দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সমাজকর্মীরা। তারা বলেছেন, কেবল আইন দিয়ে শিশু নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকটির আয়োজন করে ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্প্রতি নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা তার মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন। তার বক্তব্য দেওয়ার সময় অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (উজ্জ্বল), ওরাকল কান্ট্রি ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা, আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. তৌহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা আকতার, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, ওজিএসবি সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস’র মহাসচিব ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন আই খান, মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সাকলায়েন রাসেল এবং সাংবাদিক মো. মাহতাব উদ্দিন।
বৈঠকে বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে শিশু নির্যাতনের বর্তমান পরিসংখ্যান ও এর পেছনের মূল কারণগুলো বিশদভাবে তুলে ধরেন। অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নৃশংস শিশু নির্যাতনের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বা বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়।
গোলটেবিল বৈঠকের বক্তারা বলেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই আলোচনা যেন শুধু এই কক্ষেই সীমাবদ্ধ না থাকে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনদের বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও মতামতকে লিখিত সুপারিশ আকারে তুলে ধরেন সঞ্চালক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
উপস্থিত অতিথিরা এই সুপারিশগুলো দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পৌঁছানোর তাগিদ দেন। একই সঙ্গে এই সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ও সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।






