• ই-পেপার

রামিসার শোকাহত মায়ের চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস বিএনপির

গণতন্ত্র ধ্বংসের খেলায় মাঠে নেমেছেন হাসনাত

অনলাইন ডেস্ক
গণতন্ত্র ধ্বংসের খেলায় মাঠে নেমেছেন হাসনাত

সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম সৌন্দর্য হলো ক্ষমতার ভারসাম্য। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ-সরকারের তিনটি বিভাগ যখন স্বাধীন এবং স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারে তখনই গণতন্ত্র বিকশিত হয়। কিন্তু আইন বিভাগ যদি বিচার বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করে কিংবা শাসন বিভাগ যদি বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাহলে গণতন্ত্র হোঁচট খায়। আর এ কারণেই সরকারের তিনটি বিভাগকে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে কাজ করতে হয়। তিনটি বিভাগের ভারসাম্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এ আদেশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৬-৩ ভোটের এ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা নিম্ন আদালতের একটি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। নিম্ন আদালতের ওই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি স্থগিত করা হয়েছিল। এভাবেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

পৃথিবীর উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে আদালতের রায় নিয়ে কথা বলা সংসদীয় রীতির পরিপন্থি। আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ভারতের পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে কথা বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য লোকসভার একাধিক সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা গত বছর প্রদত্ত এক রুলিংয়ে বলেছেন, আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ওই বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না। শুধু ভারতের লোকসভায় নয়, ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও আদালতের রায়ের পর সে বিষয়ে কথা বলা যায় না। হাউস অব কমন্সের রীতি অনুযায়ী, আদালতের রায়ের পর সেই রায়ের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে আলোচনা করা বিচার বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপের শামিল। এটা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। বাংলাদেশে চব্বিশের জুলাইয়ের পর নতুন সংসদ গঠিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদের অর্ধেকের বেশি সদস্য প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান এখনো পরিপূর্ণ হয়নি। দেশের মানুষ আশা করেছিল তরুণ সদস্যরা সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতিনীতি শিখবেন, ভবিষ্যতে নিজেদের দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে গড়ে তুলবেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু সংসদের অধিবেশনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কয়েকজন সদস্য শিখতে চান না, এঁদের লক্ষ্য হলো সংসদ ও গণতন্ত্র অকার্যকর করা। গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেশে একটি জুলুম ও মবের রাজত্ব কায়েম করা। যেটা তাঁরা করতে চেয়েছিলেন ইউনূসের নেতৃত্বে। এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের মূলহোতা জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এই সদস্যের একমাত্র লক্ষ্য হলো সংসদ বিতর্কিত, অকার্যকর এবং নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা। একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত যেমন সংসদের বাইরে বলছে বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে তারা সময় দিতে চায় না। গণতন্ত্র বানচালের জন্য জামায়াত এখন রাজপথে উত্তাপ ছড়াতে চেষ্টা করছে। আর জামায়াতের লাঠিয়াল হিসেবে হাসনাত সংসদে অনভিপ্রেত ইস্যু এনে বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। এর মাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহ কেবল সংসদেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছেন না, গণতন্ত্রও ধ্বংসের চেষ্টা করছেন। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

জাতীয় সংসদে একদিকে যেমন তিনি নিজের জন্য সুযোগসুবিধা চাইছেন। যেমন গত এপ্রিলে হাসনাত বলেছিলেন, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে নির্বাচনি এলাকায় যাতায়াত করতে হয়, যা লোকলজ্জার কারণে কাউকে বলাও যায় না। মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ আরও সহজ করতে সরকারের কাছে একটি গাড়ির সুব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি। আবার সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসত্য, ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করছেন। হাসনাতের এসব কর্মকাণ্ড সংসদ সম্পর্কে মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে।

২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ সম্পর্কে কিছু অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বক্তব্য অযাচিত, অযৌক্তিক, আক্রমণাত্মক ও আপত্তিকর। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের অসত্য ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আদালত অবমাননা করেছেন। হাসনাতের ২৫ জুনের বক্তব্য ছিল সংসদীয় রীতির পরিপন্থি। এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানের মৌলিক অধিকারেরও পরিপন্থি। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ২১ জুন সংসদে স্পিকার প্রদত্ত রুলিং লংঘন করেছেন। উল্লিখিত রুলিংয়ে স্পিকার বলেছেন, ‘যার পক্ষে সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। তাই ওই বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।’

একই সঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির লঙ্ঘন। কার্যপ্রণালি বিধির ২৭০ এর(১) উপধারায় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য, (৬) উপধারায় কোনো প্রকার অশালীন, কটু ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং (৭) উপধারায় মানহানিকর মন্তব্য করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তার চেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাসনাত তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেছেন। হাসনাতের বক্তব্যে আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ব্যক্তিকে খুনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য ঘটনায় যাঁর বিরুদ্ধে হাসনাত অসত্য, মিথ্যা ও আক্রোশমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। হাসনাত-উল্লিখিত ঘটনার নিষ্পত্তি হয়েছে ২০২৩ সালেই। ২০২১ সালে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গুলশান থানার মামলা ২৭(৪)২১ উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন।

দীর্ঘ কয়েক মাসের শুনানি এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের পর বিচারক অভিযোগ থেকে আসামিকে অব্যাহতি দেন। এর বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ নারাজি দরখাস্ত করে। সব পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্কের আলোকে আদালত নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযুক্তকে নির্দোষ এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তহীন বলে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। এটি আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি বিষয়। এটি আবার নতুন করে জাতীয় সংসদে কেন আনলেন হাসনাত আবদুল্লাহ? কারণ তিনি আইনের শাসন মানেন না, মব সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড হলেন হাসনাত।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাসনাতের এ বক্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং বিচার বিভাগের প্রতি সরাসরি হুমকি।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসনাতের উত্থান হয়েছে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে। মব হলো আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের প্রধান শত্রু। হাসনাত মব করে গণমাধ্যম অফিস দখল করেছেন। মব করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। মব করে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন। আইন-বিচার তোয়াক্কা না করে ভয় দেখিয়ে সবাইকে দমিয়ে রাখাই হলো হাসনাতের রাজনীতি। এটা কোনো গণতান্ত্রিক চিন্তা বা সংস্কৃতি হতে পারে না। বরং এটা নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা। তাঁর কর্মকাণ্ড থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী’ প্রবণতাকে অনুসরণ ও সমর্থন করছেন; যে ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমাটি এনসিপি তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য ব্যবহার করে।

হাসনাত কেবল একটি শিল্প পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি দেননি, গোটা বেসরকারি খাতকে হুমকি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বেসরকারি খাতে ইতোমধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া বিষয়ে কথা বলে হাসনাত আসলে আবারও বিচার বিভাগকে ধমক দিলেন। এটা সুস্পষ্টভাবে আদালত অবমাননা। শুধু তাই নয়, এটা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থি।

আসলে হাসনাত আবদুল্লাহ কার হয়ে খেলছেন? বাংলাদেশে অনেক রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এবং গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা এই গণতন্ত্র ধ্বংসের খেলায় মেতেছে। জামায়াতের নতুন করে গণ অভ্যুত্থানের হুমকি আর সংসদে দাঁড়িয়ে হাসনাতের হুংকার একসূত্রে বাঁধা। হাসনাত কি আবার মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে গণতন্ত্র বিপন্ন করতে চান, সেজন্যই সংসদে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে বিচার বিভাগ ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হুমকি দিচ্ছেন?

মনে রাখতে হবে, হাসনাতের মতো মব সন্ত্রাসের হোতারা দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি। এঁদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে গণতন্ত্রকামী সবাইকে।

সংসদে সংবিধান সংস্কার না হলে জনগণের কাছেই যাব : বিরোধীদলীয় নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদে সংবিধান সংস্কার না হলে জনগণের কাছেই যাব : বিরোধীদলীয় নেতা
জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময়সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কারের সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না করায় দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর না করে কেবল সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময়সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছিল। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো একটি সংস্কার সনদে একমত হয়। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল। জনগণ যে রায় দেবে, তা মেনে নেওয়ার অঙ্গীকারও ছিল। সেই রায়ের ভিত্তিতে একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত ছিল।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের সদস্যরা দুই ধরনের শপথ নিলেও সরকারি দলের সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। সরকারের যুক্তি ছিল, বিষয়টি সংবিধানে নেই। সংবিধানে আগে অনেক কিছুই ছিল না। কিন্তু জাতীয় প্রয়োজনেই সেসব বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
 
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনও সংবিধানের বিধানে ছিল না। অতীতের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গণভোটও সংবিধানে উল্লেখ ছিল না। তারপরও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনেই সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। গণভোটে প্রায় ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু সেই রায় কার্যকর না করে সরকার নতুন করে সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হলেও কার্যকর আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে নোটিশের মাধ্যমে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত বা রুলিং আসেনি। তাই সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল। জনগণের দাবি নিয়ে আন্দোলন চলবে।

বাজেটের নানা দিক তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমানোর কথা বলা হয়েছে, জনগণ বাজারে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। দ্রব্যমূল্য না কমলে বুঝব সিন্ডিকেটের স্বার্থে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, দলীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইন করতে হবে। যেসব সংস্কার দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দেশ বারবার সংকটে পড়বে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেশবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি সুযোগ-সুবিধা সীমিত রাখার চেষ্টা করছি। তবে কেউ যদি আইনসিদ্ধ সুযোগ নিতে চান, সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়। নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে বলেছিলাম, সরকারি সুযোগ-সুবিধা যতটা না নিলে না হয় আমরা চেষ্টা করব। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায়, এখানে কোনো অপরাধ নেই। নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, দলের কেউ নির্বাচিত হলে এমপি, মন্ত্রী বা অন্য কোনো দায়িত্বে থাকলেও বিনা ট্যাক্সে গাড়ি কিনবেন না এবং সরকারি প্লটের সুবিধা নেবেন না। কিন্তু কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফ্ল্যাট ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং ‘জল ঘোলা’ করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থে সংসদে জোরালো অবস্থান নিয়েছি। বিদেশগামী কর্মীদের ভোগান্তি ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। প্রবাসীদের পক্ষে আমরা সব সময় কথা বলেছি এবং বলব। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর খরচ কমিয়ে আনার দাবিও আমরা তুলেছি। আমি বলেছি ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠানো সম্ভব হওয়া উচিত। এই বক্তব্যের কারণে একটি সিন্ডিকেট ক্ষুব্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, আমি কেন বললাম মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠাতে হবে, এ নিয়ে একটি গোষ্ঠী আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু আমরা চাই, সাধারণ মানুষ কম খরচে বিদেশে যেতে পারুক। যারা বিদেশগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে, সেই দালাল ও সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ প্রবাসীদের হয়রানি ও শোষণের সুযোগ বন্ধের দাবি জানান তিনি।

নাগরিক সমস্যার সমাধানে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে : জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
নাগরিক সমস্যার সমাধানে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে : জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নাগরিক সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর শেওরাপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সমস্যা সমাধান অভিযান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। নিজের গার্বেজটা ড্রেনে নিয়ে আমরা ফেলে দিই। সরকার তো প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করবে না। সরকার পরিষ্কার করে দেবে, নাগরিকদের সেটা রক্ষা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার, বিরোধীদল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকে সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।’

মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক
মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য

এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে সংসদ থেকে ইস্তফা দেবেন হাসনাত আবদুল্লাহ। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক জায়গায় দাঁড়িয়ে জনগণকে এমন চ্যালেঞ্জ দেন তিনি। অথচ তার নিজ সংসদীয় আসনে লুটতরাজ ও অর্থনৈতিক অপরাধ এখন ওপেন সিক্রেট।

হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচিত এলাকা কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচাকান্দা পূর্বপাড়ার বাইতুলফালা জামে মসজিদ। জাতীয় নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দিতে হবে এমন শর্ত জুড়ে দিয়ে মসজিদ সংস্কার করে দেবেন নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এমন আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয়দের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এমপি বনে গেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ কিন্তু যে কথা দিয়েছিলেন এলাকাবাসীকে সেই কথা রাখেননি তিনি। এ নিয়ে চারদিকে সমালোচনা শুরু হলে কয়েক মাস পর নিজস্ব নেতাকর্মীদের পাঠিয়ে দায়সারা কাজ করে দেন এই সংসদ সদস্য।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিছে যে আমার ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে কাজ করব। পরে শুনলাম যে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আসছে। কাজ করছে মাত্র সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ।’

ওই এলাকার এক তরুণ বলেন, ‘বাজেট আনছে কুমিল্লা-৪ আসনের আমাদের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। উনি আইনা যারে এই কন্টাক্টে দিছে উনি এই কাজটা করছে। কিন্তু যতটুকু কাজ করছে ততটুকু কাজ ঠিক হয় নাই।’

আবার কাজের মান নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এলাকাবাসী বলছে তরিঘরি করে কোনোমতে কাজ করে গেছেন হাসনাত আবদুল্লাহর লোকজন। কত টাকার কাজ হয়েছে—এমন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং এমপি নিজ পকেট থেকে দিয়েছেন এই অর্থ।

মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মিরণ বলেন, ‘তারা বলেছিল ব্যক্তিগতভাবে কাজটা যত টাকা খরচ লাগে এটা করে দেবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন—একটা ভোটের জন্য এলাকাবাসী দাবি রাখবে। হাসনাত ভাই ব্যক্তি হিসেবে কাজ করাই দেবে। 

তিনি বলেন, ‘১২ লাখ টাকার কাজ করছে। এটার খরচটা কতটুকু হতে পারে আমরা একটা কনট্রাক্টরের সাথে আলাপ করেছি, কনট্রাক্টর বলছেন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হতে পারে এটার।’

কিন্তু গণেশ উল্টে গেছে নদীতে। বাইতুলফালা জামে মসজিদ সংস্কারের জন্য ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ আসে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এই তথ্য মসজিদ কমিটি জানে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘এ বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।’

সিরাজুল ইসলাম মিরণ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের একটা মিটিংয়ে আমরা জানতে পারি, আমাদের বাইতুলফালাহ জামে মসজিদের নামে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার একটা বাজেট আসছে। উনারা ওই অতীতে বলছেন ব্যক্তি দিছে, অহন আমরা পরে  দেখি এটা সরকারিভাবে কাজটা আসছে।’ 

মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের ঘটনা শুনে অবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে নীতিকথা বলা হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজ এলাকায় লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করবেন এটি তারা কখনো ভাবেননি।’

মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা মিরণ বলেন, ‘হাসনাত ভাই উনি সবসময় নীতিতে থাকেন। উনি আমাদের সাথে ১২ লাখ টাকার বাজেটের প্রতারণা করছেন, এটা ভালো দেখা যায় নাই। এটা ভালো যুক্তিতে আসে নাই। এটা আমাদের সমাজবাসীর মনে খুব কষ্ট লেগেছে। যারা সরকারি বাজেট দেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে বিষয়টা যেন একটু দেখেন।’

এ বিষয়ে ই-টেন্ডার আবেদনকারী ব্যক্তি ইয়াহিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, টেন্ডার তিনি আবেদন করেছিলেন ঠিকই কিন্তু কত টাকা বরাদ্দ এসেছে সেটি তিনি জানেন না। 

ইয়াহিয়া বলেন, ‘কত টাকা বরাদ্দ এসেছে সেটা জেলা পরিষদের লোকেরা ভালো জানেন, আর যিনি কাজ করছেন উনি ভালো জানেন। আমাদের কাগজ দেখান নাই। এটার বরাদ্দ কত টাকা আসছে ওইটা পর্যন্ত আমাদের জানানো হয়নি। আমাদের নানা টালবাহানা দেখাইছে।’ 

পরে ঠিকাদার মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুল মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, কার্যাদেশ তিনি পেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সেই কাজ সাব-ঠিকাদার বিল্লাল হোসেনকে দিয়ে করিয়েছেন।
 
তিনি বলেন, ‘বিক্রি না, যাকে কাজ দিছি তিনি আমার পরিচিত আরকি। এটা জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার জানেন। এটার কোনো অনিয়ম হওয়ার কথা না। কারণ জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার দাঁড়ায়ে কাজ তদারকি করেন।’

বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি কাজটি হাত বদল করে দিয়েছেন রিয়াদ নামের আরেক ব্যক্তির কাছে, যিনি স্থানীয় এনসিপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

জানা যায়, বিল্লাল দেবিদ্বার ক্যাপ্টেন সুজাত আলী সরকারি কলেজের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি কাজ করি না, ছোট ভাই রিয়াদকে দিয়ে দিছি। আমি তিন-চার বছর দেবিদ্বারে কোনো কাজ করিনি। কিন্তু দুই-একজনকে কাজ নিয়ে দিছি।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা এক সময় ঠিকাদারি করতাম। ছোট ভাই রিয়াদ নতুন আরকি, এনসিপিতে সংযুক্ত আছে কিনা আমি সঠিক জানি না। ছেলেটা আবার ওই মেইন ঠিকাদার থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসছে এবং এটা ৫ শতাংশ না ১০ শতাংশ লেস আছে।’

কালের কণ্ঠের হাতে আসা নথিতে দেখা যায়, বিল্লাল রিয়াদের কথা বললেও এই কাজ বাস্তবায়ন করেছে এই ছাত্রলীগ নেতার ছোট ভাই ইকবাল হোসেন। 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরাদ্দ নিয়ে যদি কোনো নয়-ছয় করা হয় তাহলে সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, ‘কাছ থেকে যে অভিযোগটি এখানে আমি জানলাম, সেটি আমি নোটডাউন করেছি এবং আমি খোঁজ খবর নেব। খোঁজ খবর নিয়ে যদি সত্যি সত্যি এখানে কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকে আমার প্রশাসক মহোদয় আছেন উনার সাথে আলাপ করে যে আইনগত প্রক্রিয়া আছে বা ব্যবস্থা আছে আমি সেটা নেব।’