সাভারের আশুলিয়ায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে সামার ট্রাইমেস্টার ২০২৬-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সাফায়াত মোহাম্মদ রাজু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত। অথচ শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন এবং কার্যকর জ্ঞানার্জনের জন্য মাতৃভাষার ব্যবহার অপরিহার্য।’ দেশের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী শিল্পায়ন না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, যার ফলে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হচ্ছে না।’
প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের প্রশংসা করতে গিয়ে ড. সলিমুল্লাহ খান এটিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শান্তিনিকেতন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। একই সঙ্গে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং আলোকিত জীবন গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের একটি ব্যতিক্রমী শপথ করান। শিক্ষার্থীরা শপথ নেন যে, তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবেন না। উপাচার্য বলেন, ‘পিতা-মাতার সন্তুষ্টিই একজন সন্তানের জীবনে সফলতার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার সাফায়াত মোহাম্মদ রাজু শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন উপভোগ করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনই ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, তাই প্রতিটি মুহূর্তকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওরিয়েন্টেশন কমিটির কনভেনর ও ইংরেজি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ রফিউসসান। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মো. শামসুল হুদা ও রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, বিভিন্ন ক্লাব এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। সবশেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওরিয়েন্টেশনের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




