• ই-পেপার

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ৯০০

বেঙ্গালুরুর ডে-কেয়ারে শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন

অনলাইন ডেস্ক
বেঙ্গালুরুর ডে-কেয়ারে শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন
সংগৃহীত ছবি

ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে দুই থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের শাস্তি দেওয়ার নামে ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতরে বসিয়ে রাখা, টয়লেটের জেট স্প্রে দিয়ে মুখে পানি ছিটানো এবং বাথরুমে আটকে রাখার মতো নির্যাতন করা হতো।

এ ঘটনায় ডে-কেয়ার সেন্টারের পাঁচ নারী পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেন্টারটি আইটি কম্পানি ক্যাপজেমিনির এইচএএল ক্যাম্পাসের ভেতরে পরিচালিত হতো। ক্যাপজেমিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্যাম্পাসের ভেতরের ডে-কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

একজন কর্মকর্তা জানান, শিশুদের কান্না থামানোর জন্য তাদের ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতরে বসিয়ে রাখা হতো। পাশাপাশি টয়লেটের জেট স্প্রে দিয়ে তাদের মুখে পানি ছিটানো হতো এবং অনেক সময় বাথরুমে আটকে রাখা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। এরপর পুলিশে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনেও পৃথকভাবে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবকই আইটি কম্পানিতে কাজ করার কারণে সন্তানদের ওই ডে-কেয়ারে রেখে যেতেন। এখন এই ঘটনার পর করপোরেট ক্যাম্পাসের ভেতরে শিশু পরিচর্যাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ক্যাপজেমিনি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডে-কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

আইভরি কোস্টে বন্যায় অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
আইভরি কোস্টে বন্যায় অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দেশটির সরকারের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সরকারের মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি। তিনি বলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত বন্যা ও সম্পর্কিত দুর্যোগে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে সর্বশেষ বন্যায় আলাদাভাবে কতজন মারা গেছেন, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি।

এর আগে সোমবার ঘানা ও আইভরি কোস্টের রাজধানীতে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির পর ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং আরো অনেকে নিখোঁজ হন। ঘানার রাজধানী আক্রায় বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে বহু ভবন ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে শহরের একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পাশের শহর তেমাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। আইভরি কোস্টে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাজধানী আবিজানসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেশটির জাতীয় সংহতি বিষয়ক মন্ত্রী বেলমন্দে দোগো জানান, নিহতদের বেশিরভাগই রাজধানীর আটেকুবে ও ইয়োপুগো এলাকার বাসিন্দা। সরকারি মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্যও নাগরিকদের অনুরোধ করেন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় এ ধরনের প্রাণঘাতী বন্যা নিয়মিতভাবে দেখা যায়। যদিও বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে মহাদেশটির অবদান তুলনামূলকভাবে কম, তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে আফ্রিকা অন্যতম।

ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠল আফগানিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠল আফগানিস্তান
সংগৃহীত ছবি

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির বাদাখশান প্রদেশের জুর্ম জেলায়। অত্যন্ত গভীর উৎসস্থল হওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ঝাঁকুনি ছিল বেশ স্পষ্ট।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তান এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই এমন ভূকম্পন ঘটে থাকে।

এর আগে গত ২৭ জুনও দেশটিতে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। বারবার এমন ঝাঁকুনিতে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলেও ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রাণঘাতী স্মৃতি মনে করে এখনো কাঁপছে স্থানীয় মানুষ। সেই বার ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়েছিল বহু ঘরবাড়ি এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত সাতজন।

জার্মানির নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণ মামলায় ইউক্রেনীয় অভিযুক্ত

অনলাইন ডেস্ক
জার্মানির নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণ মামলায় ইউক্রেনীয় অভিযুক্ত
সংগৃহীত ছবি

২০২২ সালে বাল্টিক সাগরের তলদেশে থাকা নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দিয়েছেন জার্মানির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। বহুল আলোচিত এই নাশকতার ঘটনায় এটিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ।

জার্মানির ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের কারণে অভিযুক্তের পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাকে শুধু ‘সেরহি কে.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। জার্মান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে হামলার পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে অভিযুক্ত সেরহি কে. এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযুক্তের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ‘মেনাকার বার্লিন’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, বুধবার তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে জার্মানির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন, নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণের ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ডিডাব্লিউ দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চারটি নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের মধ্যে তিনটিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযানে সাত সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা, বিস্ফোরণ ঘটানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। জার্মান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত গ্রীষ্মে ইতালিতে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তিনিই এই সেরহি কে.। পরে গত নভেম্বরে তাকে জার্মানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাল্টিক সাগরের নিচে থাকা নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারটি পাইপলাইনের মধ্যে তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে বিপুলপরিমাণ মিথেন গ্যাস বাল্টিক সাগরে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত নর্ড স্ট্রিম অবকাঠামো কার্যত অচল হয়ে যায়। নর্ড স্ট্রিম–২ পাইপলাইন কখনো চালু না হলেও নর্ড স্ট্রিম–১-এর দুটি পাইপলাইন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করত। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে রাশিয়ার উপকূল থেকে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর ঠিক আগে নর্ড স্ট্রিম–২ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে জার্মানি। এই পাইপলাইনের শতভাগ মালিক ছিল রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কম্পানি ‘গ্যাজপ্রম’। এর কয়েক মাস পর প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা বলে নর্ড স্ট্রিম–১-এর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় রাশিয়া। পরে সেপ্টেম্বরে পাইপলাইনগুলোতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এই নাশকতার জন্য এখন পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি। ইউক্রেন সরকারও এই হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এই মামলার বিচার জার্মানি ও ইউক্রেনের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ইউক্রেনকে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে জার্মানি। বিস্ফোরণের ঘটনার পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার দিকে সন্দেহের আঙুল তোলে। অন্যদিকে মস্কো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে দায়ী করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্র এই হামলায় সরাসরি জড়িত ছিল—এমন প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইউক্রেনের অনেক মানুষের মধ্যে নর্ড স্ট্রিম ধ্বংসের ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ আয়ের একটি উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই জার্মানির এই মামলার বিচার এগিয়ে নেওয়া নিয়ে ইউক্রেনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।