• ই-পেপার

শতাধিক দোকান উচ্ছেদ, মালিকানা নিয়ে পৌরসভা-সওজ দ্বন্দ্ব

ময়মনসিংহে বজ্রাঘাতে কলেজছাত্রীসহ দুজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে বজ্রাঘাতে কলেজছাত্রীসহ দুজনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বজ্রাঘাতে এক কলেজছাত্রীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন পুটিজানা ইউনিয়নের দেবগ্রামের ঝুটন চন্দ্র সেনের মেয়ে তুলী রানী সেন (১৬)। সে ফুলবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। আরেকজন নিজপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক (৫০)।

স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যার দিকে তুলী রানী বাড়ির পাশে হাঁটছিল। ওই সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। এক পর্যায়ে হঠাৎ বজ্রপাতে তুলী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

কালাদহ ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান নামের একজন বাসিন্দা জানান, নিজপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক স্থানীয় বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি।

কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত, চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত, চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ
কুমিল্লায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত।

কুমিল্লায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত ও মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুর রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।  

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের চৌদ্দগ্রামের গুণবতী ও নাঙ্গলকোটের হাসানপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৃথক দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।  

নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে এ তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে হাসানপুর স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আপ লাইনে আটকা পড়ে।’

এদিকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকলের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ডাউন লাইন দিয়ে গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে হাসানপুরের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথে ৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে দুই লাইনেই ট্রেন আটকা পড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

পাবনা

প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী হেফাজতে

পাবনা প্রতিনিধি
প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী হেফাজতে
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি এলাকায় পাপিয়া খাতুন (৩৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী হুমায়ুন কবির সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে দোগাছি এলাকার বিল্ডিং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাপিয়া খাতুন একই এলাকার আব্দুর রশিদ শেখের মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে পাপিয়ার সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। গত কোরবানির ঈদের আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন তিনি।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি হুমায়ুন কবির অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। মঙ্গলবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতেও তাদের বাসা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রতিবেশী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাপিয়াকে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে দেখা যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের চাচা আসলাম হোসেন অভিযোগ করেন, পাপিয়া নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে তাদের বিশ্বাস হয় না। এ ছাড়া মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য ছিল।

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লায় বোন-ভাগিনার পিটুনিতে প্রাণ গেল ভাইয়ের

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় বোন-ভাগিনার পিটুনিতে প্রাণ গেল ভাইয়ের
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বাঁশ কাটা নিয়ে বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনাদের পিটুনিতে ইব্রাহিম মরণ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িত নাছিমা বেগম নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছইর গ্রামের মধ্যমপাড়া হাজী সৈয়দ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ইব্রাহিম উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছইর গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে। আটক নাছিমা বেগম তার আপন বোন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বোন নাছিমা বেগমের সঙ্গে পাশের বাড়ির কোব্বাত মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাছিমা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ভাইদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়তেন। বোন ও তার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছোট ভাই মহিন নাঙ্গলকোট সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে চলে গেলেও ইব্রাহিম পৈতৃক বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি বাঁশ কাটেন নাছিমা বেগম। এ নিয়ে ভাই বোনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নাছিমা বেগম, তার স্বামী কোব্বাত আহম্মদ ও ছেলে অলি আহম্মদ মিলে ইব্রাহিমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এ সময় তলপেট ও অণ্ডকোষে গুরুতর আঘাত পেয়ে ইব্রাহিম ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত কয়েকজনে তাকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, ‘ফুফুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা দীর্ঘদিন নানার বাড়িতে ছিলাম। ১ বছর আগে আমরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসি। বেশ কিছুদিন ধরেই ফুফু আমাদের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ মাকে মারধর করে আসছিলেন। আজ সকালে বাঁশ কাটার প্রতিবাদ করায় ফুফু, ফুফা আর ফুপাতো ভাই মিলে আমার বাবাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বোন নাছিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’