ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতভর চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৯০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ওপর চালানো এই হামলাকে এখন পর্যন্ত দেশটির ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও ব্যাপক হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।
তিনি বলেন, হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই নিহতদের স্মরণে কিয়েভে শুক্রবার শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।
যদিও অতীতের কিছু হামলায় নিহতের সংখ্যা বেশি ছিল, তবে এবারের হামলায় রাজধানীজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে।
হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একাধিক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
অন্যদিকে মস্কো দাবি করেছে, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের হামলার জবাবে তারা সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কিয়েভ সরকারের ওপর চাপ আরো বাড়ানো হবে।’
এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এ বিষয়ে কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হতাহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। শত্রুপক্ষ আবারও পরিকল্পিতভাবে আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে।
কিয়েভ মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার মানুষ (যার মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার শিশু) নিরাপত্তার জন্য ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব কিয়েভের দারনিৎস্কি জেলা। সেখানে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।






