• ই-পেপার

রক্ষণাত্মক ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে সতর্ক টুখেল

শুধু ব্রাজিল নয়, আর্জেন্টিনাও কখনো নরওয়ের বিপক্ষে জিততে পারেনি

ক্রীড়া ডেস্ক
শুধু ব্রাজিল নয়, আর্জেন্টিনাও কখনো নরওয়ের বিপক্ষে জিততে পারেনি

আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেছে হালান্ড-ওডেগার্ডদের নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়েজীয়রা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ব্রাজিলকে। 

ব্যস! এই সূচি নিশ্চিত হতেই নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড ঘাঁটতে শুরু করেছেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। আর তা দেখে ব্রাজিল ভক্তদের হতাশই হতে হয়েছে। 

নিজেদের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাসে নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে ব্রাজিল কখনো জিততে পারেনি। এখন পর্যন্ত চারবারের মুখোমুখিতে নরওয়ের জয় ২টি, অন্য ২ ম্যাচ ড্র হয়েছে। 

ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের দুই জয়ের একটি আবার বিশ্বকাপে! ১৯৯৮ আসরের গ্রুপ পর্বে দুঙ্গা-রোনালদো-বেবেতোর ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।

এই তথ্য জানার পর আর্জেন্টিনার সমর্থকরা যদি খুশি হয়ে থাকেন, তাহলে এখনই থেমে যান। কারণ ইতিহাস বলছে, ব্রাজিলের মতো আর্জেন্টিনাও কখনো নরওয়ের বিপক্ষে জিততে পারেনি। 

ব্রাজিল তবু নরওয়ের বিপক্ষে ২ ম্যাচ ড্র করেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা দুইবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে দুটিতেই হেরেছে। একটি ১৯৮৬ সালে ডিয়োগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে, আরেকটি ২০০৭ সালে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে। 

নরওয়ে ছাড়াও আরো ৫টি দলকে আর্জেন্টিনা কখনো হারাতে পারেনি—বেলারুশ, ক্যামেরুন, চীন, ডেনমার্ক ও লিথুয়ানিয়া।

আগামী রবিবার (৫ জুলাই) রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। নিজেদের ম্যাচগুলোতে জয় পেলে সেমিফাইনালে নরওয়ের সামনে পড়বে আর্জেন্টিনা। 

অসলো থেকে ডালাস ‘ভাইকিং রো’তে বিজয়োল্লাস নরওয়েজিয়ানদের

ক্রীড়া ডেস্ক
অসলো থেকে ডালাস ‘ভাইকিং রো’তে বিজয়োল্লাস নরওয়েজিয়ানদের
ছবি : ইপিএ

দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরেই নকআউট পর্বে পা রাখে নরওয়ে। এতে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত নরওয়েজিয়ান ফুটবল সমর্থকরা। এই উচ্ছ্বাস দ্বিগুণ হলো আইভরি কোস্টকে রাউন্ড থার্টি টু থেকে বিদায় করে রাউন্ড সিক্সটিনে জায়গা করে নেয় হালান্ড বাহিনী। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে তাদের সমর্থকদের আনন্দ উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

নরওয়ের ওসলোর উল্লেভাল স্টেডিয়ামের পর ডালাস স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হওয়া হাজারো নরওয়েজিয়ান ফ্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া জয় উদযাপনে মেতে ওঠেন।

নরওয়েজিয়ান সমর্থকরা আইভরি কোস্ট বিপক্ষে তাদের দলের ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল এই নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে।

জানা গেছে, আনন্দ উদযাপনের সময় সমর্থকরা এতটাই উচ্ছৃঙ্খল হয়ে যায় ওসলোর রাজপ্রসাদের সামনের গাছ উপড়ে ফেলে। সেই সঙ্গে বেড়ার খুঁটিও ভেঙে ফেলেছে। ব্যাপক হইহুল্লোড়ে শহরে কিছু ক্ষতিসাধন হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাশন।

এ সময় রাজকীয় মালী ওলে ইয়োহান হিলড্রে নরওয়ের সংবাদসংস্থা এনআরকেকে বলেন, ‘আমরা যদি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাই তাহলে কী হবে তা ভাবতেও সাহস হচ্ছে না।’ 

অন্যদিকে পরিবহন সংস্থা স্পোরভেইয়েনের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক জিনা শোলজ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি একটি চমৎকার সন্ধ্যা ছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনক সমর্থকরা জয় উদয়াপনে এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়ে, আমাদের সরঞ্জামের ওপর এর প্রভাব ফেলে।’

খেলা শেষে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে নরওয়ের খেলোয়াড়রা মাঠের মধ্যে বসে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’তে জয় উদযাপন করেন। গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার সমর্থকও খেলোয়াড়দের সাথে তাল মিলিয়ে বসা অবস্থাতেই একসঙ্গে দাঁড় টানার ভঙ্গি অনুকরণ করেন।

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা—স্বাধীন বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দিয়েছে কোন দেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা—স্বাধীন বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দিয়েছে কোন দেশ

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা শুধু দুটি দেশের নাম নয়, আবেগেরও প্রতীক। বিশ্বকাপ এলেই এই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা, তর্ক-বিতর্ক ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। 

তবে ফুটবলের বাইরেও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। কারণ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার তালিকায় ওপরের দিকে আছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশ। 

প্রায় ৯ মাস মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। বিজয় অর্জনের ১০ দিন আগেই (৬ ডিসেম্বর) প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান। এর কয়েক ঘণ্টা পর ভারতও স্বীকৃতি দেয়। এর পর থেকে যতগুলো দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে, সবই বিজয় অর্জনের পর। 

ইতিহাস বলছে, ১৯৭২ সালের ১৫ মে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। দেশটির রাজধানী ব্রাসিলিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে এই তারিখের উল্লেখ আছে। 

বাংলাদেশ-ব্রাজিলের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনাও হয়েছে ১৯৭২ সালে। ২০২২ সালে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করে। 

আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিলের ঠিক দশ দিন পর; ১৯৭২ সালের ২৫ মে। ওই দিন থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়। 

আর্জেন্টিনার সরকারি ডিক্রিতে স্পষ্ট বলা আছে, বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের যৌথ ঘোষণাপত্র ২৫ মে ১৯৭২ তারিখে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় স্বাক্ষরিত হয়। নথিতে স্প্যানিশ ভাষায় এভাবে লেখা আছে, ‘el Comunicado Conjunto sobre el Establecimiento de Relaciones Diplomáticas entre la República Argentina y la República Popular de Bangladesh, suscripto en Djakarta el 25 de mayo de 1972.’

সেই সময় বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালু করা হলেও ১৯৭৮ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২২ বিশ্বকাপ চলাকালীন মেসি-দি মারিয়া-মার্তিনেজদের নিয়ে বাংলাদেশিদের উন্মাদনা ও তাদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে আবারো দূতাবাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয় আর্জেন্টিনা সরকার। অবশেষে ৪৫ বছর পর ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আবারো আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালু করা হয়। 

ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের এক ধরনের আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের গোলকিপার আলিসন বেকার, মিডফিল্ডার কাসেমিরো, ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনিয়া কিংবা আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সম্প্রতি বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও দৃঢ় হতে চলেছে। তবে ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। একইভাবে আমদানির ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিলের অবস্থান এগিয়ে। দুই দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বাংলাদেশ সফরের আগ্রহের কথা জানান।

অন্যদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসাকে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ করতে ও দলের জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে, যা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করেছে।

মেক্সিকোর জয় উদযাপন করতে গিয়ে হুড়াহুড়িতে ২ সমর্থকের মৃত্যু

ক্রীড়া ডেস্ক
মেক্সিকোর জয় উদযাপন করতে গিয়ে হুড়াহুড়িতে ২ সমর্থকের মৃত্যু

বিশ্বকাপের রাউন্ড থার্টি টুর নকআউট পর্বের ম্যাচ জয়ের পর উল্লাসে মাতে লাখো মেক্সিকান সমর্থকরা। মেক্সিকো সিটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উদযাপনের সময় চাপে পড়ে অন্তত দুজন প্রাণ হারায়। প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

শহরটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১৯ বছর বয়সী এক নারী ও ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ মারা গেছেন। সেই একজন মুমূর্ষ অবস্থায় হামপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় এক ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেন্ডেন্স এবং পাসিও দে লা রিফরমা এলাকার গলিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে পিষ্ট হয়ে এবং হুড়াহুড়িতে অক্সিজেনের অভাবে দম বন্ধ হয়ে প্রাণ হারান এই সমর্থকরা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খেলা শেষে উদযাপনের জন্য ফোটানো আতশবাজির কারণে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষজন হুড়াহুড়ি করে পালাতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। 

১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইকুয়েডরকে হারিয়ে সহ-আয়োজকদের শেষ ষোলোতে পৌঁছে দেওয়ায় মেক্সিকো এই উদযাপন শুরু হয়। 

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটির রাস্তায়, প্রধানত ‘অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেন্ডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল।