• ই-পেপার

শাহজালালে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক ফরাসি নাগরিক রিমান্ডে

মানবতাবিরোধী অপরাধ

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মীয়মাণ ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরো দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ২৮ জুন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার রায়ের এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এ মামলার আসামি ৫ জন। এর মধ্যে পলাতক ৪ জন হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে। আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রিসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। এরপর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনায় চঞ্চল সরকারের মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে মামলার অভিযোগ থেকে তাঁর অব্যাহতি চান তিনি। তবে পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পুনর্সাক্ষ্যে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আনেন তিনি। চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এই আসামি।

উল্লেখ্য, আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলি; শিশু বাসিত খান মুসার (৭) মাথা ভেদ করে ওর দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো. নাদিম নামের আরো এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি।

এমন কোনো কুকীর্তি নেই, যেটা বেনজীর আহমেদ করেননি : চিফ প্রসিকিউটর

মানবতাবিরোধী অপরাধের ১০টি মামলার তদন্ত চলমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
এমন কোনো কুকীর্তি নেই, যেটা বেনজীর আহমেদ করেননি : চিফ প্রসিকিউটর
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আজ সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য দেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কুশীলব ছিলেন বেনজীর আহমেদ। শুধু তা-ই নয়, আট বছর আগে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বেনজীরের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন একরামুল হক। ঘটনার কিছু সময় আগে মেয়ের সঙ্গে একরামুলের কথোপকথনের একটি ফোনকল রেকর্ড কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে। সে সময় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তাঁকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) করা হয়।     

২০১৩ সালে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন। ওই বছর ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ঘিরে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেই অভিযানে বেনজীরের ভূমিকা তুলে ধরে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তিনি শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড না, তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আমাদের এখানে প্রায় ১০টির মতো মামলা আমরা ইনভেস্টিগেশন করে যাচ্ছি এবং প্রত্যেকটার সঙ্গে তার সরাসরি কানেকশন আছে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারে একরামুল কমিশনারের যে হত্যাকাণ্ড, তার সঙ্গে তার (বেনজীরের) সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। সে মামলাও তিনি আছেন (আসামি হিসেবে)।’

চিফ প্রসিকিউটরের মতে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই, যেটা বেনজীর তার কর্মজীবনে করেননি। আওয়ামী লীগ বা পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দিকে ইঙ্গিত করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে (গণ-অভ্যুত্থানে পতনের আগে) তাদেরই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদের কোনো কুশীলব তার (বেনজীরের) কুকীর্তি প্রকাশ করে দেন।’ এ সময় চিফ প্রসিকিউটর ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ থেকে কিছু অংশ পড়ে শোনান সাংবাদিকদের।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রতিবেদনের পর সবাই প্রথমবরের মতো জানতে পারে যে বেনজীর কত সম্পদের মালিক! কত ফ্ল্যাট, কত জায়গা, কত জমি আছে তার স্ত্রীর নামে, তার সন্তানদের নামে। তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া যায় দেশে, বিদেশে। এমন কোনো কুকীর্তি নেই, যেটা বেনজীর আহমেদ করেননি।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তিনি পুলিশ কমিশনার হিসেবে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি র‌্যাবের প্রধান হিসেবে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি যখন পুলিশের প্রধান ছিলেন, আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, অসংখ্য অপরাধের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে, প্রত্যেকটি নির্বাচনে তার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। এই দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করবার জন্য, হাজার হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করার দায়সহ অসংখ্য দায় তার বিরুদ্ধে।’

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে ট্রাইব্যুনালেও হাজির করা হবে। আর তদন্তাধীন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হবে জানান আমিনুল ইসলাম।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বেনজীরকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের কোনো এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (প্রত্যর্পণ চুক্তি) না। কিন্তু আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে। ইতোমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে কয়টি ওয়ারেন্ট আছে সেগুলো দিয়ে সরকার ইতোমধ্যে ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) সরকারের কাছে আবেদন করেছে তাঁকে ফেরত দেওয়ার জন্যে।’

আলোচিত-বিতর্কিত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গত রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র। এর আগে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। 

বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : চিফ প্রসিকিউটর

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তার বিচার হতেই হবে। ট্রাইব্যুনাল থেকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি দুবাই সরকারকে পাঠানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টার মাইন্ড নন, তিনি গুম-খুনের সঙ্গেও জড়িত। শাপলা চত্বরের ঘটনা, একরাম হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের একতরফা ও অবৈধ নির্বাচনের অন্যতম কুশীলব ছিলেন বেনজীর আহমেদ। র‌্যাব-পুলিশে থাকাকালীন সময়ে তিনি অসংখ্য মানুষকে খুন, নির্যাতন করেছেন। দেশে ফেরত আনা হলে ট্রাইব্যুনালের মামলার বিচারে হাজির করা হবে। তার কঠোর বিচার করা হবে।’

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক কাউন্সিলর মানিক ফের গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক কাউন্সিলর মানিক ফের গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

​জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় করা হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে করা মামলায় লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর (স্বতন্ত্র) হাসিবুর রহমান মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। 

​এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি মডেল থানার এসআই মো. বাবন উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী নিলায়ন বাপ্পী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ হাসিবুর রহমান মানিককে ধানমণ্ডি থানার মামলাটি নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হলো। আমরা আদালতে গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করি। 

আইনজীবী বলেন, গত ২২ মাস ধরে লালবাগ, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গায় করা মোট ১৪টি মামলায় মানিক কারাগারে আছেন। আমরা কোর্টকে জানিয়েছি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, তার দুইটা বাচ্চা আছে। যখনই আমরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বেলবন্ড দিচ্ছি, তখনই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। মামলা চলাকালীন কেন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে না?

​মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডির গ্রিন সামিট সংলগ্ন রাস্তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে মো. ইমন হাছান নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ধানমণ্ডি থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ইমন। ওই মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাবেক কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।