• ই-পেপার

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে

ইউক্রেনের হামলায় অর্থনীতির ক্ষতি হলেও রাশিয়া দ্রুত সামলে নিচ্ছে: পুতিন

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের হামলায় অর্থনীতির ক্ষতি হলেও রাশিয়া দ্রুত সামলে নিচ্ছে: পুতিন
ছবি : আনাদোলু এজেন্সি।

ইউক্রেনের হামলা রাশিয়ার অর্থনীতির ক্ষতি করছে, কিন্তু তা থেকে দেশকে দ্রুত ঘুরিয়ে আনতে পেরেছেন বলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার বলেছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া সামরিক কর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘তারা (ইউক্রেন) অবশ্যই আমাদের কিছু ক্ষতি করছে, কিন্তু আমরা দ্রুত সামলে উঠছি। তারা আমাদের কোনো গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারবে না।’

ইউক্রেন যুদ্ধকে রাশিয়া যে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে, সেই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে রুশ সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ৭ লাখেরও বেশি। তিনি আরো বলেন, পশ্চিমাদের বিরোধিতার মুখে রাশিয়া কার্যত একাই।

পুতিন আরো বলেছেন, ইউক্রেনে তার দেশের বাহিনী যত দ্রুত তারা চায়, তত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে না, তবে তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমরা আমাদের অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি। আমরা এটি অর্জন করব, এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই।’

তিনি বলেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে রাশিয়া পর্যায়ক্রমে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার তীব্রতা বাড়াবে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি পুতিন ন্যাটো দেশগুলোর প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং তাদের ‘অত্যন্ত উন্নত অর্থনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির ৩৪ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির ৩৪ বছরের কারাদণ্ড
ছবি : এনডিটিভি।

লন্ডনে অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শুক্রবার এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে  ২৮ বছর তাকে কারাগারে থাকতে হবে। এরপর আরো ৬ বছর কঠোর শর্তযুক্ত লাইসেন্সে (বর্ধিত তত্ত্বাবধানে) থাকতে হবে। তিনি কমপক্ষে ১৮ বছর বা মোট সাজার দুই-তৃতীয়াংশ সময় না কাটানো পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।

আইলওয়ার্থ ক্রাউন কোর্টে বিচার শেষে ৩৪ বছর বয়সী গগনদীপ সিংকে ফেব্রুয়ারিতে দুটি ধর্ষণের অভিযোগ, অবৈধভাবে আটক রাখা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর শারীরিক ক্ষতিসাধন এবং অপহরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

২৪ বছর বয়সী এক নারীকে পশ্চিম লন্ডনের হ্যানওয়েলের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর-পশ্চিম ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধ ইউনিটের গোয়েন্দা কনস্টেবল সীতারা আব্দুল বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও অকল্পনীয়।

তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগী সাহস করে সামনে এসে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করতে সহায়তা করেছেন। তিনি নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সেই বিশ্বাসের জন্য এবং এই তদন্ত ও পরবর্তী বিচার চলাকালীন তিনি যে ধৈর্য,​ সাহস ও দৃঢ়সংকল্প দেখিয়েছেন, তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। এমন ভয়াবহ অপরাধের মুখেও তার দেখানো সাহস তার অসাধারণ শক্তি ও সহনশীলতার প্রমাণ।

এক দিনেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার হয়েছিলেন ভুক্তভোগী। তার মুখে ঘুষি মারা হয়েছে, মারধর ও বিবস্ত্র করা হয়েছে। এ ছাড়াও চাবুক মারা, শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্ষণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে পরবর্তী সময়ে অপহরণকারীরা মুক্তি দেয়। তবে তাকে হুমকি দিয়ে সতর্ক করা হয়, যেন তিনি এ বিষয়ে কাউকে কিছু না জানান।

মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সে তার মায়ের কাছে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা কথা খুলে বলেন। পরবর্তী সময়ে তার মা পুলিশের কাছে একজন তৃতীয় পক্ষ হিসেবে প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের করেন। অপহরণের সময় তার মেয়ের পরা পোশাকটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয় এবং এর সূত্র ধরেই সিং গ্রেপ্তার হন।

ভুক্তভোগীর মা তার বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি যখন মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তারা খুব পেশাদারত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে আমার সঙ্গে কথা বলেন। আমাকে আশ্বস্ত করে যে, তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আমিও বিষয়টি জানাতে পারি। যদিও আমার মেয়ে প্রথমে বিষয়টি নিয়ে এগোতে চায়নি। কিন্তু  অপরাধগুলোর গুরুতর হয়োর কারণে তারা আমার উদ্বেগগুলোকে গুরুত্বের সেঙ্গে নেয় এবং তদন্ত চালিয়ে যায়।’

পুলিশের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি কখনোই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইনি। এটা আমার কাছে ভীতিকর মনে হয়েছিল। আমি ভাবছিলাম, যদি পুলিশের কাছে যাই তাহলে আমি নিজেকে এবং আমার চারপাশের মানুষদের বিপদে ফেলতে পারি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মা হলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কখনো হাল ছাড়েননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, পুলিশের কাছে যাওয়াই সঠিক কাজ। তিনি প্রমাণ হিসেবে আমার পোশাকগুলো রেখে দিয়েছিলেন এবং আমার ডাক্তারের সমস্ত কাগজপত্র সংরক্ষণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অপরাধীরা অন্য মানুষের সঙ্গেও এমনটা করতে পারে। এটা জেনে তিনি শান্তিতে থাকতে পারতেন না।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময়টায় আমি লজ্জাবোধ করেছিলাম। কিন্তু যারা যৌন বা অন্য কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, দয়া করে এটা মনে রাখবেন যে, লজ্জা আমাদের জন্য নয়। আমরা বেঁচে থাকব এবং আমরা আবার নতুন করে জীবন শুরু করব।’ 
 

ইরানের জব্দ তহবিল ছাড়তে পারে ইউএই : রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের জব্দ তহবিল ছাড়তে পারে ইউএই : রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের  আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় পরিসরের আলোচনাও চলছে। সেই আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সামনে এসেছে।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে ইরানের কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে। সেই অর্থ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনার অংশ হতে পারে।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে দুইটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরো দুটি সূত্র বলেছে, মোট অর্থের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্তও হতে পারে। তাদের দাবি, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা বন্ধ করার বিনিময়ে এই আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যেই ছাড় করা হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, এই অর্থ কোন উৎস থেকে এসেছে তা যাচাই করা যায়নি। অর্থটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব তহবিল, দেশটির ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের অর্থ, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে- সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে এসব প্রতিবেদনের জবাবে শনিবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে তারা অর্থ মুক্ত করার সব ধরনের দাবি সরাসরি অস্বীকার করে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের কোনো জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করা হয়নি এবং কোনো অর্থ স্থানান্তরও করা হয়নি। তারা স্পষ্টভাবে আরো বলে, এ ধরনের কোনো আর্থিক লেনদেন বা প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত জড়িত নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।’ তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি তারা।

এর আগে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, দেশটি সব সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতিতে কাজ করে। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি এমনভাবে পরিচালিত হয়, যাতে অঞ্চলে সংঘাত কমে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়। 

তিনি আরো বলেন, ওই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত সেগুলোকে সমর্থন করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত।


 

ইরানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাঠানোর খবর ভিত্তিহীন : আমিরাত

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাঠানোর খবর ভিত্তিহীন : আমিরাত
ছবি : সংগৃহীত।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগসংবলিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষ করে ইরানে ৩০০ কোটি ডলার পাঠানোর যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর আগে চারটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক সপ্তাহ ধরে ইরানের হামলার পর দেশটি তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনে ইরানের জন্য শত শত কোটি ডলারের আর্থিক সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে। আরো বলা হয়, কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির শত শত কোটি ডলার ছাড় বা মুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এসব প্রতিবেদন সংযুক্ত আরব আমিরাত অস্বীকার করেছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের কোনো জব্দকৃত তহবিল মুক্ত, স্থানান্তর বা এ ধরনের কোনো লেনদেন করা হয়নি।’ 

এ ছাড়া, মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করার এবং ভিত্তিহীন বা যাচাইবিহীন খবর প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে।