• ই-পেপার

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংবাদমাধ্যম কাজ করতে পারে : স্পিকার

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

বাসস
বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা
ছবি : পিএমও

চীনের দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের (জিএসিসি) মন্ত্রী ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সেক্রেটারি সুন মেইজুন রেলওয়ে স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় শিশু-কিশোরেরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীকে লালগালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

রেলস্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে চীনের দিয়াওইউতাই গেস্টহাউসে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীসহ সফরসঙ্গীরা এই গেস্টহাউসেই থাকবেন।

এর আগে স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৫৮মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাই স্পিড ট্রেনযোগে (বুলেট ট্রেন) বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন; প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

বেইজিংয়ে আসার আগে সকালে চীনের দালিয়ানে ‘দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষ করে সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে মালয়েশিয়া ও চীনে এটি তাঁর প্রথম সফর।

ডা. জাহেদ প্রসঙ্গে ভারতের ব্যাখ্যা অসন্তোষজনক : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

অনলাইন ডেস্ক
ডা. জাহেদ প্রসঙ্গে ভারতের ব্যাখ্যা অসন্তোষজনক : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা প্রসঙ্গে ভারতের ব্যাখ্যাকে অসন্তোষজনক আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে এ ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে ঢাকা।

আজ বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ. কে. এম শহীদুল করিম এ মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে ভারতীয় পক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়।

মুখপাত্র বলেন, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) একটি বৈঠকে ডা. জাহেদ উর রহমান যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, সে বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে (ডা. জাহেদ) নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।

চলতি মাসের শুরুতে আইওআরএর একটি বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে প্রবেশকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ডা. জাহেদ উর রহমানকে বাধা দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি মন্তব্য সংক্রান্ত অন্য প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, প্রতিটি রাষ্ট্রেরই তার ভূখণ্ডে বসবাসকারী সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তামাকপণ্য সহজলভ্যই থাকছে, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
তামাকপণ্য সহজলভ্যই থাকছে, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্য সামান্য বৃদ্ধি করা হলেও তামাকপণ্য এখনো সহজলভ্যই থেকে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় সিগারেটের দাম খুব কম বাড়ানো হয়েছে, ফলে তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত হওয়ার বদলে তামাক কম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ পাবে।

আজ বুধবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডব়্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা : প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেট প্রণয়নের এই সময়টি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা বাজারে বিদ্যমান চার স্তরের সিগারেটকে তিন স্তরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিশেষ করে তরুণদের কাছে তামাকপণ্য কম সহজলভ্য হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে। অথচ দেশে বিক্রি হওয়া প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেটই এই স্তরের। মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি হওয়ায় এ ধরনের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি তামাক ব্যবহার কমাতে কার্যকর হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে নিম্নস্তরের সিগারেট প্রতি শলাকা ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে নতুন মূল্য কাঠামোর কারণে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতি শলাকায় প্রায় ৮০ পয়সা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেট বিক্রি হয়েছিল ৬৮.৮৯ বিলিয়ন শলাকা। এই হিসাবে কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সরকার বিপুল সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি)-এর ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব নতুন নিকোটিনজাত পণ্য কার্যত বৈধতা পাচ্ছে। এতে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে এবং তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্নস্তরের সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর ও মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে, ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সেমিনারে বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আগামী প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় আরও কার্যকর করনীতি ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের মতে, তামাকপণ্য সহজলভ্য থাকলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। তাই বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার এখনই উপযুক্ত সময়।
 

দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা থাকছে
প্রতীকী ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গত পাঁচ দশকে এ ধরনের দিনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের যেসব দেশে মানুষ সবচেয়ে বেশি সময় ঝুঁকিপূর্ণ তাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে বসবাস করছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।

বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার দিন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে বিশ্বে বছরে গড়ে ১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা দেখা গেলেও ২০১৬ থেকে ২০২৫ সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ দিনে। ১৯৭০ সালের পর থেকে বিশ্বে রেকর্ড হওয়া এমন দিনের প্রায় ৬৪ শতাংশের পেছনে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। ২০১৬-২০২৫ সময়ে দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে এ সংখ্যা ছিল ১৭৫ দিন। অর্থাৎ এখন বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় দেশের মানুষ এমন তাপ-আর্দ্রতার মুখে থাকছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে অতিরিক্ত ৩০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা যুক্ত হচ্ছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ দিন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার অংশ ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

দেশের বড় শহরগুলোতে এর প্রভাব আরো স্পষ্ট। রাজধানী ঢাকায় বছরে গড়ে ২১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা অনুভূত হয়। এর মধ্যে ২৫ দিন সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে বছরে গড়ে ২১১ দিন এমন তাপমাত্রা দেখা যায়, যার মধ্যে ৩৬ দিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যুক্ত হয়েছে। খুলনায় এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—বছরে গড়ে ২২৪ দিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্চ তাপমাত্রাই নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও মানবদেহের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ঘামের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে পানিশূন্যতা, তাপজনিত অবসাদ, হিট স্ট্রোক, হৃদরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং আগে থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. শিমুল মজুমদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতা শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ফেলছে। শিশুদের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। আগের বছরের তুলনায় অ্যাজমা ও সংশ্লিষ্ট শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু তাপজনিত অসুস্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘস্থায়ী গরমের সময় বেশি পানি পান করতে গিয়ে অনেকেই অনিরাপদ পানির উৎসের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।

গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হাসান বলেন, বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। গরমের সময় মানুষ বেশি পানি পান করলেও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

বিশ্বব্যাপী চরম তাপমাত্রা ইতিমধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী আবহাওয়া-সংক্রান্ত দুর্যোগগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বে চরম তাপমাত্রাজনিত কারণে আড়াই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সতর্কবার্তা, বাড়তে থাকা আর্দ্রতা তাপপ্রবাহকে আরো বিপজ্জনক করে তুলছে এবং অনেক অঞ্চলে পরিস্থিতিকে মানবদেহের সহনক্ষমতার সীমার কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা জোরদার, শ্রমিক সুরক্ষা বাড়ানো, নগর এলাকায় শীতলীকরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহনশীল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন জরুরি।