• ই-পেপার

মানবতাবিরোধী অপরাধ

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

শাহজালালে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক ফরাসি নাগরিক রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শাহজালালে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক ফরাসি নাগরিক রিমান্ডে
ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘোষণাবিহীন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধারের মামলায় ডেভিড পিয়েরে আন্দ্রে ডেলন (৪৪) নামের এক ফরাসি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোস্তাফিজুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৪ জুন) সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় ডেভিড পিয়েরে নামের ওই ফরাসি নাগরিকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তার ব্যাগ ও লাগেজ তল্লাশি করে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫২০ ইউএই দিরহাম, ১০ হাজার ৬৬০ সোম, ২ হাজার ৮০০ ইউরো, ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার, ৪৭০ সৌদি রিয়াল এবং ২০০ মরক্কান দিরহাম।

পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহনের ক্ষেত্রে ঘোষণা ও অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও ওই বিদেশি নাগরিক তা করেননি। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত উৎস কী, এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোন উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল—তা উদ্‌ঘাটনের জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এই মুদ্রা পাচারের পেছনে কোনো দেশি-বিদেশি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : চিফ প্রসিকিউটর

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তার বিচার হতেই হবে। ট্রাইব্যুনাল থেকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি দুবাই সরকারকে পাঠানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টার মাইন্ড নন, তিনি গুম-খুনের সঙ্গেও জড়িত। শাপলা চত্বরের ঘটনা, একরাম হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের একতরফা ও অবৈধ নির্বাচনের অন্যতম কুশীলব ছিলেন বেনজীর আহমেদ। র‌্যাব-পুলিশে থাকাকালীন সময়ে তিনি অসংখ্য মানুষকে খুন, নির্যাতন করেছেন। দেশে ফেরত আনা হলে ট্রাইব্যুনালের মামলার বিচারে হাজির করা হবে। তার কঠোর বিচার করা হবে।’

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক কাউন্সিলর মানিক ফের গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক কাউন্সিলর মানিক ফের গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

​জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় করা হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে করা মামলায় লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর (স্বতন্ত্র) হাসিবুর রহমান মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। 

​এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি মডেল থানার এসআই মো. বাবন উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী নিলায়ন বাপ্পী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ হাসিবুর রহমান মানিককে ধানমণ্ডি থানার মামলাটি নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হলো। আমরা আদালতে গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করি। 

আইনজীবী বলেন, গত ২২ মাস ধরে লালবাগ, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গায় করা মোট ১৪টি মামলায় মানিক কারাগারে আছেন। আমরা কোর্টকে জানিয়েছি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, তার দুইটা বাচ্চা আছে। যখনই আমরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বেলবন্ড দিচ্ছি, তখনই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। মামলা চলাকালীন কেন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে না?

​মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডির গ্রিন সামিট সংলগ্ন রাস্তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে মো. ইমন হাছান নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ধানমণ্ডি থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ইমন। ওই মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাবেক কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

সারাদেশের কারাগারে মায়েদের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তাদের বয়সসহ তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।

রুলে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের প্রয়োজনীয় কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং আইজি প্রিজন্সকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শীর্ষক একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ৯ জুন এ রিট করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ কারাবিধির (বাংলাদেশ জেল কোড) ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী হাজতি ও কয়েদিরা চার বছর পর্যন্ত তাদের সন্তানদের কাছে রাখতে পারেন। তবে আইনে বলা আছে, কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছয় বছর পর্যন্ত সন্তানদের কাছে রাখার সুযোগ মেলে।

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শিশুর বয়স ছয় বছর পার হলে এবং মা কারাগারে থাকলে যেসব শিশুর স্বজনরা তাদের নিতে চান, তাদের স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়। আর যেসব শিশুর স্বজন থাকে না, তাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি শিশুনিবাসে পাঠানো হয়।

কারা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৯ শিশু (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) রয়েছে। এসব শিশুর মায়েদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। এর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন এবং ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এই শিশুদের মায়েদের কেউ সাজা খাটছেন, আবার কারও মামলা রয়েছে বিচারাধীন।

সম্প্রতি কারা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের ১৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে শিশু রয়েছে ১০০ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ৯০ শিশু। রাজশাহী বিভাগের ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু। সিলেট বিভাগের ৫টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ১৯ শিশু। এছাড়া রংপুর বিভাগের ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২০ জন, বরিশাল বিভাগের ৬টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ১৩ জন শিশু।

মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। গত ৪ মে পর্যন্ত ওই কারাগারে ৫১ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ছেলে শিশু ২৪ জন এবং কন্যাশিশু ২৭ জন। এই শিশুদের প্রায় সবাইকে কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে থাকতে হয়, যেখানে অন্য সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি বা হাজতিরাও থাকেন। তাদের বেশিরভাগই হত্যা ও মাদক মামলার আসামি।