• ই-পেপার

শিশু জায়ান হত্যা

খুঁজতে সহযোগিতা করা প্রতিবেশীরাই ‘খুনি’

তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই : ত্রাণমন্ত্রী

নীলফামারী সংবাদদাতা.
তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই : ত্রাণমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এটার জন্য আমি মনে করি বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের জিওবি ফান্ড থেকে এটা করতে পারব। এটার মেয়াদ আছে দশ বছর। দুই স্তরে কাজ হবে। সুতরাং প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও আমরা করতে পারব। তবে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশীয় যারা আছেন তাদের সঙ্গে হয়তো বহির্বিশ্বের আরো উচ্চতর যারা জ্ঞান রাখেন এই ব্যাপারে তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন সমস্যাটা দেখা দিয়েছে যে আমরা দিয়ে উজান থেকে পানি কতটুকু পাবো সেটা কিন্তু এখনো আমাদের কাছে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ। পানি চুক্তি ছাড়া আমাদের কাক্সিক্ষত পানি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বর্ষাকালে প্রচুর পানি হয়। শুকনা মৌসুমে যদি পানি আমরা না পাই তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে এটা কোন কার্যকর কার্যকরী ভূমিকা রাখবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই জায়গাটি অ্যাড্রেস করছেন। উনি বলছেন যে, যাতে পানির রিজার্ভার তৈরি করা যায় ডিজাইনের মধ্যে সেটাকে গুরুত্ব দিতে বলছেন উনি। যাতে বর্ষাকালে আমরা পানি ধরে রাখতে পারি।’

এক মাসের মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর মহাপরিকল্পনার মূল কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘কিছু লোক দেখতেছি, তারা আবার আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যে আমরা আন্দোলন করলাম, তাদের চেহারা তো আমি একদিনও পাইনি। এখন এরা দেখছে যে কাজ রেডি হয়ে যাচ্ছে। তাই ওরা আন্দোলন করে ক্রেডিট নিতে চায়। তারা কই ছিল এতদিন। তিস্তার চরে যখন সাধারণ মানুষ নিয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দ আন্দোলন করছে তাদের তো আমরা একদিনও সাথে পায়নি।’

এর আগে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এসময় পানি সম্পদ সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিন সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সান্তাহারে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
সান্তাহারে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে দ্রুতযান ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আড়াইটার দিকে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে পৌঁছালে তার মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। শুক্রবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেবেন : পানিসম্পদমন্ত্রী

নীলফামারী সংবাদদাতা
প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেবেন : পানিসম্পদমন্ত্রী
তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ছবি : কালের কণ্ঠ

পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন আপনারা যান এবং এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসেন। যে আমি (তারেক রহমান) খুব শিগগিরই এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে একথা জানান পানি সম্পদ মন্ত্রী। এসময় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তার সঙ্গে ছিলেন।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আজকে এই এলাকায় এসেছি। সরেজমিনে দেখেছি। ইনশাল্লাহ পদ্মা ব্যারেজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শিগগিরই আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করার পর রিপোর্ট দিলে তিস্তা মহপরিকল্পনার কাজ একনেকে পাশ করানো হবে ইনশাআল্লাহ।’

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে পেছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি না আগাই তাহলে আমরা হোচট খেতে পারি। যার কারণে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছেন। আমরা সবার মতামত গ্রহণ করব। প্রয়োজনে দুই-চারটা দেশের বিশেষজ্ঞদেরও।’

এর আগে মন্ত্রী তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এসময় পানি সম্পদ সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিনসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হালুয়াঘাটে সড়কের পাশে ধানের বাজার, যানজটে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
হালুয়াঘাটে সড়কের পাশে ধানের বাজার, যানজটে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
শুক্রবার সকালের ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট মহাসড়কের ধারা বাজার ধান মহলের চিত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ।

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা বাজার এলাকায় (ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট) মহাসড়কের পাশে সাপ্তাহিক হাটের ধান মহল থাকায় মহাসড়কটিতে তৈরি হয় তীব্র যানজট। এ কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

স্থানীয়রা জানায়, হালুয়াঘাট পৌরশহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট মহাসড়কে ধারা উত্তর বাজার এলাকায় প্রতি শুক্র ও সোমবার মহাসড়কের পাশের জায়গা দখল করে বসে ধানের হাট। আগে হাটের দিনে ভোগান্তি হলেও এখন প্রতিদিনই ধান বেচাকেনা হয় এ হাটে। ফলে ভোগান্তি যেন নিত্যসঙ্গী এ এলাকার বাসিন্দাদের। উপজেলার ধারা, নড়াইল, ধুরাইল, আমতৈল, কৈচাপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম থেকে সাধারণ কৃষক এখানে ধান বিক্রি করতে আসেন।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহাসড়কের ওপর চলে ধান কেনাবেচা। ধান বহনকারী ট্রলি, নছিমন, করিমন, ভটভটি, ভ্যান, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন রাখা হয় মহাসড়কের ওপর। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটের দিন মহাসড়কের প্রায় বেশিরভাগ অংশ দখল হয়ে যায়। হালুয়াঘাট থেকে ঢাকা ও ময়মনসিংহগামী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ধারা বাজারে গিয়ে আটকে পড়ে। সৃষ্টি হয় যানজট। এ কারণে পথচারীদের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।

শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, ধারা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের ওপর কেনাবেচা হচ্ছে ধান। কৃষকেরা নছিমন, করিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ধান নিয়ে এসে বিক্রির জন্য মহাসড়কের ওপর রেখেছেন। ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার পর মহাসড়কেই পাশেই তাদের গোদামঘরে স্তূপ করে রাখছেন ধান। আবার দুপুর থেকেই পাইকারগণ তাদের ক্রয়কৃত ধান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর জন্য মহাসড়কে ট্রাক রেখে ধান লোড করেন। এতে করে সড়কে সৃষ্ট যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। হালুয়াঘাট থেকে ঢাকাগামী কয়েকটি বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট।

শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাসের চালক বলেন, ধারা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিদিনই যানজটে আটকে পড়তে হয়। তবে শুক্র ও সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যানজট তীব্র হয়।

ধান বিক্রি করতে আসা কয়েকজন কৃষক বলেন, মহাসড়কের পাশেই ধান কেনাবেচা হয়, তাই মহাসড়কের পাশেই ধান নিয়ে দাঁড়ান।

নড়াইল ইউনিয়নের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের যেমন ভোগান্তি , তেমনি আমাদেরও ভোগান্তি। এই ধান মহল যদি ধারা বাজার বাইপাস এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয় তাহলে মহাসড়কে কোনো যানজট থাকবে না।’

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা ধানের হাট অবৈধ। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে অচিরেই ধান মহলটি মহাসড়কের পাশ থেকে সরানোর ব্যবস্থা করব।’