• ই-পেপার

গাজার সীমান্তে নতুন করে বসতি গড়লেন ৫ হাজার ইসরায়েলি

ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি হবে ভয়াবহ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ইরান

অনলাইন ডেস্ক
ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি হবে ভয়াবহ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ইরান
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের যেকোনো হামলার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি।

সতর্ক করে তিনি বলেছেন, তারা যেন ইরানের বিষয়ে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নেয়। যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ বলছে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলি আবদুল্লাহি বলেন, খামেনির নেতৃত্বে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেক শক্তিশালী হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি দাবি করেন, আধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ইরানের শত্রুরা অতীতে দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং অপমানিত হয়েছে। ফলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। 

এদিকে দেশবাসীকে জানাজার অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুল্লাহি বলেন, এতে জাতীয় ঐক্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরা যাবে।

তিনি বলেন, সাবেক নেতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তার দেখানো পথ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেন তিনি।

ইউক্রেনকে আরো ড্রোন ক্রয়ে ৩৯০ কোটি ইউরো দিল ইইউ

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনকে আরো ড্রোন ক্রয়ে ৩৯০ কোটি ইউরো দিল ইইউ
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনকে আরো ড্রোন কেনার জন্য ৩৯০ কোটি ইউরো স্থানান্তর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই তহবিলটি গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড় করা হয়। 

এই অর্থ ইউক্রেনের নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন বাড়াতে, সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং সম্মুখ সমরের জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ব্যবহার করা হবে। খবর রয়টার্স

এই পুরো প্রক্রিয়াটি ইইউ’য়ের ৯ হাজার কোটি ইউরোর ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’ প্রকল্পের আওতাধীন। ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে এই ঋণের ৬ হাজার ইউরো প্রতিরক্ষা খাতে এবং ৩ হাজার ইউরো ইউক্রেনের বাজেট সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় লাগাতার ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। এরই জবাবে গতকাল কিয়েভে বুধবার রাতভর চালানো রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

তবে এই ঋণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছিল হাঙ্গেরি। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশটি নতুন সরকার এপ্রিলে তাদের ভেটো তুলে নেয়। এরপরই এই প্রকল্পের অর্থ ছাড় করল ইইউ।

এই ড্রোন তহবিলের ঠিক কয়েকদিন আগে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ৩২০ কোটি ইউরোর প্রথম বাজেট সহায়তা কিস্তিও প্রদান করে ইইউ।

চীনে আকাশচুম্বী ভবনে বিমান ধাক্কা: পাইলটের ডায়েরিতে ছিল আত্মহত্যার কথা

অনলাইন ডেস্ক
চীনে আকাশচুম্বী ভবনে বিমান ধাক্কা: পাইলটের ডায়েরিতে ছিল আত্মহত্যার কথা
ছবি : রয়টার্স

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গত সপ্তাহে একটি ছোট বিমান শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবনে আঘাত করার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সী পাইলট তার ডায়েরিতে একাধিকবার আত্মহত্যার কথা লিখেছিলেন।

বৃহস্পতিবার চাওইয়াং জেলা সরকার জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণেই পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি ভবনের দিকে চালিয়ে দেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের ব্যস্ত ব্যবসায়িক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে পাইলট নিহত হন এবং আরো ১৩ জন আহত হন। তবে আহতদের কারো অবস্থা গুরুতর নয়। ইতোমধ্যে একজনকে হাসপাতাল থেকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনায় ১০৮ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারের কাঁচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনটি ‘চায়না জুন’ নামেও পরিচিত। কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইলট প্রথমে একজন প্রশিক্ষকের সঙ্গে উড়ান দেন। পরে বেইজিংয়ের উপকণ্ঠের একটি বিমানবন্দর থেকে একাই বিমান চালিয়ে আকাশে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর তিনি নির্ধারিত পথ থেকে সরে যান এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তদন্তে জানা গেছে, পাইলটের কোনো স্থায়ী চাকরি ছিল না। তিনি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল এবং একা থাকতেন। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা ও উদ্বেগে ভুগছিলেন। তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে আত্মহত্যার ইচ্ছার কথাও একাধিকবার লেখা ছিল। এই ঘটনা চীনের রাজধানীতে বিমান নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

খামেনির শেষ বিদায়ে থাকছেন ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির শেষ বিদায়ে থাকছেন ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক
রয়টার্স ছবি

চলতি জুলাই মাসের ৪ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান। প্রায় দেড় থেকে ২ কোটি মানুষের এই অনুষ্ঠান কাভার করতে সেখানে প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে ইরান।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী দিকনির্দেশনাবিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি জানান, জানাজা উপলক্ষে ইতিমধ্যে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যানুষ্ঠান। যেখানে দেড় থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে।

সালেহি বলেন, দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানগুলো কাভার করবেন। যাতে এই ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যায়। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।

তার দাবি, খামেনির জানাজা শুধু একজন নেতাকে জাতির শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান নয়; এটি জাতীয় শক্তি, সামাজিক সংহতি এবং শত্রুদের মোকাবেলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরোধক্ষমতারও বহিঃপ্রকাশ।

তিনি জানান, দেশের খ্যাতিমান প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের একটি দল জানাজা ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র নির্মাণ করছে। পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন আলোকচিত্র কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আগামী সপ্তাহ ইরানি জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিল্পীদের জন্যও স্মরণীয় সৃষ্টিকর্ম তৈরির সুযোগ হয়ে উঠবে।

সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এরপর ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা, ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম, ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান এবং ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।