• ই-পেপার

স্টারলিংকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ ফিলিপাইন

১৫০ বছরের ল্যান্ডলাইন যুগের অবসান ঘটাল ফিনল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক
১৫০ বছরের ল্যান্ডলাইন যুগের অবসান ঘটাল ফিনল্যান্ড
সংগৃহীত ছবি

প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ল্যান্ডলাইন টেলিফোন নেটওয়ার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ফিনল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে দেশটি সম্পূর্ণভাবে আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ করল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশজুড়ে শেষ ল্যান্ডলাইন ফোনকলের পর টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এলিসা তাদের পুরোনো তামার তারের নেটওয়ার্ক স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। এই নেটওয়ার্কটি একসময় ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। প্রতীকীভাবে শেষ ল্যান্ডলাইন কলটি করেন এলিসার প্রধান নির্বাহী টোপি মান্নের এবং ফিনল্যান্ডের পরিবহন ও যোগাযোগ সংস্থার প্রধান ইয়ার্ক্কো সারিমাকি। তারা বলেন, একসময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ল্যান্ডলাইন ফোনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর তারা ফিনিশ ভাষায় বিদায় জানিয়ে বলেন, 'কুলেমিন', যার অর্থ 'পরে আবার কথা হবে।'

ফিনল্যান্ডে ল্যান্ডলাইন টেলিফোন নেটওয়ার্কের যাত্রা শুরু হয় ১৮৮০-এর দশকে। একসময় এটি ইউরোপের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত টেলিফোন ব্যবস্থাগুলোর একটি ছিল। ১৯৬০-এর দশকে ল্যান্ডলাইন সংযোগের সংখ্যার দিক থেকে ইউরোপে ফিনল্যান্ডের অবস্থান ছিল সপ্তম। আর ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি পরিবার ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহার করত। পরবর্তী কয়েক দশকে মোবাইল ফোন প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে ল্যান্ডলাইনের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে ফিনল্যান্ডের টেলিযোগাযোগ খাতের বৈশ্বিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান নকিয়া। 

চলতি বছরের শুরুতে নেটওয়ার্ক বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার সময় এলিসা জানিয়েছিল, তখনও মাত্র কয়েক হাজার গ্রাহক পুরোপুরি ল্যান্ডলাইন সেবার ওপর নির্ভর করতেন। এর আগেই দেশটির অন্য বড় টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো ল্যান্ডলাইন সেবা ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেয়। টেলিয়া ২০১৯ সালে তাদের ল্যান্ডলাইন সেবা বন্ধ করে, আর ডিএনএ ২০২৬ সালের শুরুতে এ খাতে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেয়।

ল্যান্ডলাইন বন্ধের মাধ্যমে ফিনল্যান্ড এখন এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেনের মতো দেশের তালিকায় যুক্ত হলো, যারা জাতীয় পর্যায়ের অ্যানালগ ল্যান্ডলাইন নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে। এই দেশগুলো এখন ফাইবার-অপটিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করছে, যার মাধ্যমে একই সঙ্গে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ভয়েস যোগাযোগ সেবা দেওয়া সম্ভব। তবে ফিনল্যান্ডে কিছু স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট এলাকায় ল্যান্ডলাইন সেবা চালু রাখবে বলে জানা গেছে।

তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা, জ্বালানি সংকটে রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা, জ্বালানি সংকটে রাশিয়া
ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া।

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হয়েছে এবং গ্যাস স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন স্বীকার করেছেন, জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা রয়েছে, তবে তিনি এটিকে সাময়িক বলে দাবি করেছেন।

তবে অনেক গাড়িচালক বলছেন, বাস্তবে পরিস্থিতি আরো খারাপ। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি সাধারণ রুশ নাগরিকদের জীবনে পড়তে শুরু করেছে।

মার্চের শেষ দিক থেকে রাশিয়া ও রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় তেল শোধনাগার, ডিপো, টার্মিনাল এবং অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেন ৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে বলে এপির হিসাব থেকে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে একই স্থাপনায় একাধিকবার হামলা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, কৃষ্ণ সাগর উপকূলের তুয়াপসে তেল শোধনাগারটিতে মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ে চারবার হামলা চালানো হয়। এসব হামলার প্রভাবে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এনার্জি ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক গ্যারি পিচের মতে, জুন মাসে রাশিয়া দৈনিক ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল জ্বালানিতে রূপান্তর করেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম এবং দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তিনি বলেন, ‘এই বিভ্রাটগুলো অস্বাভাবিক।’

ইউক্রেনের হামলার প্রভাবে রাশিয়ার গ্যাসোলিন উৎপাদনও কমে গেছে। জুন মাসে দেশটির গ্যাসোলিন উৎপাদন ১৭ শতাংশ কমে দৈনিক ৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১০ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। এই উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্রো-অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ওয়েফার বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগার সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বর্তমানে অচল রয়েছে।

তিনি জানান, শোধনাগারগুলো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ না করায় বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ওয়েফারের মতে, কৃষি ও ফসল কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে, ফলে এই সংকট রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য আরো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে ইউক্রেন বলছে, এসব হামলার লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করা এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে আনা। ইউক্রেন বিশেষভাবে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।

২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নিলেও অধিকাংশ দেশ এই দখলকে স্বীকৃতি দেয় না। চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেনের হামলায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মে মাসে ক্রিমিয়ায় জ্বালানি রেশনিং চালু করতে বাধ্য হয় মস্কো-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ। কয়েক সপ্তাহ পর সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানি বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সেভাস্তোপোল শহরে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি আবার শুরু করা হয়।

ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার দুটি বৃহত্তম শহর মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা ক্রেমলিনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৮ জুন মস্কোর উপকণ্ঠে একটি তেল শোধনাগারেও হামলা হয়, যেখানে আগুন থেকে তৈরি কালো ধোঁয়া দূর থেকে দেখা যায়।

জুনের শেষ দিকে রাশিয়ার অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিংয়ের খবর পাওয়া যায়। কোথাও গ্যাস স্টেশনগুলোতে জ্বালানি কেনার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও সরাসরি বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রুশ কর্মকর্তারা সংকটের জন্য আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনাকে দায়ী করেছেন এবং জনগণকে শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গ্যাসোলিন ও বিমান জ্বালানির রপ্তানি সীমিত করেছে। ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তার মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা কমানোর লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘাটতি রাশিয়ার সেইসব দূরবর্তী অঞ্চলেও পৌঁছেছে যেখানে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কোনো শোধনাগার আক্রান্ত হয়নি। যেমন সাইবেরিয়া।

নেতানিয়াহুকে হটাতে নির্বাচনী মাঠে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক
নেতানিয়াহুকে হটাতে নির্বাচনী মাঠে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে তিনি এ ঘোষণা দিলেন। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করার লক্ষ্য তার।

মঙ্গলবার প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে আইজেনকোট বলেন, 'ইসরায়েল একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার যোগ্য। আমরা সবাই মিলে সেই নতুন অধ্যায় লিখব।' তিনি আরো বলেন, আগামী অক্টোবরে গঠিত হতে যাওয়া সরকার যেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ওই হামলায় হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছিল, যা নেতানিয়াহুর শাসনামলেই ঘটে। 

আইজেনকোট বলেন, 'আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলব। এটি হবে ভালো একটি অধ্যায়। কারণ ইসরায়েলকে জিততেই হবে, আর ইসরায়েল জিতবেই।'

গাজা যুদ্ধ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নীতি ও নেতৃত্বের অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন আইজেনকোট। তিনি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ গঠন করেন। হিব্রু ভাষায় ‘ইয়াশার’ শব্দের অর্থ ‘সোজা’ বা ‘ন্যায়নিষ্ঠ’। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকোটের দল পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল পেতে পারে ২৪টি আসন। মরক্কো থেকে আসা ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকোট সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় বলে বিবেচিত। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের সময় তাঁর ছেলে গাল নিহত হওয়ার পর তার প্রতি জনসমর্থন আরো বেড়ে যায়। একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান।

৬৬ বছর বয়সী আইজেনকোট ২০২২ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। তখন তিনি সাবেক আরেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজের সঙ্গে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে তার অবস্থান খুব বেশি স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। সমাবেশে আইজেনকোট বলেন, ইসরায়েলের জন্য এখন একটি সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ জায়নবাদী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দরকার যেখানে ভিন্ন চিন্তার মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা কৌশল নেই। তার দাবি, 'এমন নেতৃত্বকে সরাতে হবে, যারা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।' সমাবেশে তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
 

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছুঁই ছুঁই

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছুঁই ছুঁই
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও উদ্ধার অভিযান চলছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ।

তিনি আরা জানান, লা গুয়াইরায় ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যারা নিজেরা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন বা স্বজনদের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছেন, তাদের যুক্ত করলে এই সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার হতে পারে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য সংগ্রাম করছিলেন। এর মধ্যেই রাজধানী কারাকাসে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়ে, হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায় এবং ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

উদ্ধারের আশা যখন প্রায় শেষ হয়ে আসছিল, তখন জর্ডানের একটি সিভিল ডিফেন্স দল কারাকাসের একটি ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উদ্ধারকর্মীদের আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়। জর্দানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।

ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধার পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা গত শনিবার শেষ হয়ে গেছে। তবুও বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসের উত্তরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী লা গুয়াইরায় খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে মৌলিক সেবাগুলো ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সী বিক্রেতা ড্যানিয়েলা আরমাস বলেন, ‘এখানে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, কিন্তু খাবারের জন্য মানুষ প্রায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে।’ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে সরকারের ধীর প্রতিক্রিয়ায় অনেক ভেনেজুয়েলান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা আগামী ছয় মাসে ৩০ হাজার মানুষের জন্য ত্রাণ ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার সহায়তা চেয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেইয়ার সতর্ক করে বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে রয়েছে। ভূমিকম্পের আগে টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকিও বেড়েছে।

ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে জীবিতদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে অনেক ভেনেজুয়েলান তাদের স্বজনদের দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপ, হাসপাতাল ও মর্গে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার যন্ত্রণা তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নিজের বোন সোরাইদাকে খুঁজতে থাকা রোসানা লুনা বলেন, ‘কিছুই না জানাটা সবচেয়ে কঠিন। তখন বারবার মনে হয়, আমি কী করব? কোথায় তাকে খুঁজব?’

বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা সোমবার লা গুয়াইরা বন্দরের কাছে অস্থায়ী মর্গের সামনে সারিবদ্ধ কালো মরদেহের ব্যাগ দেখতে পান। সেখানে অনেক মানুষ স্বজনদের খোঁজে বা মরদেহ শনাক্ত করতে ভিড় করছিলেন। ৩৭ বছর বয়সী ডারভিন সিলভা জানান, ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে আটকা পড়া তার মায়ের মরদেহ উদ্ধারে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘খালি হাতে, হাতুড়ি ও খননযন্ত্র দিয়ে তাকে বের করতে যে পরিমাণ কষ্ট করতে হয়েছে, তা কল্পনাও করা যায় না।’ মায়ের মরদেহ উদ্ধারের পর আবেগাপ্লুত ডারভিন বলেন, ‘এখন অন্তত আমি তাকে প্রাপ্য শান্তিতে বিদায় জানাতে পারব।’ 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা এখনও জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা নিয়ে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের মতে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগে দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান।

উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য বিশ্বের ২৭টি দেশ প্রায় ৪০টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। জাতিসংঘের ভেনেজুয়েলা সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা জানান, এসব দলে ২ হাজারের বেশি সেনা ও উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর রয়েছে।

মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জাতিসংঘ ১০ হাজার মরদেহের ব্যাগ সরবরাহ করছে। তবে সংস্থাটি আশা করছে, চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে কম হবে। রাজধানী কারাকাসের একমাত্র সরকারি কবরস্থানে দুটি দাহ চুল্লি দিনরাত পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। অন্যদিকে, লা গুয়াইরা বন্দরের অস্থায়ী মর্গে এখনও বহু মানুষ তাদের স্বজনদের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্বজনদের খোঁজে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন উইলকার মোল্লালা। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার সেখানে আছে। আমাকে বলা হয়েছে, আমার বোন ও তার সন্তানরা, পাশাপাশি আমার ভাইয়ের সন্তানরাও সেখানে রয়েছে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, ‘আমাদের পরিবারে ১১ জন সদস্য ছিল। তাদের মধ্যে শুধু আমরা দুজন বেঁচে গেছি, কারণ ঘটনার সময় আমরা কাজে বাইরে ছিলাম।’ ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে শোক, অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকট আরো গভীর হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ এবং অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের ভাগ্য সম্পর্কে কোনো খবর জানে না।