• ই-পেপার

বাসচাপায় প্রাণ গেল শ্যালক-দুলাভাইয়ের

কুমিল্লায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছুফুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মহাসড়কের ছুফুয়া এলাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মদিনা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের পেছনে মোটরসাইকেলটি ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী মারা যান। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

কুমিল্লার মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। দুই যুবকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়কে তীব্র যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

অনলাইন ডেস্ক
যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়কে তীব্র যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা।

শনিবার (৬ জুন) ভোর থেকে যমুনা সেতু গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ি ওভার ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে কখনো স্থবির, কখনো বা ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।

পুলিশ জানায়, ঈদের ছুটি শেষে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২টি জেলা থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকরা একযোগে রাজধানীর দিকে রওনা হওয়ায় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার ভোরে যমুনা সেতুর ঢাকাগামী লেনে ঢাকায় চলাচল করা দুটি ফিটনেসবিহীন বাস যমুনা সেতুর ওপর বিকল হয়ে যায়। এতে উত্তরবঙ্গ থেকে রাজধানীগামী লেনে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেলে যানজটের সূত্রপাত হয়। যা আজ শনিবারও অব্যাহত রয়েছে।

যানজটের ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রী ও যানবাহনচালকরা। বিশেষত গার্মেন্টস শ্রমিকরা সঠিক সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় বিপাকে পড়ছেন।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, রাতে বৃষ্টি, সেতুর ওপর দুর্ঘটনা ও যানবাহন বিকল হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশের পাশাপাশি সেতু কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

সরিষাবাড়ীতে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

সরিষাবাড়ী ( জামালপুর) প্রতিনিধি
সরিষাবাড়ীতে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ৭ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) জোরপূর্বক ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. ইব্রাহিম (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৫ জুন) এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। ইব্রাহিম কুমারপাড়া গ্রামের মৃত নজরুলের ছেলে। ঘটনার পর থেকে ইব্রাহিম পলাতক রয়েছে।

আরো পড়ুন
বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক নাকি ভারতের প্রত্যাবর্তন

বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক নাকি ভারতের প্রত্যাবর্তন

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম দুই সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। লোকলজ্জার ভয়ে ওই ছাত্রী বিষয়টি প্রথমে তার পরিবারকে জানায়নি। ​গত ৪ জুন বিকেল ৪টার দিকে ওই ছাত্রী ইব্রাহিমের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে তাকে টেনেহিঁচড়ে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। পরে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

আরো পড়ুন
রাজধানীতে বাস উল্টে প্রাণ গেল হেল্পারের, আহত দুই যাত্রী

রাজধানীতে বাস উল্টে প্রাণ গেল হেল্পারের, আহত দুই যাত্রী

 

পরে ভুক্তভোগীকে বাড়িতে না পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর ফুফুসহ কিছু লোক ইব্রাহিমের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহিম কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ইব্রাহীমকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি।

আরো পড়ুন
দীর্ঘ ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খুলছে রবিবার

দীর্ঘ ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খুলছে রবিবার

 

এ ব্যাপারে  সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ  ইকবাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান।

জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়েছে চট্টগ্রাম, এগিয়ে কুমিল্লা

অনলাইন ডেস্ক
জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়েছে চট্টগ্রাম, এগিয়ে কুমিল্লা

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজারে জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়েছে চট্টগ্রাম। তবে গত কয়েক বছরে জনশক্তি রপ্তানিতে এগিয়েছে কুমিল্লা। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতি ঝোঁক, সব ধরনের পেশায় সম্পৃক্ত না হওয়া এবং নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় বিদেশ গমনে আগ্রহ কমছে চট্টগ্রামের মানুষের।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল চট্টগ্রাম। এরপরে চট্টগ্রামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্লাটফর্মের (ওইপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে চাকরির জন্য বিদেশ গেছে ৮৭ হাজার ৫২৪ জন।

একই সময়ে কুমিল্লা থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন এবং চাঁদপুর থেকে বিদেশ গেছে ৮৪ হাজার ৯২৪ জন। তবে ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানির হিসাব ধরলে চট্টগ্রামের চেয়ে এগিয়ে আছে চাঁদপুর।

২০২৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশ গেছে ৭ হাজার ৪০৮ জন, কুমিল্লা থেকে ১৫ হাজার ১৩৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১৪ হাজার ৬৫৩ জন ও চাঁদপুর থেকে ১ হাজার ৪৪ জন।

২০২৪ সালে চট্টগ্রাম থেকে ৩৮ হাজার ১৬২ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৩ হাজার ৭৩৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫৯ হাজার ৯২৭ জন এবং চাঁদপুর থেকে ৪০ হাজার ৭৫৪ জন বিদেশ গেছে।

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম থেকে ৪১ হাজার ৮৩৩ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৬ হাজার ৫০১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৬৭ হাজার ২১৭ জন ও চাঁদপুর থেকে ৪২ হাজার ৯৮২ জন বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে গেছেন ১২১ জন, কুমিল্লা থেকে ২৬১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫৪১ ও চাঁদপুর থেকে ১৪৪ জন গেছেন।

জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্তদের ভাষ্য, চট্টগ্রামের লোকজন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও ওমানে যেতে বেশি আগ্রহী। সেখানে চট্টগ্রামের লোকজন বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। যারা নতুন করে বিদেশে যেতে চায়, তারাও সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার প্রতি আগ্রহী।

এ দুই দেশে ভিসা বন্ধ ও ধীরগতির কারণে বিদেশযাত্রা অনেকটা কমে এসেছে। তবে ইদানীং সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারে যাচ্ছেন অল্প কিছু বিদেশগামী। এছাড়াও চট্টগ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় চট্টগ্রামের অনেক লোক এখন বিদেশে চাকরির খোঁজে যেতে চান না।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) প-পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে কর্মী যায়। তবে চট্টগ্রামের লোক যায় মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কিছু দেশে, যেগুলোর মধ্যে অন্যতম ওমান ও দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত)। এসব দেশে ভিসা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম থেকে জনসংখ্যা রপ্তানি কমেছে।”

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের লোকজন আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দেয়। অন্য জেলার লোকজন কাজের সুবাদে যেকোনো দেশে যেতে আগ্রহী।তবে সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লোকজন একটু ব্যতিক্রম। তারা নিজ এলাকার লোকজন যে দেশে বেশি, সেখানেই মূলত যেতে চান।’

জহিরুল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের কারখানা গড়ে উঠেছে। সেগুলোতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে কাজের ক্ষেত্রও বেড়েছে। কেউ এক পেশায় থাকলে, সে অন্য পেশায় সহজেই যেতে পারছে। যেটা অন্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠে না।’

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (অ্যাটাব) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবু জাফর বলেন, ‘চট্টগ্রামের লোকজন মূলত যেতে চান ওমান, দুবাই কুয়েত ও সৌদি আরব। এসব দেশগুলোতে ভিসা বন্ধ থাকায় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লোকজনের সংখ্যা কমেছে। চট্টগ্রামের লোকজন সব ধরনের পেশায় কাজ করতে চান না। আর চাকরির উদ্দেশ্যে কম যান। তারা যেতে চান ব্যবসা করতে। আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে তারা গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে যান।’