নোমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি কারিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত সীমায় অবস্থানকারী এবং ওই সীমলঙ্ঘনকারীর দৃষ্টান্ত হলো ওই কাফেলার মতো-যারা দু তলাবিশিষ্ট একটি জাহাজে আরোহণ করার জন্য লটারির মাধ্যমে কিছু লোক নিচতলায় অবস্থান করল আর কিছু লোক উপরের তলায়...।
হাদিসের সহজ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : একটা জাহাজে কয়েকজন লোক আরোহণ করল। কেউ নিচে কেউ উপরে। তো নিচতলার লোকজনের পানির প্রয়োজন দেখা দিল। তারা সেই পানির জন্য উপরের তলায় না গিয়ে ভাবল-আমাদের নিচেই তো পানি আছে, তাই তারা সেই জাহাজের তলা ফুটা করার সিদ্ধান্ত নিল। এখন উপরের তলার লোকজন যদি নিচতলার লোকজনকে বাধা না দেয়, তাহলে সবাই ডুবে মরবে। আর যদি এই ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে নিষেধ করে, তাহলে সবাই বেঁচে যাবে। আর এই দৃষ্টান্ত অসৎ কাজের বাধা প্রদান না-করার সাথে করা হয়েছে। সমাজে যদি অসৎ কাজের বাধাপ্রদান না থাকে, তাহলে পুরো সমাজ এই জাহাজবাসীর মতো ধ্বংস হয়ে যাবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ২৪৯৩)
শিক্ষা ও বিধান
১. সমাজে কেউ অন্যায়, পাপ বা ক্ষতিকর কাজ করলে তাকে যথাসাধ্য বাধা দেওয়া মুসলমানদের দায়িত্ব। কেননা ইসলাম অন্যায়ের প্রতি নীরব থাকাকে সমর্থন করে না।
২. একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর অন্যায় কাজের পরিণতি অনেক সময় পুরো সমাজকে ভোগ করতে হয়। জাহাজের ছিদ্র যেমন সবাইকে ডুবিয়ে দেয়, তেমনি সমাজে ছড়িয়ে পড়া পাপ ও অপরাধও সামষ্টিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
৩. মানুষ একা নয়; সবাই একটি সমাজের অংশ। তাই অন্যের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড দেখে উদাসীন থাকা উচিত নয়।
৪. নীরবতা অনেক সময় অপরাধে সহযোগিতার শামিল। যারা জাহাজে ছিদ্র করতে চেয়েছিল, তাদেরকে বাধা না দিলে উপরতলার লোকেরাও ধ্বংস হতো। একইভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়া অনেক সময় সেই অন্যায়ের পরোক্ষ সমর্থন হয়ে যায়।
৫. সঠিক সময়ে উপদেশ, নসিহত ও সংশোধনের চেষ্টা ব্যক্তি ও সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারে।
৬. কেউ নিজের ইচ্ছামতো এমন কিছু করতে পারে না, যা অন্যের ক্ষতি বা সামষ্টিক ক্ষতির কারণ হয়। ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতারও সীমারেখা আছে।
সবশেষে এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, একটি সমাজের মানুষ পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িত, যেমন একটি জাহাজের যাত্রীরা। সমাজে অন্যায়, পাপ ও ক্ষতিকর কাজকে প্রশ্রয় দিলে তার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত সবার ওপর এসে পড়ে। তাই ব্যক্তি ও সমাজকে রক্ষা করতে হলে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও উত্তম পদ্ধতিতে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে বাধা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে।




