মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় চালু হতে যাচ্ছে আধুনিক পৌর শিশু পার্ক। প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়না কাটা নদীর তীরে নির্মিত এ পার্কের ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বিনোদনের জন্য আগামী মাসেই পার্কটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শিবচর পৌরসভার বড় দোয়ালী এলাকায় ময়না কাটা নদীর তীরে প্রায় ৫ একর জমির ওপর পার্কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ধাপে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে আরো ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ যুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা। চলতি জুন মাসেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগসহ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে।
শিশু-কিশোর ও পরিবারের সদস্যদের বিনোদনের জন্য পার্কে রাখা হয়েছে নাগরদোলা, জাম্পিং ক্যাঙ্গারু, বাম্পার কার, হ্যাপি সুইং, বিশাল যান্ত্রিক দোলনা, লাইন ডি মুভি রাইডসহ মোট ১৪টি আধুনিক রাইড। রাজধানীর বিজয়নগরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ অ্যান্ড সন্স নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।
এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও পার্কটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সানজিদা আক্তার লামিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রত্যন্ত একটি এলাকায় এত বড় ও আধুনিক পার্ক নির্মাণ হবে, তা কখনো ভাবিনি। বাইরে থেকেই পার্কটির সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছে। উদ্বোধন হলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসার ইচ্ছা রয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত পার্কটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।
স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী জুনায়েত বলেন, ‘বিকেল হলেই বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বের হই। কিন্তু শিবচরে ভালো কোনো বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় তেমন আনন্দ করা যায় না। নতুন এই পার্কটি চালু হলে বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত এখানে আসব। বিভিন্ন রাইডে চড়ব, ঘুরে বেড়াব এবং সুন্দর সময় কাটাতে পারব।’
শিবচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের খান বলেন, ‘শিবচরে বিনোদনের তেমন কোনো স্থান নেই। এই পৌর শিশু পার্ক চালু হলে উপজেলাবাসীর বিনোদনের খোরাক হবে। তাই এটি দ্রুত চালুর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রতিটি রাইডের ফি যেন সাধারণের নাগালের মধ্যে থাকে, সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
শিবচর পৌরসভার প্রশাসক শাইখা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন দিনরাত সমানতালে কাজ করছেন। জুনের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। এরপর দ্রুত পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘এখন শেষ মুহূর্তের কার্যক্রম চলছে। শুধু বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া বাকি। আর জুলাইয়ে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’







