• ই-পেপার

হত্যা মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ছোট ভাইয়ের, গ্রেপ্তার দুজনই

সম্পত্তির লোভ

মায়ের মাথায় ইটের আঘাত ও পায়ের রগ কাটার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

নওগাঁ প্রতিনিধি
মায়ের মাথায় ইটের আঘাত ও পায়ের রগ কাটার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

নওগাঁর ধামইরহাটে সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার উদ্দেশে বৃদ্ধ মায়ের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগে এক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ছেলে প্রথমে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযুক্ত ওই ছেলের নাম আসাদুজ্জামান শামীম (৩৭)। তিনি উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের বাসিন্দা ৬৭টি বছর বয়সী আনজুমান আরার নামে কিছু জমিজমা রয়েছে। ওই সম্পত্তি জোরে নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে আসাদুজ্জামান শামীম দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন শামীম হত্যার উদ্দেশে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আনজুমান আরা চিকিৎসা নেন। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে গেলে গত ১৪ জুন পুনরায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এসময় শামীম ধারালো চাকু দিয়ে তার ডান পায়ের রগ কেটে দেয় বলে গত ২৪ জুনের মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নজরে আনা হলে তার নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকদিনের ধারাবাহিক অভিযানের পর বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসাদুজ্জামান শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

টেকনাফে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারী কারবারি আটক

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
টেকনাফে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারী কারবারি আটক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কেরুনতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফের কেরুনতলী সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুই নারীকে তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

আটক নারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ১৫

ভোলা প্রতিনিধি
তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ১৫
সংগৃহীত ছবি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুইটি ড্রেজার ও তিনটি বাল্কহেডসহ ১৫ জনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. সালমান বিন শওকত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ড ভোলা বেইসের সদস্যরা বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাঁসেরচর সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে দুইটি ড্রেজার, তিনটি বালুবাহী বাল্কহেড এবং ১৫ জনকে আটক করা হয়।

পরে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক ব্যক্তিদের ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. স্বপন (৪৮), মো. জাহাঙ্গীর আলম (২২), মো. মেহেদী হাসান (২৪), মো. আল-আমিন (২৬), মো. রাসেল (৩২), মো. আব্দুল বাসেদ (৫০), মো. সুমন (২০), মো. নোমান (১৯), মো. জসিম হাওলাদার (৪০), মো. কবির হোসেন (৩৫), মো. মফিজুল (৫৬), মো. ইসমাইল (৩৫), মো. রিয়াদ (২০), মো. আলমগীর (৪০) ও মো. রাসেল (২৫)। তাদের বাড়ি ভোলা, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা ড্রেজার ও বাল্কহেডগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট মো. সালমান বিন শওকত বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ফসলি জমি এবং বসতভিটা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শিশু জায়ান হত্যার বিচারের দাবিতে পটিয়ায় মানববন্ধন

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শিশু জায়ান হত্যার বিচারের দাবিতে পটিয়ায় মানববন্ধন
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু জায়ান আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে পটিয়া থানার মোড় এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহত শিশুর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘জায়ান হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ এবং ‘শিশু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’—এমন নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।

সমাবেশে নিহত শিশুর মা জোবাইদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পৃথিবীর আর কোনো মাকে যেন এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’

নিহত জায়ানের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফরিদ আহমদ, মফিজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন, জমির উদ্দীন আজাদ, ছাত্রদল নেতা আলী হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তারা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।

একই কর্মসূচি থেকে সম্প্রতি গোবিন্দারখীল এলাকায় নিহত ব্যবসায়ী আবুল কাশেম হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়।

পরে নিহত শিশুর বাবা-মা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে ইউএনও ফারহানুর রহমান বলেন, ‘শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। কোনো অপরাধী যাতে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে পটিয়া পৌরসদরের পূর্বপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু জায়ান আবরার। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা পর প্রতিবেশীর বাড়ির পেছন থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার নৃশংসতার বিষয়টি সামনে আসে। মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।