• ই-পেপার

সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক। 

আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে এ যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে প্রতি বছর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাক্ষাতের সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

সাইবার ঝুঁকি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় বিপদ : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইবার ঝুঁকি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় বিপদ : তথ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি

তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই যুগে মানুষ যেমন আশীর্বাদপুষ্ট হচ্ছে, তেমনি সাইবার ঝুঁকি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় বিপদ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া খবর এখন বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য অন্যতম প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনাসভায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে ভুয়া খবর মোকাবেলা : নীতি, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম (এনআইসিটিএফ)।

অনুষ্ঠানে সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলা এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের আইসিটি বিশেষজ্ঞদের দ্রুত একটি কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া জমা দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সমস্যার ভয়াবহতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এখন সমাধানের সময়। সরকার মেধা ও প্রযুক্তিভিত্তিক সঠিক নীতিমালা প্রণয়নে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক নেতৃবৃন্দ মানুষের কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেমের জটিলতাগুলো নিখুঁতভাবে বুঝতে বিশেষজ্ঞদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এই মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকার যে কোনো সময়ের চেয়ে বিশেষজ্ঞদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বেশি সম্পৃক্ত করছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মূলধারার গণমাধ্যমগুলো অনেক শ্রম দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে, অথচ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো তা বিনা পয়সায় ব্যবহার করে আয় করছে। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন আইন করে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের রয়্যালটি দিতে বাধ্য করছে। বাংলাদেশেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনা গুরুত্বপূর্ণ।’

জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও এ্যাব-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন। সভায় দেশের আইসিটি খাত ও গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের শতকরা ৬৫ শতাংশ সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এর আগে তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির রুটিন সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিইআরসি একটি আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান (জুডিশিয়াল অথরিটি)। তারা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে তাদের রুটিন কাজ হিসেবে এই মূল্য সমন্বয় করেছে। তবে সরকারের সংকল্প ছিল প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। ফলে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিত্তবান গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়লেও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই বৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ও তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিত, পরিমাণ ও ধরন তুলে ধরেন। এ সময় সেখানে তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ২০ বছর ধরে যদি আমাদের দেশের মাটির নিচে আবিষ্কৃত ও চিহ্নিত নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ উত্তোলনের সঠিক নীতিমালা থাকত, তাহলে এখন আমাদের এতটা আমদানিনির্ভর হতে হতো না।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশসহ সব আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার দেশগুলো বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’ পূর্ববর্তী ভুল নীতিমালার কারণেই এখন বৈশ্বিক সংকটে দেশকে এতটা আঘাতপ্রাপ্ত ও সংকুচিত হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন আমদানিকারক দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের বৈশ্বিক মানদণ্ড ও বাধ্যবাধকতা মেনেই মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের চক্র তৈরি করা হয়েছে, তা আপনাদের সামনেই ঘটেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অপরাধ ও দুর্নীতির গভীর চক্র থেকে পুরো খাতকে বের করে এনে সুস্থ ধারায় ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে।’ তবে বর্তমান সরকারের সংকল্প অত্যন্ত পরিষ্কার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার একদিকে যেমন জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তেমনি বর্তমানের তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে এখনো ৪১ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের খেলাপি ঋণ, মানি লন্ডারিং বা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির (ইনফরমাল ইকোনমি) বিশাল আকারের দিকে তাকালে এই ৪১ হাজার কোটি টাকা কিছুই না। যারা এই অপরাধগুলো করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মালিক হয়েছেন এবং বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন, মূলত তাদের সেই অপরাধের বোঝাই আজকের এই সংকটময় ব্যবস্থাপনাকে বহন করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়নে সংকট, উপকূলের ৮২ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়নে সংকট, উপকূলের ৮২ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
ছবি : কালের কণ্ঠ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তাপপ্রবাহ, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ, পানিবাহিত সংক্রমণ, অপুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও সেই তুলনায় স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি ও অর্থায়ন পর্যাপ্ত নয়। উল্টো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের অংশ আরও কমেছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), এইচইকেএস/ইপিইআর এবং সুশীলন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন: নীতিগত অঙ্গীকার ও আর্থিক বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, দেশের জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬০ শতাংশেরই বেশি পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ২০২১-২২ অর্থবছরের ২.৭৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় জলবায়ু বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অংশ প্রায় ২.৫ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৫ শতাংশে।

  • উপকূলীয় নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে
  • নিরাপদ পানির সংকটে ৮২.৫ শতাংশ নারী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন
  • জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে বাজেট কমে ১.৯৭ শতাংশে নেমেছে
  • অর্থায়নের ৬০ শতাংশের বেশি এখনো প্রকল্পনির্ভর
  • জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে বাজেট কমছে, অর্থায়নের ৬০ শতাংশের বেশি প্রকল্পনির্ভর; বাড়তি বিনিয়োগের দাবি বিশেষজ্ঞদের

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের প্রকল্পনির্ভর অর্থায়নের ফলে রোগ নজরদারি, জরুরি প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু-স্বাস্থ্য গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সহনশীলতা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো প্রয়োজনীয় তহবিল পাচ্ছে না।

গবেষণায় আরও বলা হয়, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩-২০৫০ এবং স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এইচএনএপি) স্বাস্থ্য খাতকে অভিযোজনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি। এইচএনএপি-এর হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

অনুষ্ঠানে সিপিআরডি পরিচালিত ‘উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক অপর এক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ পানির তীব্র সংকট এবং দারিদ্র্যের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের প্রায় অর্ধেকই অনিয়মিত মাসিক, তীব্র ব্যথা, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গর্ভপাত, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, সংক্রমণ, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো জটিলতার বিষয়ও উঠে এসেছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮২.৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক নারীর মধ্যে পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি)-এর লক্ষণ এবং গাইনোকোলজিক্যাল সংক্রমণের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

সংলাপে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন এখনো একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন আকর্ষণ করতে হলে শক্তিশালী পরিমাণগত তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।’ ‘জলবায়ু-স্বাস্থ্য আলোচনাকে শুধু নিরাপদ পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মোট জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে যায়। এটি প্রমাণ করে যে জলবায়ু-স্বাস্থ্য কেবল বাংলাদেশেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও অবহেলিত। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি শক্তিশালী অর্থায়ন প্রস্তাব তৈরি এবং তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী বলেন, ‘বৈশ্বিক সরকারি অভিযোজন অর্থায়ন এক বছরে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জলবায়ু বাজেট ট্যাগিং ব্যবস্থায় আরও সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও খাতভিত্তিক মালিকানা প্রয়োজন।’ ‘তিনি জলবায়ু-স্বাস্থ্য বাজেটিং প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ অনুবিভাগ প্রধান এ কে এম সোহেল আহমেদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোপুরি মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যার ফলে উদ্যোগগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।’ ‘তিনি উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জলবায়ু গবেষণা সম্প্রসারণ এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা জরুরি, তবেই বৈশ্বিক তহবিল থেকে অর্থ আনা সম্ভব হবে।’

সংলাপ শেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারসমূহকে আরও শক্তিশালীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু বাজেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা উন্নত করা, রোগ নজরদারি ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের জন্য পুনরাবৃত্ত অর্থায়ন বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যখাত-নেতৃত্বাধীন অভিযোজন উদ্যোগসমূহের জন্য দেশীয় জলবায়ু অর্থায়নে অধিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।