• ই-পেপার

বিআরএফ’র গবেষণা

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় দেরি করায় বাড়ছে ব্যয়, জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি

প্রথমবারের মতো সরকারি হাসপাতালে গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথমবারের মতো সরকারি হাসপাতালে গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গর্ভের এক শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে। এটি দেশে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি হাসপাতালে গর্ভের শিশুর শরীরে সফল রক্ত সঞ্চালন।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) এই জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করেন হাসপাতালের মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগের একদল চিকিৎসক।

এতে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটের প্রধান ডা. খন্দকার শেহনীলা তাসমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ, অধ্যাপক ডা. ইসরাত জাহান এবং অধ্যাপক ডা. খালেদুন্নেসা। এ ছাড়া শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান, অ্যানিস্থেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খান, ডা. নোমান ও ডা. শরীফ, রক্ত সঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান এবং হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার এই চিকিৎসা সফল করতে সহযোগিতা করেন।

চিকিৎসকরা জানান, রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতার কারণে গর্ভের শিশুর মারাত্মক রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে তার জীবন রক্ষায় ইনট্রা-ইউটেরিন ফিটাল ব্লাড ট্রান্সফিউশনের (আইইউটি) এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে গর্ভের ভেতরে শিশুর নাভির রক্তনালিতে নিরাপদভাবে রক্ত সঞ্চালন করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাফল্যের ফলে ভবিষ্যতে রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতাসহ গর্ভের শিশুর বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা দেশের সরকারি হাসপাতালেই উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। এ ছাড়া ভবিষ্যতেও আধুনিক মা ও গর্ভস্থ শিশুর চিকিৎসা, জন্মের আগেই রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় বিশেষ চিকিৎসাসেবা আরো সমপ্রসারণের মাধ্যমে মা ও অনাগত শিশুর সর্বোচ্চ মানের সাবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে হাসপাতালটি।

চিকিৎসকদের মতে, গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি। আমাদের দেশে অনেক নারী রক্তস্বল্পতায় ভোগেন, যার প্রভাব পড়ে গর্ভের বাচ্চার ওপর। এছাড়া মা ও গর্ভের শিশুর রক্তের আরএইচ গ্রুপজনিত জটিলতার কারণে সৃষ্ট গুরুতর রক্তস্বল্পতা, শরীরে অস্বাভাবিকভাবে পানি জমে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে তীব্র রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হয়। সময়মতো এই চিকিৎসা দেওয়া গেলে গর্ভের শিশুর মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে যায় এবং নিরাপদভাবে গর্ভকাল আরো কিছুদিন বাড়ানো সম্ভব হয়।

বাস্তবায়ন করবেন সিভিল সার্জনরা

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ৫ নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ৫ নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখা সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্য বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০ শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিক্যাল অফিসার নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় পাঁচটি পদক্ষেপ সিভিল সার্জনদের বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো—এক. জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। দুই. প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করতে হবে। তিন. ডিউটি রোস্টার ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। চার. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে বা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। পাঁচ. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাম উপসর্গে এক দিনে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম উপসর্গে এক দিনে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৩১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭২৪টি শিশু মারা গেছে।

এ ছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৬৫। এই সময়ে ৯০২টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৭টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮৬ হাজার ৪১১ রোগী, যাদের মধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রেখেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, থানা, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুর এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগী বাড়লে সেগুলো চালু করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামসহ সবাইকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।