লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কৃত নেতা এবাদ উল্যা গাজীর বিরুদ্ধে এক ইতালি প্রবাসীর বাড়ি দখলে নিতে চারপাশে জোরপূর্বক কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (৬ জুন) ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী মামুন মিজির স্ত্রী রোজিনা বেগম রায়পুর থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড চরবংশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত এবাদ উল্যা উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী খাসের হাট এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন শাকিল কবিরাজ, রাছেল হোসেন ছোটন ছৈয়াল, রায়হান গাজী, ইসমাইল বেপারী, ইয়ামিন দেওয়ান ও অজ্ঞাত ১২ জন। শাকিল উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া বাজার এলাকার মৃত জয়নাল কবিরাজের ছেলে ও অন্যরা চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্র জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে ইতালি প্রবাসী মামুন ঘটনাস্থলে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। সম্প্রতি ওই বাড়ি দখলের জন্য এবাদ উল্যা ও শাকিল পাঁয়তারা করে আসছে। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে বাড়ির টিনের বেড়ার চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়ে দেয়। এতে প্রবাসী পরিবার বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গেলে পরিবারের লোকজনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করে বাদী। এর আগেও গত ডিসেম্বর মাসে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা হয়। তখন রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে প্রবাসী পরিবার।
ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম বলেন, শাকিল ও এবাদ আমাদের বাড়ি ঘর দখলে নিতে চারপাশে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। জমি নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে তাদেরকে বৈঠকে বসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা না বলে বারবার আমার বাড়ি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। দুইদিন ধরে আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আছি। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাচ্ছি।
সাবেক বিএনপি নেতা এবাদ উল্যা গাজী বলেন, শাকিল কবিরাজ লোকজন এনে ওই বাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। জমির বিরোধ নিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়েছে। তখন আমি সালিশি বৈঠকের একজন ছিলাম। সালিশদার হিসেবে ঘটনার দিন আমাকে ডেকেছে, এজন্য আমি সেখানে গিয়েছি। আমি কিছু করিনি।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে শাকিল কবিরাজের মোবাইলফোনে কল দিলে ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে কল করার কথা বলে কেটে দেন তিনি।
রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।