• ই-পেপার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

জার্মানিকে ‘প্যারা’ দিয়ে প্রথমার্ধে এগিয়ে প্যারাগুয়ে

‘১০০% ফিট’ নেইমারকে না খেলানোর কারণ জানালেন আনচেলত্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
‘১০০% ফিট’ নেইমারকে না খেলানোর কারণ জানালেন আনচেলত্তি
ছবি: সংগৃহীত

‘নেইমার, নেইমার’ চিৎকারে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে তুললেন ব্রাজিল সমর্থকরা। তা দেখে নেইমারও সাইডলাইনের পাশে কিছুক্ষণ ওয়ার্ম আপ করলেন। 

সবাই ধরেই নিয়েছিলেন তাদের প্রিয় খেলোয়াড়কে শিগগিরই মাঠে নামাবেন কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু শতভাগ ফিট থাকলেও নেইমারকে খেলানোর প্রয়োজন মনে করলেন না ব্রাজিল কোচ। নেইমারের পরিবর্তে আনচেলত্তি নামালেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে। শেষ পর্যন্ত এই বদলিই ব্যবধান গড়ে দিলেন। 

যোগ করা সময়ে মার্তিনেল্লির গোলেই ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন গল্প লিখল ব্রাজিল। জাপানকে বিদায় করে সেলেসাওরা উঠে গেল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বে। 

শতভাগ ফিট থাকার পরও নেইমারকে বেঞ্চে দেখে ব্রাজিলের অনেক সমর্থক বিস্মিত হন। তবে ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি জানালেন, নেইমারকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল তার। তবে সেটি অতিরিক্ত সময়ে।  

আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি নেইমারকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই (৯০ মিনিট + যোগ করা সময়) ম্যাচ জিতে যাওয়ায় তাকে নামানোর দরকার পড়েনি।’

আনচেলত্তি আরো জানান, নকআউট পর্বের ম্যাচে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা মাথায় রেখে তিনি দল সাজিয়েছিলেন। তাই নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারকে সেই সময় কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল।

দীর্ঘ চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপ দিয়েই প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিল দলে ফিরেছেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বদলি নেমে প্রায় ১৫ মিনিট খেলেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। অল্প সময়েই তিনটি গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। 

আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ফিট। তাই পরবর্তী ম্যাচে তার ভূমিকা আরো বাড়তে পারে।

শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

যোগ করা সময়ে মার্তিনেল্লির গোল, জাপানকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
যোগ করা সময়ে মার্তিনেল্লির গোল, জাপানকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল
গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোল উদাযপন। ছবি: ফিফা

ব্রাজিল ২-১ জাপান

রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে মাঠে বসে পড়লেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। কার্লো আনচেলত্তি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে চশমাটা খুলে ফেললেন। ব্রাজিল কোচের অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট, তিনি যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন!

মার্তিনেল্লি অতীতে আর্সেনালের হয়ে অনেক গোল করেছেন। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছিল ম্যাচ জেতানো গোল। তবে আজকেরটিই নিশ্চয় এখন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারসেরা। যোগ করা সময়ে তার গোলেই যে জাপানকে বিদায় করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বে পৌঁছে গেল ব্রাজিল। 

প্রথমার্ধে সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে কাসেমিরোর দুর্দান্ত সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর শেষ দিকে আনচেলত্তির মাস্টারক্লাস। হিউস্টনের দর্শকেরা নেইমারকে মাঠে দেখতে চাইলেও আনচেলত্তি নামান স্ট্রাইকার মার্তিনেল্লিকে।

যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে, তখনই মার্তিনেল্লির বাজিমাত। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে বল পেয়ে জাপানের জাল কাঁপান তিনি। এর মধ্য দিয়ে এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রতিনিধিদের বিদায় নিশ্চিত হয়।

শেষ ষোলো পর্বে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। 

দুই যুগ পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জিতল ব্রাজিল। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিতেছিল তারা। সেই ম্যাচেরও ফল ছিল ২-১।

শতভাগ ফিট থাকার পরও নেইমার জুনিয়রকে শুরুর একাদশে রাখেননি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই খেলতে নামে সেলেসাওরা।

হিউস্টনে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল ব্রাজিল। কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় জাপান। ২৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত এক শটে ব্রাজিল গোলকিপার আলিসন বেকারকে পরাস্ত করেন জাপানের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাইশু সানো। 

এই গোল হজমের দায়টা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানিলোর। তার ভুল পাসেই বল পেয়ে জোরালো এক আক্রমণ চালায় জাপান। সেখান থেকেই দলকে এগিয়ে দেন সানো। দেশের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। 

আজ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-মাথেউস কুনিয়াদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি জাপান। ১৪ মিনিটে কুনিয়ার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান জাপানের গোলকিপার জিয়ন সুজুকি। কর্নার থেকেই বল পেয়ে বাঁকানো শট নিয়েছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস। কিন্তু তার শট দূরের পোস্ট দিয়ে চলে যায়।

১৫ মিনিট জুনিয়া ইতোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন কাসেমিরো। এবারের বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখলেন এই মিডফিল্ডার। 

হাইড্রেশন ব্রেকের (পানি পানের বিরতি) আগে আরো কয়েকটি গোছালো আক্রমণ করেছিল ব্রাজিল। কিন্তু জাপানের জমাট রক্ষণ সব কটি সুযোগ নস্যাৎ করে দেয়। 

FIFA
জাপানের তানাকাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন ব্রাজিলের কুনিয়া। ছবি: ফিফা

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য হন্যে হয়ে ওঠে ব্রাজিল। আক্রমণভাগকে আরো শক্তিশালী করতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে তরুণ এনদ্রিককে নামান। তাতেই গতি বাড়ে ব্রাজিলের।

সুফল পায় ৫৬ মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসের পাস থেকে বক্সের ডান পাশ থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করেন কাসেমিরো। 

সমতায় ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যে এগিয়েও যেতে পারত ব্রাজিল। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের শট বারে লেগে ফিরলে হতাশ হতে হয়। তবে শেষ দিকে আর ভাগ্য সহায় হয়নি জাপানের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

কাসেমিরোর গোলে সমতায় ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
কাসেমিরোর গোলে সমতায় ব্রাজিল
কাসেমিরোর গোল উদযাপন। ছবি: ফিফা

ব্রাজিল ১-১ জাপান (৬৫ মিনিট পর্যন্ত)

প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখে খলনায়ক বনে যেতে বসেছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হলেন নায়ক, দলের ত্রাতা। কাসেমিরোর দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফিরল ব্রাজিল। 

প্রথমার্ধে সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য হন্যে হয়ে ওঠে ব্রাজিল। আক্রমণভাগকে আরো শক্তিশালী করতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে তরুণ এনদ্রিককে নামান। তাতেই গতি বাড়ে ব্রাজিলের।

সুফল পায় ৫৬ মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসের পাস থেকে বক্সের ডান পাশ থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করেন কাসেমিরো। 

সমতায় ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যে এগিয়েও যেতে পারত ব্রাজিল। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের শট বারে লেগে ফিরলে হতাশ হতে হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সানোর গোলে স্তব্ধ ব্রাজিল, এগিয়ে থেকে বিরতিতে জাপান

ক্রীড়া ডেস্ক
সানোর গোলে স্তব্ধ ব্রাজিল, এগিয়ে থেকে বিরতিতে জাপান
গোলের পর জাপানিদের উচ্ছ্বাস, ব্রাজিলিয়ানদের হতাশা। ছবি: ফিফা

ব্রাজিল ০-১ জাপান (প্রথমার্ধ শেষে)

স্তব্ধ হিউস্টন স্টেডিয়ামে থাকা হাজার হাজার হলুদ জার্সিধারী দর্শক, স্তব্ধ বিশ্বজুড়ে ব্রাজিলের কোটি কোটি ভক্ত।

বদলে যাওয়া জাপানকে নিয়ে ব্রাজিল যে শঙ্কায় ছিল, সেটিই হয়তো বাস্তবায়ন হতে চলেছে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচের প্রথমার্ধে যে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে জাপান! ব্যবধানটা বিরতির পর ধরে রাখতে পারলেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়বে ব্রাজিল।

২৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত এক শটে ব্রাজিল গোলকিপার আলিসন বেকারকে পরাস্ত করেন জাপানের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাইশু সানো। 

এই গোল হজমের দায়টা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানিলোর। তার ভুল পাসেই বল পেয়ে জোরালো এক আক্রমণ চালায় জাপান। সেখান থেকেই জাপানকে এগিয়ে দেন সানো। দেশের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। 

শতভাগ ফিট থাকার পরও নেইমার জুনিয়রকে শুরুর একাদশে রাখেননি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই খেলতে নামে সেলেসাওরা।

কিন্তু আজ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-মাথেউস কুনিয়াদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি জাপান। ১৪ মিনিটে কুনিয়ার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান জাপানের গোলকিপার জিয়ন সুজুকি। 

কর্নার থেকেই বল পেয়ে বাঁকানো শট নিয়েছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস। কিন্তু তার শট দূরের পোস্ট দিয়ে চলে যায়।

১৫ মিনিট জুনিয়া ইতোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন কাসেমিরো। এবারের বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখলেন এই মিডফিল্ডার। 

হাইড্রেশন ব্রেকের (পানি পানের বিরতি) আগে আরো কয়েকটি গোছালো আক্রমণ করেছিল ব্রাজিল। কিন্তু জাপানের জমাট রক্ষণ সব কটি সুযোগ নস্যাৎ করে দেয়। 

পিছিয়ে পড়ার পর সমতায ফিরতে মরিয়া হয়ে ওটে ব্রাজিল। কুনিয়া ও গিমারায়েস একাধিক সুযোগও তৈরি করেছিলেন। কিন্তু শটে তেমন জোর ছিল না। জাপানের গোলকিপারকেও কোনো বেগ পেতে হয়নি। বল সরাসরি গেছে তার হাতে।