• ই-পেপার

আইএমএফের সব সুপারিশ মানলে দেড় কোটি মানুষ দরিদ্র হবে

  • প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী

সুদানে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। গতকাল এক বার্তায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে পদকগুলো তুলে দেন।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন—করপোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলির আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তাঁরা নিহত হন।

 

জাবিতে নতুন দুই প্রোভিসি

জাবি প্রতিনিধি
জাবিতে নতুন দুই প্রোভিসি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুজন নতুন প্রো ভাইস চ্যান্সেলর (প্রোভিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে প্রোভিসি (প্রশাসন) এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামসুল আলমকে প্রোভিসি (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁদের এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তাঁরা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা তাঁদের বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। তাঁদের সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি, আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

 

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে দগ্ধ ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে দগ্ধ ৬

রাজধানীতে দুই গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে একই পরিবারের তিনজন, অন্য ঘটনায় তিন শ্রমিক আহত হন।

গতকাল শনিবার সকাল ৭টার দিকে উত্তরখানে রান্নাঘরের গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। তাঁরা হলেন আলী হোসেন (৫০), তাঁর স্ত্রী হাসনা হেনা (৪০) মেয়ে আঁখি আক্তার (২৫)। তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বলেন, আলী হোসেনের শরীরের ১০০ শতাংশ, হাসনা হেনার ৬০ ও আঁখি আক্তারের শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী সুমন আফসারী বলেন, সকালে রান্না করতে গিয়েছিলেন হাসনা হেনা। সে সময় গ্যাসের আগুন সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে আরো তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিগারেট ধরানোর সময় আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণটি ঘটে। দগ্ধরা হলেন মো. মিরাজ (২৬) সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪)। দগ্ধ অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বলেন, মিরাজের শরীরের ১৫ শতাংশ, সুজনের ২২ শতাংশ এবং বিপ্লবের ১০ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে।

 

 

আরো তিন শিশুর মৃত্যু মোট প্রাণহানি ৬১৩

হাম পরিস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরো তিন শিশুর মৃত্যু মোট প্রাণহানি ৬১৩

দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৯১৫ জন। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৭ জনের। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৪৭ জন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫২২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯১ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা ৬১৩।

তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৭৯১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ১৩৪ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে আশার খবর হলো, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ৫৮ হাজার ৯৬৪টি শিশু হাসপাতাল ছেড়েছে। একই সময়ে ৯ হাজার ৬২০টি শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা গড়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ জনের মধ্যে ছিল। বর্তমানে তা এক হাজার ১০০-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে। ঈদের আগে ও পরে সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে, যা ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ প্রভাব দেখতে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ টিকা নেওয়ার পর শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।

প্রভাত চন্দ্র বলেন, টিকা গ্রহণের পরও কেউ হামে আক্রান্ত হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা ও জটিলতা অনেকটাই কমে যায়। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জুনের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতির আরো উন্নতি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, সংক্রমণ কমার লক্ষণ দেখা গেলেও পরিস্থিতিকে এখনই স্বাভাবিক বলা যাবে না। টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর না দিলে হামের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে আসা রোগী কিংবা ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় মাইক্রো-প্ল্যানিংয়ের ঘাটতি ছিল। অনেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত টিকা কভারেজ নিশ্চিত করা যায়নি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনসচেতনতা ও প্রচারের অভাবে অনেক অভিভাবক সময়মতো শিশুদের টিকা দিতে পারেননি।