• ই-পেপার

দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই

  • শ্রমবাজারে যুদ্ধের প্রভাব

সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে

হাম বিভীষিকার মধ্যে ডেঙ্গুর চোখ-রাঙানি

সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে

হাম এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। থামেনি শিশুমৃত্যুর ঘটনা। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হিসাবেই গত ১৫ মার্চ থেকে মারা গেছে ৬১০ জন এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৬ হাজারের বেশি। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, মৃত ও আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। হামের এমন ভয়াবহ অবস্থার মধ্যেই শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর চোখ-রাঙানি। প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন এবং মে মাসে ৭১৪ জন। উদ্বেগের বিষয়, জুন মাসে চার দিনেই আক্রান্ত হয়েছে ৩৫৩ জন। ফলে অচিরেই হাম ও ডেঙ্গুর মিলিত চাপে স্বাস্থ্য খাতে দুর্বিষহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ১৬৮ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১৯ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭৬ হাজার ৮৭৬ জনের এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৫০৩ জনের শরীরে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক মাসে হাম পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি, সংক্রমণের চাপ এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।

এদিকে হামের উচ্চঝুঁকির মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫৭ জেলায় এরই মধ্যে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯১ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৫৫০ জন এবং মারা গেছে ছয়জন। আক্রান্তদের প্রায় ৭৬ শতাংশ ঢাকার বাইরের বাসিন্দা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, সাম্প্রতিক মাঠ জরিপে ঢাকার অনেক এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব অত্যন্ত উদ্বেগজনক মাত্রায় পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত বছরের চেয়েও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সতর্ক করে বলেন, এবার ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। হেমোরেজিক (রক্তক্ষরণ) ডেঙ্গু বেশি হতে পারে।

পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এডিস মশা নিধন অভিযান জোরদার করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে হাম ও ডেঙ্গুর চিকিৎসায় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন

বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন

দেশের অর্থনীতিতে অচলাবস্থা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সর্বস্তরে। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান শুধু রাষ্ট্রীয় অপচয়ই বাড়াচ্ছিল না, দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। চলমান অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের এই উদ্যোগ হতে পারে দেশের শিল্প খাতে নতুন মাইলফলক।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসংক্রান্ত সভায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপর এক খবরে বলা হয়েছে, বন্ধ থাকা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প সুদে এই অর্থ ব্যাংকগুলোকে ঋণ হিসেবে দেবে এবং ব্যাংকগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ দেবে। জানা গেছে, একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। তবে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স থাকলে তা নবায়নযোগ্য। ব্যাংক পর্যায়ে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।

অতীতে দেখা গেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। যাদের ঋণ সহায়তা পাওয়ার কথা, তারা পায় না; পায় মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী কিছু লোক। এতে কাজের কাজ কিছু হয় না, বরং খেলাপি ঋণের বোঝা ভারী হয় মাত্র। কাজেই বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, এই উদ্যোগ সফল ও টেকসই করতে সুনির্দিষ্ট এবং বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। কোন কারখানাগুলো সামান্য আর্থিক ও নীতিগত সহায়তায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, আর কোনগুলোর আমূল সংস্কার প্রয়োজন, তা প্রথমেই যাচাই করতে হবে। বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে শিল্প এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

আমরা মনে করি, সরকারের সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। ঋণ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি থাকা দরকার। অপাত্রে যেন কোনো ঋণ সহায়তা না যায়, তা শুরুতেই রোধ করতে হবে।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসুন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসুন

ভারত থেকে অবৈধ পন্থায় লোকজনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানো বা পুশ ইনের ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অব্যাহতভাবে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্থানীয় লোকজনের সহায়তা নিয়ে তা প্রতিরোধ করে যাচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিএসএফ গত বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তের অন্তত ১০টি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে পুশ ইনের চেষ্টা চালায়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশ ইনের সব কটি অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী। বাংলাদেশ বরাবরই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী। ভারতে যদি কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, অবশ্যই বাংলাদেশ তাদের ফেরত নেবে। সে ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন রয়েছে, যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়ম-কানুন রয়েছে; সেগুলো মেনে চলতে হবে। উভয় দেশের বিদ্যমান আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশকে কিছু না জানিয়ে সীমান্ত দিয়ে কিছু মানুষকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘সরকার অবৈধ পুশ ইনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বর্ডারে আমাদের বিজিবি অ্যালার্ট আছে। যদি ভারতের তরফ থেকে দাবি করা হয় যে কোনো বাংলাদেশি সেখানে অবৈধভাবে আছে, তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে (রিপ্যাট্রিয়েশন)। কিন্তু জোর করে ঠেলে দেওয়া আমরা মেনে নেব না।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও মানবিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে যেভাবে জোরপূর্বক লোকজনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সীমান্তের এই সংকট দূর করতে দুই দেশের সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করতে হবে। প্রতিবেশী হিসেবে ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করা উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক।’ মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, সীমান্তে উত্তেজনা কোনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। তবে বিএসএফ যদি নিয়মিতভাবে এভাবে লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা প্রয়োজন।’

ভারতের মানবাধিকারকর্মীরাও মনে করেন, পুশ ব্যাক বা পুশ ইন প্রক্রিয়ার কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই ভারতে। ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর প্রধান কিরীটী রায় বলেন, ‘কোনো বিদেশি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করলে তাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। বিদেশি আইনের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী মামলা হবে। মামলায় যদি সেই ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তার সাজা হবে। সাজার শেষে আদালতের মাধ্যমেই যে ব্যক্তি যে দেশ থেকে এসেছে, সেখানে ফেরত পাঠানো হবে। অন্য কোনোভাবে নয়।’ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও মনে করে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক পুশ ইন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

সীমান্তের এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, সেখানে বিষয়টি নিয়ে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এর আগ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন মেনে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় দুরবস্থা

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

দেশে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম যারপরনাই হতাশাজনক। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর অন্যতম কারণ আর্থিক বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। কিন্তু এটিও দেখা গেছে, যেটুকু বরাদ্দ রয়েছে, সেটুকুও যথাযথ ব্যবহৃত হচ্ছে না। আবার যেসব গবেষণা হচ্ছে, তার সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা নেই, নেই কর্মবাজারের সঙ্গে সংগতি। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় এসব গবেষণার ফল তেমন কাজেও আসছে না।

দেশে এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৫ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬। মোট ১৭১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, ১৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় দুই কোটি টাকার নিচে। সরকারি ৩৩টি এবং বেসরকারি ৯৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ব্যয়ের চিত্র খুবই করুণ। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা নিজেদের পদোন্নতির জন্য যেনতেনভাবে গবেষণাপত্র জমা দিচ্ছেন। অনেক গবেষণায় বড় ধরনের চৌর্যবৃত্তির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এই হলো মোটাদাগে সার্বিক পরিস্থিতি। তবে এসবের ভিড়ে মানসম্মত গবেষণা যে একেবারেই নেই, তা নয়। কিন্তু সেই সংখ্যা অতি নগণ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যয় নিয়ে ইউজিসি সর্বশেষ ২০২৩ সালে তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, সরকারি ৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় ছিল ১২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যয় করেছে, ১৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০২৩ সালে বেসরকারি ১১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় ছিল ১৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় একাই ব্যয় করেছে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই গবেষণা ব্যয় অনেক কম। এসব কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম কোনো র‌্যাংকিংয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না।

ইউনেসকোর পরামর্শ হলো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা প্রয়োজন। সেখানে বাংলাদেশে ব্যয় করা হচ্ছে মাত্র ১.৫৩ শতাংশ। আবার যে পরিমাণ বরাদ্দ থাকে, তারও বেশির ভাগ ব্যয় হয় অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষক-কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ। সেই তুলনায় গবেষণায় নামমাত্র বরাদ্দ থাকে। এত অল্প বরাদ্দে মানসম্পন্ন গবেষণা কার্যক্রম প্রায় অসম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার সূতিকাগার। এর প্রাণভোমরা হলো মৌলিক ও ফলিত গবেষণা। কাজেই আমাদের উচ্চশিক্ষার মান উন্নত করতে হলে অবশ্যই গবেষণা খাতে ব্যয় ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে জিডিপির একটি নির্দিষ্ট অংশ গবেষণার জন্য সুনির্দিষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নানা অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।