• ই-পেপার

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় লক্ষ্মীপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ভাঙনকবলিত তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে এলজিইডি

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
ভাঙনকবলিত তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে এলজিইডি
ছবি: কালের কণ্ঠ

উজানের পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের কবলে পড়া রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বুধবার (২৪জুন)  দুপুরে এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ভাস্কর কান্তি চৌধুরী, ভবন ব্যবস্থাপনা ও সেতু বাস্তবায়ন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবাদত আলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী তাপস চক্রবর্তী উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল বাঁশের পাইলিং দিয়ে নির্মিত স্পার এবং নৌকাযোগে তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা নদীর গতিপ্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ডিজাইন) উম্মে মাহফুজা হক, রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব, নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এলজিইডি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মূসা, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী এবং উপজেলা বিএনপির নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মাবুসহ অন্যরা।

পরিদর্শন শেষে এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত বিশেষজ্ঞ দলের মতামত নিয়ে তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় চলমান ভাঙন ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবাদত আলী বলেন, ‘গত বছর বুয়েটের এক প্রকৌশলীর পরামর্শে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং করে বাঁধ সুরক্ষার কাজ করা হয়েছিল। সীমিত ব্যয়ের এ উদ্যোগ চলতি বছরের তীব্র স্রোতের মধ্যেও বাঁধকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। তবে এবারও ভাঙন দেখা দেওয়ায় আমরা সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বুয়েটের নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করা হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।’

এদিকে উজানের ঢল কমে আসায় তিস্তা নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বুধবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

হাত ভেঙে ঝাড়-ফুঁকেই চলছিল চিকিৎসা

বাউলশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা গ্রুপ

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
বাউলশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা গ্রুপ
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘পরাণের বান্ধব রে’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জে যাই’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’, ‘আমার ভাটির গাঙের নাইয়া’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী দেশবরেণ্য বাউল সাধিকা কাঙ্গালিনী সুফিয়া। ১১ দিন আগে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে তার বাঁ হাত ভেঙে যায়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে প্রতিবেশীদের ঝাড়-ফুঁক ও গাছগাছড়ার চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয় তাকে। তবে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২৪ জুন) সকালে তাকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাতে প্লাস্টার করা হয়। বিকেলে তাকে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর বিলপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে আর্থিক সংকটের কারণে কাঙ্গালিনী সুফিয়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না—এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তার সার্বিক চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এ সহযোগিতার খবরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া।

আজ বুধবার বিকেলে নিজ বাড়িতে কথা হয় এই খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গে। তিনি জানান, দুর্ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। বাথরুমে পড়ে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। রাতে জ্ঞান ফিরলে বাঁ হাতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং হাত নাড়াতে পারছিলেন না। ওই অবস্থাতেই রাত কাটান। পরদিন সকালে প্রতিবেশী নারী বিবি হাওয়ার কাছে গেলে তিনি ঝাড়-ফুঁক ও গাছগাছড়ার চিকিৎসা দেন।

কাঙ্গালিনী সুফিয়া বলেন, ‘সেদিন ঘরে কোনো টাকাও ছিল না। পাশে ছিল না আমার একমাত্র মেয়ে পুষ্পও। তাই ঝাড়-ফুঁক আর গাছগাছড়ার চিকিৎসাই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। তবে গত কয়েক দিনে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করছিলাম।’

তার শোবার ঘরে গিয়ে দেখা যায়, একটি সাধারণ চৌকি, চারদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ছড়ানো-ছিটানো কাপড়চোপড়। দেশের অন্যতম খ্যাতিমান এই শিল্পীর জীবনযাত্রার এমন চিত্র যে কাউকেই নাড়া দেয়।

প্রতিবেশী বিবি হাওয়া বলেন, ‘ঘটনার পরদিন সকালে কাঙ্গালিনী সুফিয়া আমার কাছে আসেন। আমি তার হাতের অবস্থা দেখে ঝাড়-ফুঁক ও কিছু গাছগাছড়ার চিকিৎসা দিই। আমি সামান্য কবিরাজি জানি, তাই মানবিক কারণেই তাকে সাহায্য করেছি।’

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার একমাত্র মেয়ে পুষ্প জানান, দুর্ঘটনার তিন দিন পর তিনি ঢাকার সাভার থেকে মায়ের কাছে আসেন। আর্থিক সংকটের কারণে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয় চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিভিন্নজনকে জানিয়েছিলাম। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার সকালে মাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার হাতে প্লাস্টার করা হয়।’

পুষ্প আরো জানান, সরকারি উদ্যোগে তার মায়ের নামে ২০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে সেখানে দুই কক্ষ, একটি বাথরুমসহ একটি টিনশেড পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণ করা হয় ‘সুফিয়া একাডেমি’র জন্য আরেকটি টিনশেড ভবন এবং বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। তবে এখনো মঞ্চের ছাদ ও বাউন্ডারি নির্মাণ হয়নি।

তিনি জানান, ‘সরকারি উদ্যোগে মা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা পেতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। বাংলা একাডেমি থেকে মাঝে মাঝে কিছু সহযোগিতা পাওয়া যায়। বয়সের কারণে মা এখন আর নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে পারেন না। ফলে আর্থিক সংকট নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মায়ের সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য একজন নার্স বা সহকারী প্রয়োজন। পাশাপাশি তার রচিত প্রায় ৫০০টি গান সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা জরুরি। কারণ এখনো তিনি নতুন গান রচনা করেন।’

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে পুষ্প বলেন, ‘মায়ের অসুস্থতার খবরে বসুন্ধরা গ্রুপ পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। আশা করছি, এবার মা সঠিক চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে প্রশাসন সব সময় রয়েছে। গত ঈদুল আজহায় তাকে ১০ হাজার টাকা এবং হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় আরো ৭ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। বসুন্ধরা গ্রুপও তার পাশে দাঁড়িয়েছে জেনে ভালো লাগছে।’

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : 

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার প্রকৃত নাম টুনি হালদার। তিনি ১৯৬১ সালে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা খোকন হালদার এবং মা টুলু হালদার।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রামীণ গানের আসরে তার সংগীতজীবনের সূচনা হয়। ১৫ বছর বয়সে বাউল সুধীর হালদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়, যদিও সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি। ১৯৭৮ সালে তিনি ওস্তাদ হালিম বয়াতির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘সুফিয়া খাতুন’ নাম ধারণ করেন।

তার গুরুর মধ্যে ছিলেন দেবেন থাপা ও গৌর মোহন্ত। প্রিয় শিল্পী ছিলেন লালন ফকির ও আব্দুল আলীম। তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ৫০০। তিনি ‘রাজ সিংহাসন’ চলচ্চিত্রে প্রথম কণ্ঠ দেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, চীন ও ভারতের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক কবি ফজল-এ-খোদা প্রথম তাকে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলেন। পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা মনোয়ার তাকে ‘কাঙ্গালিনী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এর পর থেকেই তিনি দেশজুড়ে ‘কাঙ্গালিনী সুফিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি ‘দেয়াল’, ‘নোনাজলের গল্প’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন। ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ গান অবলম্বনে নির্মিত ‘নোনাজলের গল্প’ নাটকে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে ‘বুকের ভেতর আগুন’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।

সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি প্রায় ৩০টি জাতীয় এবং ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

পার্শ্ববর্তী দেশের বৈষম্যের কারণে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে : ত্রাণমন্ত্রী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
পার্শ্ববর্তী দেশের বৈষম্যের কারণে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে : ত্রাণমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

পার্শ্ববর্তী দেশের বৈষম্যের কারণে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের নদীগুলোর পানি দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। 

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আমডালা খাল পুনঃখননের কার্যক্রম পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।  

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শুকনো মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করা যাবে, অন্যদিকে বর্ষাকালে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে ফসলহানি কমানো সম্ভব হবে। 

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাল শুধু খাল নয়, খালের মধ্যে পানি সংরক্ষণ করে রাখা যাবে শুকনো মৌসুমে। আবার বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা ও ফসলহানি কমবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল। একদিনে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে খাল খননে কোথাও কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করা। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি যদি স্বাবলম্বী করা যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও স্বাবলম্বী হবে।

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ, শিবালয় ইউএনও মনিষা রানী কর্মকার, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপুর আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য সত্যেন কান্ত পন্ডিত ভজন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 
 

১৭ বছর পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পাঠাগার ফের চালু

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
১৭ বছর পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পাঠাগার ফের চালু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘ ১৭ বছর পর উপজেলা পাঠাগার ফের চালু করেছে প্রশাসন। শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস এবং সৃজনশীল বিকাশে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সংস্কার শেষে পাঠাগারটি নতুন নামে যাত্রা শুরু করেছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসন চত্বরে পুরনো ভূমি অফিস ভবনে স্থাপিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ‘বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’-এর উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক শামীম শিবলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক, সুধীজন ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা এবং মানুষের সৃজনশীল বিকাশে পাঠাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পাঠাগারটি আবার চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।

ইউএনও তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রন্থাগার এখন শুধু গল্পের বই পড়ার জায়গা নয়। এখানে গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য প্রয়োজনীয় বইও রাখা হচ্ছে। মানুষকে আরো গ্রন্থাগারমুখী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

স্থানীয় তরুণরা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন গেমের প্রতি তরুণদের আসক্তির এই সময়ে পাঠাগার তাদের বইমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বই পড়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জ্ঞান সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু কালাম বলেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাশাপাশি আমাদের মতো প্রবীণরাও অবসর সময়ে এখানে এসে বই পড়ার সুযোগ পাবেন। এটি এলাকার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, একটি আলোকিত সমাজ গঠনে পাঠাগারের ভূমিকা অপরিসীম। মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে প্রতিটি এলাকায় উন্মুক্ত পাঠাগার প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত পাঠাগারটি খোলা থাকবে। পাশাপাশি নতুন বই সংযোজনের মাধ্যমে এর সংগ্রহ সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে পাঠাগারের ভবন ভেঙে ফেলার পর এটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ভবন সংকটের কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর এলাকাবাসী একটি পাঠাগার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। পুরনো পাঠাগারের প্রায় তিন হাজার বই নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তৎকালীন ইউএনও ফেরদৌস আরা নতুন পাঠাগার চালুর উদ্যোগ নেন। তবে তার অকাল মৃত্যুর কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাঠাগারটি পুনরায় চালু করা হলো।