• ই-পেপার

রাজধানীতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় পুলিশ

রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ২৬ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১১৮

বাসস
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ২৬ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১১৮
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতাকর্মী রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দিনব্যাপী মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে রমনা এলাকা থেকে দুজন, ধানমন্ডি থেকে ১০ জন, বংশাল থেকে একজন, খিলক্ষেত থেকে দুজন, কদমতলী থেকে একজন, মোহাম্মদপুর থেকে আটজন, মিরপুর থেকে একজন এবং তুরাগ থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে একজন তালিকাভুক্ত ও একজন তালিকাবহির্ভূত চাঁদাবাজ রয়েছেন। এ ছাড়া সন্ত্রাসী, দস্যু, ছিনতাইকারী ও ডাকাতি-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ৩৩ জন এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথক অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার দুজন, চুরির মামলার দুজন এবং মাদক মামলার ছয়জন আসামি আছেন।

পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৮২

অনলাইন ডেস্ক
ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৮২
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিট। 

মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, গতকাল সোমবার দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন তালিকাভুক্ত ও একজন তালিকাবহির্ভূত চাঁদাবাজ রয়েছেন। এ ছাড়া সন্ত্রাসী, দস্যু, ছিনতাইকারী ও ডাকাতি সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ৩৩ জন এবং মাদক কারবারে জড়িত ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথক অভিযানে আরো ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় ২ জন, চুরির মামলায় ২ জন এবং মাদক মামলায় ৬ জন রয়েছে।

জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার খেলা দেখতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার খেলা দেখতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ফকিরাপুলে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী আরাফাত রহমান শাওন (২০) নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) রাত ১১টার দিকে ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট (আইইউবি) ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত গাজীপুর টঙ্গী পশ্চিম বড় দেওড়া গ্রামের গাড়ি ব্যবসায়ী মো. লুৎফুর রহমানের ছেলে। তিনি হাতিরঝিল মীরবাগে নিজবাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।

জানা গেছে, সোমবার রাতে বাবার মোটরসাইকেল নিয়ে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার ম্যাচ দেখতে যাচ্ছিলেন। ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির সামনে পৌঁছালে এক পথচারী মোটরসাইকেলের সামনে চলে আসেন। মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি এবং পথচারী উভয়ই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের বাবা লুৎফর রহমান জানান, সোমবার রাতে আমার মোটরসাইকেল নিয়ে শাওন আর্জেন্টিনার খেলা দেখার উদ্দেশ্যে ওয়ারিতে যাচ্ছিল। তার বন্ধুরাও আরেকটি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিল। আনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির সামনে পৌঁছালে হঠাৎ শাহজাহান (৪৫) নামের এক পথচারী আচমকা শাওনের মোটরসাইকেলের সামনে চলে আসেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে শাওন ও পথচারী উভয়েই গুরুতর আহত হন। পরে দুজনকেই তার বন্ধুরা ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তিনি জানান, ছেলেকে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার জন্য বেশ কিছু টাকা-পয়সা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুন ভিসা রেডি হওয়ার কথাও ছিল। তার আগেই ছেলে আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেল।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ‘নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আহত জরুরি বিভাগে শাহজাহান চিকিৎসা নিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মতিঝিল থানা পুলিশ অবগত আছেন।’

ঢাকার সড়ক থেকে সরছে অটোরিকশা

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার সড়ক থেকে সরছে অটোরিকশা
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পর সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে ট্রাফিক বিভাগকে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এসব আলোচনায় অটোরিকশার চলাচল নিয়ে বিস্তারিত বিষয় ও সমস্যাগুলো উঠে আসে। কিন্তু একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তবে আলোচনায় উপস্থিত দুই পক্ষই অন্তত প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আগামী মাসে একটি বৈঠকের কথা রয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের। আলোচনায় উপস্থিত থাকা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ দুই পক্ষই চায়, ঢাকার প্রধান সড়কে আর অটোরিকশা চলাচল করতে দেওয়া না হোক।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় এআই ক্যামেরা চালুর পর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সিগন্যাল অমান্য, স্টপলাইন ভাঙা, উল্টো পথে চলাচল ও হঠাৎ লেন পরিবর্তনের মতো ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর প্রায় সব ধরনের যানবাহনকে একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্যামেরার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে ই-প্রসিকিউশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে।

তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এসব যানবাহনের বড় অংশের নেই কোনো বৈধ নিবন্ধন, নেই নির্ধারিত নম্বরপ্লেট, এমনকি চালকদেরও নেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স। ফলে এআই ক্যামেরায় আইন ভঙ্গের দৃশ্য ধরা পড়লেও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। অটোরিকশার বিষয় উঠলেও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সেই অনুযায়ী আগামী মাসের ১৫ তারিখের দিকে সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই বৈঠকে অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত হলে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল আগেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে জনবল সংকট ও ডাম্পিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।’