• ই-পেপার

গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জিতলেন বার্নহাম, চ্যালেঞ্জের মুখে কিয়ার স্টারমার

ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : মার্কিন মেরিন কর্পস

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করতে দুই দেশ চুক্তি স্বাক্ষর করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে কিছু মার্কিন জাহাজ ওই এলাকায় থাকবে।

এর কিছুক্ষণ পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানান, ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা করবেন, এ আশ্বাস দেওয়ার পর তিনি চুক্তিটি অনুমোদন দেন।

খামেনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হতাশা থেকে চুক্তি করতে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন। তিনি আরো জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা হলেও তা শত্রুপক্ষের শর্ত মেনে নেওয়া বোঝাবে না। চুক্তি নিয়ে এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া। 

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর মার্চে তিনি দায়িত্ব নেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা গেছে। ওই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত করে।

এদিকে ট্রাম্প সরাসরি খামেনির বক্তব্যের জবাব না দিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তিনি আশা করেন ইসরায়েল ও লেবাননে হিজবুল্লাহর মধ্যকার আলোচনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আলোচনার অগ্রগতি বজায় রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি ১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, এমন শর্ত। এ ছাড়া দেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার (২২৭ বিলিয়ন পাউন্ড) তহবিলের প্রতিশ্রুতি, যদিও এই অর্থ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, দুই পক্ষকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়। 

এদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, চুক্তিটি আগেই দূর থেকে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে এখন আরো আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন না। তবে ভ্যান্স আগে বলেছিলেন, চুক্তি কার্যকর হয়েছে এবং ৬০ দিনের আলোচনার নতুন সময়কাল শুরু হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার মুখে পড়েছে। এমনকি রিপাবলিকান দলের ভেতরেও অনেকেই চুক্তির শর্ত, বিশেষ করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন তহবিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি বলেন, এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল। তিনি আরো বলেন, ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং তারা শিখেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে হুমকি দিলে তা কাজে লাগে।

অন্যদিকে উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তির শর্ত না মানলে ইরান কোনো অর্থ বা নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা পাবে না। তিনি জানান, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে এবং এই অঞ্চলে কোনো প্রক্সি গোষ্ঠীকে অর্থায়ন না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যেরও সমালোচনা করেন, যারা চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। ভ্যান্স বলেন, তাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রের ওপর প্রকাশ্যে আক্রমণ করা ঠিক নয়।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সমালোচনা করে বলেন, তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন হবে, আপনাদের বিকল্প প্রস্তাব কী? আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান শুধু হত্যার মাধ্যমে করা যায় না।’

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন ইসরায়েলের পাশে ছিল। চুক্তি ঘোষণার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। এর মধ্যে লেবাননে হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবরও রয়েছে। হিজবুল্লাহ চুক্তির শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। 

ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলকে শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান করতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।


 

উচ্চ তাপমাত্রায় আটকে যেতে পারে ভারতে এআই ডেটা সেন্টারের সম্ভাবনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
উচ্চ তাপমাত্রায় আটকে যেতে পারে ভারতে এআই ডেটা সেন্টারের সম্ভাবনা
সংগৃহীত ছবি

ভবিষ্যতে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করবে তথ্যপ্রযুক্তি আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ভারত তাই সেই নিয়ন্ত্রণে অংশীদার হতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল অবকাঠামোতে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। ডেটা সেন্টার স্থাপনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে এতদিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, আসল চ্যালেঞ্জ হলো জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। পানি ও বিদ্যুতের মতো তাৎক্ষণিকভাবে চোখে দেখা যায় না বলে এই চ্যালেঞ্জটি নিয়ে এতদিন খুব বেশি আলোচনা হয়নি।

‘২০২৬ গ্লোবাল অ্যানালাইসিস অফ প্ল্যানড ডেটা সেন্টার্স’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিবিষয়ক পরামর্শক সংস্থা ক্রস ডিপেন্ডেন্সি ইনিশিয়েটিভ (এক্সডিআই) প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। গত বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিশ্বব্যাপী ২,৫৯৫টি পরিকল্পিত ডেটা সেন্টারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে প্রত্যক্ষ জলবায়ুগত ক্ষতি, তীব্র তাপের সঙ্গে যুক্ত পরিচালনগত ব্যাঘাত এবং বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবহন নেটওয়ার্কের মতো আশপাশের অবকাঠামোগত ব্যর্থতা থেকে উদ্ভূত ঝুঁকিগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে ভারতের দ্রুত সম্প্রসারণশীল ডিজিটাল অবকাঠামো ইকোসিস্টেমের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বা সহনশীলতা নিয়ে নতুন ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিকল্পিত ডেটা সেন্টারগুলোর জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান ১১তম। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সক্ষমতায় ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং কর্ণাটক এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু তীব্র তাপের কারণে সৃষ্ট পরিচালনগত ব্যাঘাতের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা বৈশ্বিক আঞ্চলিক তালিকায়ও এই রাজ্যগুলোর অবস্থান শীর্ষ ৩০-এর মধ্যে। অর্থাৎ এখানে সম্ভাবনা ও সংকট—দুটিই বিদ্যমান।

এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত এআই কম্পিউটিং, ক্লাউড পরিষেবা এবং ডেটা লোকালাইজেশনের চাহিদার ওপর ভর করে ডেটা সেন্টার বিনিয়োগের একটি প্রধান গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।

এক্সডিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. কার্ল ম্যালন বলেন, ‘বেশিরভাগ বিতর্কই বিদ্যুৎ চাহিদা এবং পানি খরচ নিয়ে ছিল। কিন্তু প্রত্যক্ষ জলবায়ু ঝুঁকি এখন ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠছে।” তিনি আরো যোগ করেন, “প্রশ্নটি এখন শুধু পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো কোথায় তৈরি হবে তা নয়, বরং সেই অবকাঠামো তার পুরো জীবনচক্রে সচল, বীমাযোগ্য এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই থাকবে কি না।’

ভারত ছাড়াও ব্রাজিল, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ উচ্চ তাপমাত্রার কারণে কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এক্সডিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব দেশে পরিকল্পিত স্থাপনাগুলোর ৭৫ শতাংশেরও বেশি তাপ-সম্পর্কিত প্রতিবন্ধকতার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্যা বা ঝড়ের মতো দুর্যোগ অবকাঠামোর প্রত্যক্ষ ক্ষতি করলেও, দীর্ঘস্থায়ী চরম তাপমাত্রার প্রভাব ভিন্ন। এটি যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, কুলিং খরচ বাড়ায়, বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করে এবং সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ুজনিত এই সংবেদনশীলতা শুধু ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি স্থাপনা চরম আবহাওয়ার জন্য তৈরি হলেও এটি বিদ্যুৎ গ্রিড, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক, পানি সরবরাহ এবং সাপ্লাই চেইনের মতো বাহ্যিক অবকাঠামোর ওপরও নির্ভরশীল।

এক্সডিআই ইউরোপীয় একটি মডেলের তথ্য উল্লেখ করে জানায়, এই পরোক্ষ ঝুঁকিগুলো হিসাব করলে উৎপাদনশীলতার ক্ষতি প্রত্যক্ষ ক্ষতির অনুমানের চেয়ে দশ গুণ বেশি হতে পারে। এআই অবকাঠামোর নজিরবিহীন বৈশ্বিক সম্প্রসারণের মধ্যেই এই তথ্যগুলো সামনে এসেছে। যেখানে কোম্পানি ও সরকারগুলো কম্পিউটিং ক্ষমতার পেছনে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, সেখানে বীমা কম্পানিগুলোও জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি এখন নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর বৈশ্বিক বীমা প্রিমিয়াম বর্তমান ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই ঝুঁকিগুলো অনিবার্য নয়। এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে ডেটা সেন্টারগুলো গড়ে তুললে জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা অসম্ভব নয়। স্থাপনার জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন ও প্রকৌশলগত মান দীর্ঘস্থায়িত্বে সহায়তা করতে পারে। প্রতিযোগিতার কারণে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ ঝুঁকি বাড়াতে পারে; তাই সংখ্যার চেয়ে মানের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু-সংবেদনশীল ভবিষ্যতের উপযোগী করে অবকাঠামো গড়ে তুললে বর্তমান লাভের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও নিশ্চিত হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি

সুইজারল্যান্ডে আলোচনা স্থগিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডে আলোচনা স্থগিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রত্যাশিত আলোচনাকে ঘিরে এখনো সতর্কতা ও অনিশ্চয়তার সুর শোনা যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের তীরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এই আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে তার নির্ধারিত সফর স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি এখনো সপ্তাহান্তে সুইজারল্যান্ড সফরের প্রত্যাশা করছেন।

মধ্যস্থতাকারী দলের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা পুরোপুরি বাতিল হয়নি, বরং তা আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রস্তুত সুইজারল্যান্ড

একই ধরনের বার্তা এসেছে সুইস কতৃপক্ষের কাছ থেকেও। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত বৈঠক আপাতত না হলেও সুইজারল্যান্ড এই আলোচনা আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। 

এর জন্য দেশটির লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এ মুহূর্তে এর বেশি কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে আলোচনাটি কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এখনো নতুন সময়সূচি জানানো হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করা হয়নি। এসব বিষয়ে সমাধানে উভয় পক্ষকে ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত আলোচনা পিছিয়ে যাওয়ায় সেই প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যাওয়ার কথা ছিল। দেশটির বৃহত্তম শহর জুরিখ থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ওই স্থানে শুরুতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি কারিগরি আলোচনায় রূপ নেয়।

তবে এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত ভ্যান্স হঠাৎ করেই সফর বাতিল করেন।

কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র?

কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধিদল সেখানে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে এ ধরনের আলোচনার লজিস্টিক ও আয়োজন কখনোই সহজ বা পুরোপুরি পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না।’

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আলোচনা বাতিল না হয়ে কেবল স্থগিত হওয়ায় সমঝোতা প্রক্রিয়া এখনো জীবিত রয়েছে। তবে নতুন তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৩
ছবি : রয়টার্স

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার চালানো এ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকায় কথিত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

সর্বশেষ হামলার পর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন যাদের ‘নারকো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন সামরিক নৌকা হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ২১১ জনে পৌঁছেছে।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে চালানো হামলা নিয়ে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা কথিত মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করেছে। তবে সামরিক বাহিনী নৌকাটি মাদক বহন করছিল, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আঘাত পাওয়ার পর নৌকাটি আগুন ধরে যাওয়ার আগে দ্রুত গতিতে পানিতে চলছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র সংঘাত চলছে। তিনি এই হামলাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ কমানো এবং মাদক অতিরিক্ত সেবনে মৃত্যু ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার প্রশাসন মাদক-সন্ত্রাসীদের হত্যার দাবির পক্ষে খুব কম প্রমাণ দিয়েছে।

সমালোচকরা এই নৌ-হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ফেন্টানাইলসহ প্রাণঘাতী মাদকের বড় অংশ মেক্সিকো থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে আসে, যা চীন ও ভারত থেকে আসা রাসায়নিক দিয়ে তৈরি করা হয়।

বৃহস্পতিবার সিনেটররা পেন্টাগনের কাছে হামলার সম্পাদনা-বিহীন ভিডিও প্রকাশের দাবি জানান।