• ই-পেপার

কোরআন থেকে শিক্ষা

  • পর্ব ১১৪৩

মসজিদে নববীর আঙ্গিনা শীতলীকরণে ব্যবহৃত মার্বেল থাসোস

আবু তাশফিন
মসজিদে নববীর আঙ্গিনা শীতলীকরণে ব্যবহৃত মার্বেল থাসোস

মসজিদে নববীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য উপাদান এবং এর পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ হলো সাদা থাসোস মার্বেল। এটি মসজিদের অভ্যন্তর, ছাদ এবং উন্মুক্ত চত্বরগুলোতে ইবাদতকারীদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মসজিদের চত্বর ও ছাদজুড়ে বিছানো সাদা মার্বেল আশপাশের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে মুসল্লিরা নামাজ আদায় কিংবা চত্বরে চলাফেরার সময় পায়ের নিচে শীতলতার অনুভূতি পান। পবিত্র দুই মসজিদের প্রতি সৌদি আরবের বিশেষ যত্ন এবং হজযাত্রী, ওমরাহ পালনকারী ও দর্শনার্থীদের সেবার প্রতি তাদের আন্তরিকতার এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পবিত্র মসজিদ ও মসজিদে নববী বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মসজিদে নববীর ছাদ ও বহিরাঙ্গন চত্বরগুলো আবৃত করতে মোট এক লাখ ১৭ হাজার বর্গমিটার সাদা থাসোস মার্বেল ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন আকারের এসব মার্বেল খণ্ড মসজিদের নান্দনিক স্থাপত্য নকশা, নামাজের স্থান এবং উন্মুক্ত চত্বরের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একই সঙ্গে এগুলো মসজিদের বিভিন্ন স্থাপনা ও উপাদানে সৌন্দর্যের অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে এটি ইবাদতকারীদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত মার্বেল আবৃত এলাকাগুলোর একটি।

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, উজ্জ্বল শুভ্র বর্ণের জন্য খ্যাত থাসোস মার্বেলের উচ্চমান এবং সূর্যের আলো প্রতিফলিত করার বিশেষ ক্ষমতার কারণে নির্বাচন করা হয়েছে। এটি সূর্যের তাপ শোষণ না করে অপেক্ষাকৃত শীতল থাকে, ফলে নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে এটি অত্যন্ত উপযোগী।

এ ছাড়া মার্বেলগুলো নিয়মিতভাবে বিশেষ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে পলিশ, পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করা হয়। এর ফলে মার্বেলের স্বচ্ছতা, দীপ্তি ও তাপ নিয়ন্ত্রণের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকে এবং বছরজুড়ে মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য সর্বদা প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়।

সূত্র : রিয়াদ ডেইলি

 

ইসলাম কী বলে

ঋণ শোধের জন্য আত্মহত্যা বা অনাচারে জড়ানো

উমায়ের কোব্বাদী
ঋণ শোধের জন্য আত্মহত্যা বা অনাচারে জড়ানো

যদি কোনো নারী-পুরুষ অভিভাবকহীন অবস্থায় এমন ঋণ ও সংকটে পড়ে যায় যে তার সামনে আত্মহত্যা বা পতিতাবৃত্তি—এই দুটি পথই খোলা মনে হয়, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে এ দুটির কোনোটিই বৈধ নয়। ইসলাম মানুষের কষ্ট, দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বকে বিবেচনা করে, কিন্তু হারামকে হালাল করে দেয় না; বরং এমন অবস্থায় ধৈর্য, তাওবা, দোয়া, হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং মানুষের সাহায্য গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

আত্মহত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।’

(সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

আর ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীলতা ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা : ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩২)

এ ছাড়া কোরআনে বিশেষভাবে নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য কোরো না।’

(সুরা : নূর, আয়াত : ৩৩)

অতএব, কোনো মা যদি ঋণ শোধের জন্য নিজের মেয়েকেও এ কাজে বাধ্য করতে চান, তাহলে তা হারাম, জুলুম ও মারাত্মক গুনাহ। মেয়ের জন্য এ আদেশ মানা বৈধ নয়। কারণ ইসলামে আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে কারো আনুগত্য করা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অসৎ কাজে আনুগত্য নয়; আনুগত্য শুধু সৎ কাজের ক্ষেত্রেই হতে হবে।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৪৫)

তাই কন্যাসন্তানের করণীয় হলো—

এ কাজ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা, নিরাপদ কোনো আত্মীয়, আলেম, বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া, নিজেকে নিরাপদ পরিবেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা, হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের পথ খোঁজা। আর যদি কোনো মেয়ে এরই মধ্যে এ কাজে জড়িয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ নয়। সে অবিলম্বে এ কাজ ছেড়ে দেবে, আন্তরিকভাবে তাওবা করবে, হারাম সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং হালাল জীবিকার দিকে ফিরে আসবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’

(সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)

ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে শেখায় না। যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক, হারাম পথের পরিবর্তে হালাল পথ খোঁজার চেষ্টা করতে হবে এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখতে হবে।

অকুতোভয় সাহাবি বারা ইবনে মালিক (রা.)

মাওলানা মুহিউদ্দীন হাতিয়ূভী
অকুতোভয় সাহাবি বারা ইবনে মালিক (রা.)

তাঁর নাম আল-বারা। পিতা মালিক। মদিনার বিখ্যাত ‘খাযরাজ’ গোত্রের ‘বনু নাজ্জার’ শাখার সন্তান। রাসুল (সা.)-এর খাস খাদিম আনাস (রা.)-এর বৈমাত্রেয় মতান্তরে সহোদর (আপন) ভাই। বীর-বিক্রমী সিংহসাহসী লড়াকু সাহাবি। বদর যুদ্ধ ব্যতীত বায়াতে রিজওয়ানসহ সব যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা : ৩/১২৫ পৃ., ক্র.৩১)

ইসলাম গ্রহণ ও জিহাদি জীবন

রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরতের আগে ও পরের কোনো একসময়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর বদর যুদ্ধ ছাড়া উহুদ, খন্দকসহ বাকি সব যুদ্ধে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে অংশ নেন। হুদাইবিয়ার বায়াতে রিজওয়ানেও তিনি শরিক ছিলেন। আবুবকর (রা.)-এর খিলাফত আমলে ভণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার ভয়াবহ অভিযানে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকায় উত্তীর্ণ হন। সে অভিযানের সেনাপতি ছিলেন হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)। মুসলিম বাহিনী যেন বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, সে জন্য সেনাপতিকে তিনি উৎসাহ-উদ্দীপনামূলক ভাষণদানের জন্য পরামর্শও দেন। সেদিন তীর-তলোয়ার ও বর্শা-বল্লমের ৮০টিরও বেশি যখমে তাঁর সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) দীর্ঘ এক মাস তাঁর চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থাকেন। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা : ৩/১২৫পৃ., ক্র.৩১; রিজালুন হাওলার রাসুল ১/৩২৪ পৃ.)

উমার (রা.)-এর খিলাফত আমলে হিজরি ১৭ থেকে ২০ সনে পারস্যের রামহুরমুয, তুসতার ও সুস বিজিত হয়। তুসতার অভিযানে তিনি আবু মূসা আল-আশ‘আরী (রা.)-এর বাহিনীর দক্ষিণ ভাগের অধিনায়ক ছিলেন। এই যুদ্ধে তিনি একাই প্রতিপক্ষের ১০০ সৈন্যকে হত্যা করেন। (আল-কামিল ফিত তারিখ : ২/৫৪০ পৃ.; আল-আ’লাম : ২/১৫ পৃ.; মু’জামুল বুলদান : ১/২৫৬ পৃ.; উসদুল গাবাহ : ১/১৭২ পৃ.; সূত্র—আসহাবে রাসুলের জীবনকথা : ৪/১০ পৃ.; রিজালুন হাওলার রাসুল : ১/৩২৫ পৃ.)

অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতা

রণক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতার অধিকারী। শত্রু বাহিনীর মোকাবেলায় ছিলেন গর্জে ওঠা সিংহ পুরুষ। শত্রুর মোকাবেলায় ছুটছেন তো ছুটছেন; পেছনে তাকানো কী জিনিস তা জানতেন না। তাই তো হজরত উমর (রা.) তাঁকে কোনো বাহিনীর অধিনায়ক নিয়োগ করেননি এবং অন্য সামরিক অফিসারদেরও বলে দিয়েছেন, বারা ইবনে মালিককে তোমরা কোনো মুসলিম বাহিনীর সেনাপ্রধান নিয়োগ করবে না। কারণ সে একটা বিপদ। সে সৈন্যবহর নিয়ে সামনেই যাবে; পেছনে সরবে না। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা : ৩/১২৫ পৃ. ক্র.৩১; উসদুল গাবাহ্ : ১/২০৬ পৃ., ক্র.৩৯১; আল-আ’লাম : ২/৪৭ পৃ.)

আনাস (রা.) বলেন, আমি (আমার ভাই) বারা ইবনে মালিককে দেখতে গেলাম। গিয়ে দেখি তিনি গুন গুন সুরে কবিতা পাঠ করছেন। আমি বললাম, ভাই! এভাবে আর কত দিন চলবে? আল্লাহ আপনাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু কোরআন দান করেছেন। জবাবে তিনি বললেন, তুমি কি আশঙ্কা করছ যে আমি এভাবে বিছানায় মৃত্যুবরণ করব, অথচ আমি অন্যের সহযোগিতা ছাড়াই শুধু নিজ হাতেই ১০০ জনকে হত্যা করেছি। আমি আশাবাদী আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু থেকে বঞ্চিত করবেন না। মহান আল্লাহ তাঁর সেই তামান্না পূরণ করেছেন। ইসলামী ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ানক যুদ্ধে তিনি শাহাদাতবরণ করলেন। (আল-ইসতি‘আব : ১/১৫৩ পৃ., ক্র.১৭২; সিয়ারু আ’লামিন নুবালা : ৩/১২৬ পৃ., ক্র.৩১; রিজালুন হাওলার রাসুল : ১/৩২২ পৃ.)

ইন্তেকাল

তুসতার অভিযানের সময় তিনি এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের যোদ্ধা মারযুবানের মুখোমুখি হন। রণক্ষেত্রে কাপুরুষতা ও সাহসহীনতার ইতিহাস তাঁর জীবনে নেই। জীবনবাজি রেখে লড়তে থাকলেন। এক পর্যায়ে মারযুবান তাঁকে শহীদ করে দেয়। তুসতারের পূর্ব ফটকে তিনি সমাহিত হন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আল্লামা ওয়াক্বিদি (রহ.)-এর মতে, এটি ২০ হিজরি সনের ঘটনা। অপর বর্ণনামতে, ১৯/২৩ হিজরি সনের ঘটনা। (উসদুল গাবাহ : ১/২০৬ পৃ., ক্র.৩৯১; আল-আ’লাম : ২/৪৭ পৃ.)

বারা ইবনে মালিক (রা.) রাসুল (সা.)-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ বছর রাসুল (সা.)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রিয় নবীর জবানে মুবারক থেকে অসংখ্য হাদিস শ্রবণ করেছেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো হাদিস গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিস তেমন দেখা যায় না। সম্ভবত যুদ্ধ-জিহাদে ব্যস্ত থাকার কারণে হাদিস বর্ণনার কাজে মনোযোগ দিতে পারেননি। রিজালশাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে তিনি মর্যাদাবান সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ রয়েছে।

মুহাদ্দিস : আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাইজদী নোয়াখালী

সাফল্য লাভে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব

মাইমুনা আক্তার
সাফল্য লাভে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব

মানুষের জীবনে সফলতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘ সাধনা, অধ্যবসায় ও অবিরাম প্রচেষ্টার ফল। পৃথিবীর ইতিহাসে যাঁরা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কেউই এক দিনে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাননি। অসংখ্য ব্যর্থতা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ধৈর্য ও পরিশ্রমের পথ অতিক্রম করেই তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছেছেন। কারণ মহান আল্লাহ এই পৃথিবীকে কর্মের ক্ষেত্র হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এখানে প্রাপ্তির সঙ্গে প্রচেষ্টা এবং সফলতার সঙ্গে সাধনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

ইসলামও মানুষকে অলসতা বা ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকতে শেখায় না। বরং চেষ্টা, সংগ্রাম ও কর্মনিষ্ঠাকে সফলতার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এই যে মানুষ তাই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সুরা : আন নাজম, আয়াত : ৩৯)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা বলেন, মানুষ তার কর্ম ও প্রচেষ্টার ফলই লাভ করে। চেষ্টা ও সাধনা ছাড়া কোনো অর্জন সম্ভব নয়। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্মফলেরই মুখোমুখি হবে। (তাফসিরে কুরতুবী)

পার্থিব জীবনের সাফল্যের মতো আখিরাতের সফলতাও চেষ্টা ও সাধনা ছাড়া অর্জিত হয় না। আল্লাহর সন্তুষ্টি, জান্নাতের সৌভাগ্য কিংবা আত্মিক উৎকর্ষ—কোনোটিই অলসতার মাধ্যমে লাভ করা যায় না। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর পথে চলতে চায় এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সংগ্রাম করে, আল্লাহ নিজেই তার জন্য হেদায়েতের পথ খুলে দেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আমার উদ্দেশ্যে চেষ্টা-সংগ্রাম করবে, তাদের আমি আমার পথ দেখাব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীল লোকদের সঙ্গে রয়েছেন।’

(সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৯)

এই আয়াতের তাফসিরে ফুদাইল ইবনে আয়াদ বলেন, ‘যারা বিদ্যার্জনে ব্রতী হয়, আমি তাদের জন্য আমলও সহজ করে দিই।’ (বাগভী)

আসলে মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টা কখনোই আল্লাহর কাছে মূল্যহীন নয়। কোনো ব্যক্তি যদি নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পরিশ্রম করে, আল্লাহ তাকে তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন না; বরং ধীরে ধীরে তাকে সত্যের পথে পরিচালিত করেন, কল্যাণের দরজা উন্মুক্ত করে দেন এবং নেক কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দেন।

মুমিনের জীবনের লক্ষ্য শুধু দুনিয়াবি সফলতা নয়; বরং আখিরাতের স্থায়ী মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই একজন মুমিন ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায়ের পাশাপাশি নফল আমল, দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানার্জন ও মানবসেবার মাধ্যমে নিজের আমলের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে। আল্লাহ তাআলা এমন প্রচেষ্টাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আর যারা মুমিন হয়ে আখিরাত কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে। তাদের প্রচেষ্টা পুরস্কারযোগ্য।

(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১৯)

অতএব, সফলতার স্বপ্ন দেখাই যথেষ্ট নয়; সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন নিরলস চেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মনিবেদন। দুনিয়ার কোনো ক্ষেত্রেই হোক কিংবা আখিরাতের কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যেই হোক, মহান আল্লাহ চেষ্টা ও সাধনাকেই সফলতার সোপান বানিয়েছেন। তাই মুমিনের কর্তব্য হলো হতাশ না হয়ে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং বিশ্বাস করা যে আন্তরিক প্রচেষ্টার কোনো প্রতিদান কখনোই আল্লাহর কাছে হারিয়ে যায় না। একদিন না একদিন তিনি তার শ্রম, ত্যাগ ও সাধনার উত্তম প্রতিদান অবশ্যই দান করবেন।