• ই-পেপার

মির্জাপুরে আওয়ামী লীগ নেতা লাল মিয়া গ্রেপ্তার

শেষ রক্ষা হলো না, ঢাকায় গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার মামলার আসামি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
শেষ রক্ষা হলো না, ঢাকায় গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার মামলার আসামি
প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩টি প্রতারণা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলার আসামি শিমুল হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। শিমুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আজাইপুর মাঝপাড়া মহল্লার সাজিমুল হকের ছেলে। সন্ধ্যায় তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানান, শিমুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযাগে ৩টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী ও পুরুষের আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে শিমুলের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪টি মামলার তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। 

ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ৪ বছর পর তিসার উপবৃত্তির টাকা ফেরত দিলেন প্রধান শিক্ষক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ৪ বছর পর তিসার উপবৃত্তির টাকা ফেরত দিলেন প্রধান শিক্ষক
প্রতীকী ছবি

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু তিসা মনির উপবৃত্তির টাকা গত প্রায় চার বছর ধরে নিয়মিত যাচ্ছিল পাশের বাড়ির খায়রুন্নাহার নামে এক নারীর মোবাইলে। এ নিয়ে তিসার বাবা প্রধান শিক্ষকের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পায়নি। এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে তিন বছরের টাকা আদায় করে শিশু তিসা মনির বাবার হাতে তুলে দেন। 

বুধবার (১ জুলাই) এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ১২৫ নং পূর্ব জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।

জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তিসা মনির উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজের পছন্দের একজনের নম্বরে স্থানান্তর করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মো. উজ্জ্বল মিয়া দীর্ঘদিন মেয়ের উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখানে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীর নিবন্ধিত নম্বরের পরিবর্তে অন্য একটি মোবাইল নম্বর (০১৭২৪-২১০৭৫৮) ব্যবহার করে বিগত ৪ বছর ধরে উপবৃত্তির টাকা তুলে নিচ্ছিলেন। টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শিক্ষার্থীর বাবা গত ২৬ জুন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত তদন্তে নামেন এবং উক্ত বিদ্যালয়ে সশরীরে পরিদর্শনে যান। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন তার অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিগত তিন বছরের বকেয়া বাবদ মোট ৫ হাজার ৪০০ টাকা ফেরত দেন। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন প্রধান শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থায়ী বিভাগীয় ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয়ে যান। পরে তদন্তের এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি ভুল হয়েছে বলে মীমাংসা করার অনুরোধ করেন।

মোমবাতির আলোয় গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করল ছাত্রদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
মোমবাতির আলোয় গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করল ছাত্রদল
ছবি: কালের কণ্ঠ

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে বুধবার (১ জুলাই) রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে একাত্ম প্রকাশ করে এনসিপি ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী, এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ আজিজি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন হৃদয় প্রমুখ।

কু‌ড়িগ্রা‌মে বন্যায় ফসলের ক্ষতির শঙ্কা, যা বল‌ছে কৃ‌ষি বিভাগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কু‌ড়িগ্রা‌মে বন্যায় ফসলের ক্ষতির শঙ্কা, যা বল‌ছে কৃ‌ষি বিভাগ

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টির ফ‌লে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বে‌ড়ে স্বল্পমেয়াদি বন‌্যা প‌রি‌স্থি‌তি সৃষ্টি হ‌য়ে‌ছে। ত‌বে পা‌নি ধী‌রে ধ‌ী‌রে কমতে শুরু কর‌লেও জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেতে পানি প্রবেশ করে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, কয়েকদিন পানি জমে থাকলে গাছের শিকড়ে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পাতা হলুদ হয় এবং রোগবালাই বাড়ে। দীর্ঘসময় জলাবদ্ধতায় সবজি ও আমনের বীজতলায় ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়মিত অনুসরণ করলে ক্ষতি কমানো সম্ভব। পানি নেমে গেলে দ্রুত পুনর্বাসনমূলক কৃষি কার্যক্রম শুরু করা জরুরি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিপক্ব সবজি সংগ্রহ করতে হবে। জমিতে পানি জমলে নালা কেটে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে। জ‌মির আইল উঁচু রাখতে হবে এবং আমনের বীজতলায় অতিরিক্ত পানি যেন না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। পানি নেমে গেলে চারা গাছের কাদা পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে স্বল্পমেয়াদি ও পানি সহনশীল ফসল চাষের প্রস্তুতি নিতে হবে। সেই স‌ঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।

জানা গেছে, টানা বৃ‌ষ্টি আর উজা‌নের ঢ‌লে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রামে ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমনের বীজতলা ৭১ হেক্টর, আউশ ধান ১৫০ হেক্টর, পাট ১৬৬ হেক্টর, শাক-সবজি ৮৭ হেক্টর, চীনা ৩ হেক্টর, মরিচ ২ হেক্টর এবং চিনাবাদাম ২০ হেক্টর রয়েছে। তবে প্রায় ৩২ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমির ফসল এখনো রক্ষা পেয়েছে।

কু‌ড়িগ্রাম সদর উপ‌জেলার হলোখানা ইউনিয়নের শোভারকুটি গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, বৃষ্টি ও ধরলা নদীর পানিতে ১৫ শতক পটল ক্ষেত ডুবে গেছে। পানি দ্রুত না নামলে পুরো ক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, এক একর জমির কচু ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকদিন পানি থাকলে ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাবে।

শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, পানিতে পটল ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় গাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চিলমারীর চর শাখাহাতির কৃষক আফজাল আলী জানান, পাট এখনও পরিপক্ব হয়নি, কিন্তু পানি ওঠায় আগেভাগেই কাটতে হচ্ছে। না হলে গাছের গায়ে শিকড় গজিয়ে পাটের মান নষ্ট হবে।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, তিস্তার পা‌নি গ‌তি‌বি‌ধি বোঝা মুশকিল। এখ‌নি পা‌নি বা‌ড়ে এখ‌নি। বৃ‌ষ্টি আর উজা‌নের ঢ‌লে বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে বাদাম তুলে নিয়েছি। নয়‌তো বন‌্যার পা‌নি‌তে বাদাম নষ্ট হ‌য়ে লোকসান হ‌তো।

সং‌শ্লিষ্ট‌দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তোলা এখন জরুরি। আগাম সতর্কতা, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঠিক ব্যবহার এবং সময়োপযোগী কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্রের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হচ্ছে। ফ‌লে যখন যেটা হওয়ার কথা তখন সেটা হচ্ছে না। বৃষ্টিপাতের সময় ও পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যা সরাসরি কৃষিতে প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের মে মাসে কুড়িগ্রামে ৭৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ। গত বছরও অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও ফসল ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তাই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে কৃষিকাজ পরিচালনা ও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।