িয়েছেন সোজা হয়ে।  

তবে এখন অনেকটা ক্লান্ত এই নারী। একসময় গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরুতে সচ্ছল ছিল যে সংসার, আজ অভাব  সেখানে নিত্যসঙ্গী। স্বামী আব্দুল জব্বারকে (৮০) নিয়ে কোনোমতে দিন কাটলেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও থামেনি তাদের দুর্ভোগ। আবারও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কব‌লে প‌ড়ে‌ছে তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও।

কু‌ড়িগ্রা‌মের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকব‌লিত ‌চিলমারী ইউনিয়‌নের চর কড়াইবরিশাল এলাকার বিশারপাড়া আশ্রয়‌ণ প্রক‌ল্পে কথা হয় মমেনা বেগমের স‌ঙ্গে। তি‌নি ব‌লেন, ‘চোখ যত দূর যাইতো, তত দূর পর্যন্ত আম‌গোর জমি আছিল। ব্রহ্মপুত্র সব খায়া ফেলছে।’ তিনি বলেন, ‘আগে হামার স্বামীর কাম করতে হইতো না। এখন নিঃস্ব হইয়া গেছি। কোনোমতে খায়া না খায়া দিন কাটাই। এর মধ্যে আবার নদীভাঙা শুরু করছে। এখন চর ছাড়া যামো কই? এই চরেই হামার মরণ।’

এই গল্প মমেনা-জব্বার দম্পতির নয়। গত পাঁচ দিনে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চর কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া ‌ আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শাখাহা‌তি গ্রা‌মে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনে অন্তত ৭০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙ‌নের শিকার প‌রিবারগু‌লো এখন আশ্রয়হীন হ‌য়ে মান‌বেতর জীবন যাপন কর‌ছেন। ভাঙ‌নের ঝুঁকি‌তে র‌য়ে‌ছে আরো দুই শতাধিক পরিবার। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শ‌নিবার থে‌কে চিলমারী ইউনিয়‌নের চর শাখাহা‌তি ও কড়াইব‌রিশাল এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ন‌দের ভাঙ‌নে প্রায় ৩০০ মিটার হে‌রিং রাস্তা, ক‌য়েক‌টি বিদ‌্যু‌তের খুঁটি, গাছপালাসহ ক‌য়েক হেক্টর ফসলি জ‌মি নদীগ‌র্ভে বিলীন হ‌য়ে গে‌ছে।

ভাঙনকব‌লিত মানুষ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ পাশের চরে; আবার কেউ উঁচু জায়গায় খুঁটি গেড়ে নতুন করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোথাও স্থায়ী আশ্রয়ের নিশ্চয়তা নেই।

বিশারপাড়া আশ্রয়‌ণের ভাঙনকবলিত নজরুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ১৮ বার নদীভাঙনের শিকার হইছি। ভাঙতে ভাঙতে নদী সব শেষ ক‌রে দি‌ছে। ছয় মাসেই চারবার ভাঙ‌নের শিকার হইছি।

কড়াইব‌রিশাল এলাকার দিনমজুর ধলু মিয়ার স্ত্রী লাভলী বেগমের চোখে তখনো কান্না। তিনি বলেন, ‘শনিবার থেকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হইছে। ঘর সরানোর সময়ও পাওয়া যায়‌নি। রোববার আমার বাড়িতে ভাঙন শুরু হইছে। দূর থে‌কে আত্মীয় ভাত পাঠাইছে, সেই ভাত খাইয়া ঘর সরাইতেছি। থাকার জায়গা নাই, রান্না করার উপায় নেই। এখন এই ভাঙা ঘরবা‌ড়ি কোথায় নি‌য়ে যাব তার কো‌নো ঠিকানা নেই।’

শাখাহা‌তি এলাকার ভাঙ‌নের শিকার ফারুক মিয়া ব‌লেন, ‘পা‌শের এক‌টি চ‌রে এক বিঘা জ‌মি তিন লাখ টাকায় চু‌ক্তি ক‌রছি। যত‌ দিন নদী ভা‌ঙে নাই, তত‌ দিন থাক‌তে পারব। নদী ভাঙ‌লে আর টাকা ফেরত দে‌বে না।’ 

একইভাবে ভাঙনের শিকার সাইফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, ফাতেমা বেগমসহ ক‌য়েকজন জানান, বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে তারা আজ নিঃস্ব। প্রতিবার নতুন করে ঘর তুললেও কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর আবারো সবকিছু কেড়ে নেয় নদী। 

স্থানীয়রা জানায়, শুধু মানুষের ঘরবাড়িই নয়। ভাঙনের ঝুঁকি‌তে রয়েছে চর কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এক নম্বর চিলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর শাখাহাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

এদিকে, ব্রহ্মপুত্র তাণ্ডব চালা‌লেও পা‌নি উন্নয়নের কার্যকর  কোনো প‌দক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রেন ভাঙন কব‌লিত এলাকার বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম ব‌লেন, ব্রহ্মপুত্র ন‌দের ভাঙ‌নে এখন পর্যন্ত ৭০-৮০‌টি পরিবার ভাঙ‌নের শিকার হ‌য়েছে। ভাঙ‌নের ঝুঁকি‌তে র‌য়ে‌ছে অন্তত ২০০‌টি প‌রিবার। জেলা প্রশাসক, উপ‌জেলা প্রশাসন ও পা‌নি উন্নয়ন বোর্ডের স‌ঙ্গে যোগা‌যোগ রাখ‌ছি। তা‌দের‌কে বার বার বলা হচ্ছে ভাঙ‌নের শিকার পরিবা‌রের জন‌্য আশ্রয়ের ব‌্যবস্থা করতে। ভাঙ‌নের ঝুঁকি‌তে থাকা মানুষকে রক্ষায় কার্যকর পদ‌ক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হ‌চ্ছে।

কু‌ড়িগ্রাম পা‌নি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রা‌কিবুল ইসলাম ব‌লেন, কু‌ড়িগ্রা‌মে প্রায় ৪০‌টি জায়গায় ভাঙন শুরু হ‌য়ে‌ছে। ত‌বে চরাঞ্চলগু‌লোর জন‌্য আমা‌দের কো‌নো বরাদ্দ নেই। তবু সেখা‌নে দেড় হাজার জিও ব‌্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে এবং সেখা‌নে জিও ব‌্যাগ ডা‌ম্পিং করা হ‌চ্ছে। 

ত‌বে সেখা‌নে কো‌নো জিও ডা‌ম্পিং কর‌তে দেখা যায়‌নি। স‌রেজমি‌ন গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্ত‌ব্যের কো‌নো সত‌্যতা পাওয়া যায়নি।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান ব‌লেন, এখা‌নে প্রায় ৭০টি প‌রিবার ভাঙ‌নের শিকার হ‌য়ে‌ছে। আমরা তা‌দের‌কে শুক‌নো খাবার, জিআর চাল দিয়ে  সহায়তা ক‌রে‌ছি। ভাঙনকব‌লিত মানুষ তা‌দের ঘর ভে‌ঙে নি‌য়ে যেন অন‌্যত্র আশ্রয় নি‌তে প‌া‌রে, সে ব‌্যবস্থা কর‌‌ছি। এখা‌নে ২০০-এর বে‌শি প‌রিবার ভাঙ‌নের ঝুঁকি‌তে র‌য়ে‌ছে। আমরা সে ব‌্যাপা‌রে পদ‌ক্ষেপ নি‌চ্ছি।

নাতির দায়ের কোপে দাদি নিহত, আশঙ্কাজনক দাদা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
নাতির দায়ের কোপে দাদি নিহত, আশঙ্কাজনক দাদা
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার সাঘাটায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির দায়ের কোপে দাদি ফিরোজা বেগম (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে দাদা আব্দুল করিম ভেটু (৭০) আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাতি শাকিল আহমেদকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে বাড়ির পাশের একটি জমিতে পাট কাটার সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে শাকিল আহমেদের সঙ্গে দাদি ফিরোজা বেগমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল তার হাতে থাকা ধারালো পাট কাটার বেকি দিয়ে ফিরোজা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে আব্দুল করিমকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফিরোজা বেগমের হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গাল ও গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা দুজনকে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ফিরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। আহত আব্দুল করিম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও ভালো নয় বলে হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়রা আরো জানায়, শাকিল মাদকাসক্ত যুবক। এ কারণে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয় নিয়েই দাদা-দাদির সঙ্গে তার তর্ক শুরু হয়।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান ওসি।

আড়াই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
আড়াই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল
ছবি : কালের কণ্ঠ

মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ডাকা ধর্মঘটের কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ব্যানারে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, মালিকদের মধ্যে একটি বিরোধের জেরে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা হয়। এরপর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বন্ধন পরিবহনের এক পরিচালক জানান, কম্পানির একটি বাসের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে বন্ধন পরিবহনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও মহানগর বিএনপির নেতা মাহবুবউল্লাহ তপন মিশনপাড়া এলাকায় বাসটি আটকে দেন। এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে বন্ধন পরিবহনের বর্তমান পরিচালক শাহাদাত খান লিটন ও এমডি দেলোয়ার হোসেনের অনুসারীরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, যারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, তাদের অনেকেরই নিজস্ব বাস নেই। নিজেদের স্বার্থে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করা হয়েছে, এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্ধন পরিবহনের সাবেক এমডি মাহবুবউল্লাহ তপন এবং বর্তমান এমডি শাহাদাত খান লিটনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।