• ই-পেপার

হাত ভেঙে ঝাড়-ফুঁকেই চলছিল চিকিৎসা

বাউলশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা গ্রুপ

হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযান, ৭ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযান, ৭ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জনকে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বুধবার সন্ধ্যায় দন্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার গোবরাকুড়া গ্রামের আব্দুল বারেক মুন্সীর ছেলে জিয়াউল হক মিন্টু (২৪), পূর্ব গোবরাকুড়া গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে সিয়াম (১৯), দক্ষিণ মনিকুড়া গ্রামের মো. হাবিবুল্লাহর ছেলে চাঁন মিয়া ওরফে সুলতান (৪২), হালুয়াঘাট উত্তর বাজার এলাকার মৃত হরমুজ আলীর ছেলে রিপন মিয়া (৪৮), মনিকুড়া গ্রামের মো. আবুল হাসেমের ছেলে মো. জয় (২৪), একই গ্রামের মৃত ফজল হকের ছেলে ইয়াসিন আকাশ (২৫) ও গাজিরভিটা ইউনিয়নের কাটাবাড়ি গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে  মো. আলাউদ্দিন (২৮)।
সাজাপ্রাপ্ত সবাই হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা বলে জানায় পুলিশ।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন ও বিক্রির সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ। এ সময় থানা পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামীদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ বলেন, "উপজেলায় মাদক নির্মূলে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।"

উল্লেখ্য, মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত সোমবার ১১ জন ও মঙ্গলবার ৪ জনকে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 

কুড়িগ্রাম

শিশু‌কে যৌন নির্যাত‌ন, বৃদ্ধকে গণপিটুনি দি‌য়ে পু‌লি‌শে দি‌ল বিক্ষুব্ধ জনতা

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কু‌ড়িগ্রাম
শিশু‌কে যৌন নির্যাত‌ন, বৃদ্ধকে গণপিটুনি দি‌য়ে পু‌লি‌শে দি‌ল বিক্ষুব্ধ জনতা
সংগৃহীত ছবি

​কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রীকে যৌন নির্যাত‌নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আইয়ুব আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গণ‌পিটু‌নি দি‌য়ে পুলিশে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। 

বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক আইয়ুব আলী ওই গ্রামের নছরউদ্দিনের ছেলে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্রী। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে বৃদ্ধ আইয়ুব আলী তার সঙ্গে ‘নানা-নাতনি’র সম্পর্ক গড়ে তোলে। বুধবার সকালে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় ওই বৃদ্ধ। এক পর্যায়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন ক‌রেন তিনি। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গি‌য়ে আইয়ুব আলীকে হাতেনাতে আটক করে। প‌রে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত বৃদ্ধকে গণধোলাই দি‌য়ে পু‌লি‌শের হা‌তে তু‌লে দেয়।

​রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় ‌শিশু‌টির বাবা বাদী হয়ে মামলা ক‌রে‌ছেন।

সেনাবাহিনীর অভিযান

খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য নিহত, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য নিহত, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় উপজেলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এতে একজন সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য নিহত এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার আনুমানিক দুপুর ২টায় পানছড়ি উপজেলায় এবং আজ সকালে রামগড় উপজেলায় এসব অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পরবর্তীতে পানছড়ি উপজেলার বরকলক এলাকা থেকে সশস্ত্র সংগঠনের দুই জন সদস্য দুটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১৩২ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে।

অন্যদিকে, রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় চালানো আরেক অভিযানে গোলাগুলির এক পর্যায়ে সশস্ত্র সংগঠনের একজন সদস্য নিহত হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, একটি পাইপগান ও ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

আইএসপিআর জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সব জাতিগোষ্ঠীর জান-মাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ডিসি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
ডিসি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচিত প্রবাহে প্রথমবার মুখ খুললেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়া সফর শেষে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘তিনি (ডিসি) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে বসে অচিরেই স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করব।’

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। চার দিনের সরকারি সফরে সিলেটে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক মাজার ইস্যু ও জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এ সময় প্রশাসন ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের (মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং আমরা সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর গতকাল সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমরা সবাই একমত। মাজার নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। খুব তাড়াতাড়ি মাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা এই ঘটনার (মাজার ইস্যু) সঙ্গে সংযুক্ত নয়। এটা আগে-পরেও হতে পারত।’

সম্প্রতি কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ প্রবাসী নিহতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। নিহতদের পরিবারকেও সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ 

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও বিশ্রামাগারসহ নানা বিষয়ে উদ্যোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স বসানো হয়। মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার কথা বলে পিতলের তিনটি ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসন।

এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রবিবার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসককে হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়। এরকম পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুর ২টায় হঠাৎ দরগাহে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার। সেখানে প্রশাসনের বসানো ৪টি দানবাক্স, দরগার মহিলা এবাদতখানার একটি দানবাক্স এবং সিলগালা করা তিনটি পিতলের ডেগের টাকা গণনা করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা গণনা শেষ প্রশাসন জানায়, চারদিনে এসব দানবাক্স ও ডেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা সোনা ও ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া গেছে। পরে প্রশাসন দানের সব টাকা সোনালী ব্যাংকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আরো ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়।