• ই-পেপার

বিয়ের ৪ দিন পরই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূর মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

লক্ষ্মীপুরে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিমু আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে দিকে সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের বাসু বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত শিমু (২৫) উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হাসন্দি গ্রামের খায়রুল ইসলামের মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের কালিবাজার এলাকার কাঠমিস্ত্রি শরীফ হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিমু স্বামীর বাড়ি এলাকা কালিবাজার থেকে অটোরিকশায় হাসন্দি গ্রামে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। অটোরিকশাটি বাসু বাজার এলাকায় পৌঁছলে একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা শিমু গুরুতর আহত হন। শিমুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীম আফজাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর এক নারীকে হাসপাতাল আনা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।

পাবনা

এক সময়ের খরস্রোতা বড়াল এখন সরু খাল

নদের দুই পারের বড় অংশ দখলে অনেক অংশ এখন ময়লা ভাগাড় দ্রুত খননের দাবি স্থানীয়দের

প্রবীর সাহা, পাবনা
এক সময়ের খরস্রোতা বড়াল এখন সরু খাল
পাবনা চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোথড় এলাকায় বড়াল নদে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

পাবনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা বড়াল নদ এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। দখল ও দূষণের কবলে পড়ে নদটি এর অস্তিত্ব হারানোর মুখে পড়েছে। দ্রুত খনন করে নদটিকে এর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি নদপারের মানুষের। 

সম্প্রতি সরেজমিনে বড়াল নদের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, এর দুই পাশের একটি বড় অংশ প্রভাবশালীদের দখলে। সেখানে গড়ে উঠেছে দোকানঘর ও বসতবাড়ি। যেটুকু টিকে আছে, তাও পানিশূন্য। সেখানে চাষ করা হয়েছে ধান। 

জেলার চাটমোহরে নদের অংশে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বড় অংশই এখন ময়লার ভাগাড়। পৌরসভার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোঁরা, বেসরকারি ক্লিনিক ও বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলা হয় শুকিয়ে যাওয়া বড়ালে। এখানেও নদের দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে পাকা স্থাপনা। শুকনো নদের বুকে জমেছে  কচুরিপানা, যা মশা উৎপাদনের কেন্দ্র। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর চারঘাটের পদ্মা নদীতে উৎপত্তি বড়াল নদের। ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদী মিশেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা নদীতে। গত শতাব্দির আশির দশকে চারঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদের  উৎসমুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে অস্তিত্ব হারাতে থাকে প্রমত্তা বড়াল। এরপর বাগাতিপাড়ার আটঘরি ও চাটমোহরের দহপাড়ায় আরো দুটি  স্লুইস গেট নির্মাণ করে পাউবো। এ ছাড়া বড়ালের চাটমোহর অংশে তিনটি ক্রসবাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ শুরু করে চাটমোহর উপজেলা পরিষদ।

২০০৮ সালে চাটমোহরে শুরু হয় বড়াল রক্ষা আন্দোলন। গঠিত হয় কমিটি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে চাটমোহরের তিনটি ক্রসবাঁধ ও দহপাড়া  স্লুইস গেট অপসারণ করে প্রশাসন। কিন্তু বড়াল খনন কিংবা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বড়ালের তলদেশে এখন বিভিন্ন ফসলের যেমন আবাদ হচ্ছে। আবার ময়লা-আবর্জনাসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বড়ালে। 

পরিবেশবাদীদের ভাষ্য, বড়ালের বর্তমান অবস্থার পেছনে রয়েছে সরকারি নদী শাসনের ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও মৃতপ্রায় বড়ালের বুক দখলের উৎসব। নদের পাড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা যা এক সময়ের খরস্রোতা বড়ালকে নিয়ে যাচ্ছে  মৃত্যুর দিকে।

বাপা পাবনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. তোসলিম হাসান সুমন বলেন, বড়াল নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে যত দ্রুত সম্ভব জলপ্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ও ভারসাম্য রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা স্থানীয় এনজিও টিএসপির পরিচালক সরকার মোহাম্মদ আলি বলেন, সিএস রেকর্ড অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ ও দ্রুত খনন করে নদকে এর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি  জানাচ্ছি।

বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন,  রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদের ওপর স্লুইসগেট ভেঙে বড় করে পরিবেশবান্ধব সেতু নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া এর ৪৬ কিলোমিটার ভাটিতে নাটোরের আটঘরিতে একটি  স্লুইস  গেট ভেঙে সেখানেও বড় সেতু নির্মাণ করতে হবে। আটঘরি থেকে বনপাড়া পর্যন্ত নদের ১৮ কিলোমিটার অংশ দখলমুক্ত করতে হবে। আইডাব্লিউএমের সুপারিশ অনুযায়ী রাজশাহীর চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ছোট ছোট সেতু ও কালভার্ট ভেঙে ফেলতে হবে এবং নদ দ্রুত পুনখনন করলে ৫০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হবে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, বড়াল নদ পুনখননের সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে। এর আলোকে দ্রুত নদ পুনখনন করা হবে।

সিলেট সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবির মাইকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেট সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবির মাইকিং
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সামান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার ও সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করতে বলা হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে পুশ ইন হতে পারে এমন তথ্য পেয়ে শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত একটার দিকে সিলেট ব্যাটালিয়ন বিজিবি-৪৮ তাদের দায়িত্বাধীন গোয়াইনঘাট সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। মাইকিংয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে ভারত থেকে পুশ ইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যেন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করেন এবং মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পা না দেন। সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক চলাচল দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করারও অনুরোধ জানানো হয়।

৪৮ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, ‘৪৮ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ির মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ পুশ ইন ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল
ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল করেছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে জেলা যুবদলের ব্যানারে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকা থেকে মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলিম হুমায়ুনের নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নেন লক্ষ্মীপুর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন জুলফু, সদর (পূর্ব) উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্যসচিব বেলাল কাজী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুবদল নেতা সোহেল আদনান, আব্দুল আজিজ মিশু, সদর (পশ্চিম) যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেকসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী যুবদল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুবদল সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছে। তাদের নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।