• ই-পেপার

ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা : দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যার আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

তারা বলেছেন, সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বুড়িগোয়ালিনী নীলডুমুর ঘাটে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন অ্যাকশনের উদ্যোগে লবণসহনশীল ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেইথ ইন অ্যাকশন’ গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামে ২ হাজার ১৫টি পরিবারকে নিয়ে ‘জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রকল্পের এক হাজার সদস্যের মধ্যে তিনটি করে লবণসহনশীল ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, গাবুরা এলাকায় কদবেল, তাল ও তেঁতুল গাছের চারা রোপণ করলে মাটি ক্ষয়রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর। বেশি বেশি পরিবেশবান্ধব গাছ রোপণের আহ্বান জানান তিনি।

শ্যামনগর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, একটি গাছ মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। একটি শিশুকে যেমন যত্ন নিয়ে বড় করতে হয়, তেমনি একটি গাছও পরিচর্যার মাধ্যমে বড় হয়ে ওঠে। লবণসহনশীল ও পরিবেশবান্ধব গাছ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ায়র জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন ফেইথ ইন অ্যাকশেনর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিল্টন বাড়ৈ, এমঅ্যান্ডই কর্মকর্তা প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস  ও প্রকল্প কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বৈদ্য এবং কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটররা। অনুষ্ঠানে এক হাজার উপকারভোগীর মধ্যে এক হাজার তাল, এক হাজার কদবেল এবং এক হাজার তেঁতুল গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

রংপুরে অন্যের হয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে যুবক আটক

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরে অন্যের হয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে যুবক আটক
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের পীরগঞ্জে অন্যের হয়ে এইচএসসি পরীক্ষা (প্রক্সি) দিতে এসে রিমন (২৬) নামের এক যুবক আটক হয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার পীরগঞ্জ বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে রিমনের পরিচয় যাচাই করা হয়। এ সময় তিনি পৌরসভার প্রজাপাড়া এলাকার আব্দুস সালাম আকন্দের ছেলে নাজমুল হাসানের পরিবর্তে পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগে রিমনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ ঘটনায় পরীক্ষাকেন্দ্রে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষায় কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রক্সি পরীক্ষার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঈশ্বরগঞ্জে সেতুর নিচে ঝোপ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ঈশ্বরগঞ্জে সেতুর নিচে ঝোপ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের উচাখিলা বাজারসংলগ্ন কাঁচামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচের ঝোপ থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ের এক যুবকের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত যুবককে কয়েক দিন ধরে উচাখিলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তিনি কখনো নদীতে মাছ ধরতেন, আবার কখনো নদী থেকে শাক তুলে বাজারে বিক্রি করতেন। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যুবকের মাথার বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং ঘাড়ে প্রায় ৬ ইঞ্চি গভীর কোপের দাগ পাওয়া গেছে। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

১০ দিনের শিশুকে অপহরণ, চাচাসহ ২ জন গ্রেপ্তার

খুলনা অফিস
১০ দিনের শিশুকে অপহরণ, চাচাসহ ২ জন গ্রেপ্তার
উদ্ধার শিশুটি এবং গ্রেফতার তানিয়া বেগম। ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনার দাকোপ উপজেলায় ১০ দিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশু অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির আপন চাচাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলিয়ান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল সানার ১০ দিন বয়সী মেয়ে মাবিয়াকে গত ৩০ জুন রাত ৯টার দিকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজুয়া খ্রিষ্টানপাড়া এলাকার রাজা মিয়ার মেয়ে তানিয়া বেগম (৩০) অজ্ঞাত আরো দুই-তিনজনের সহযোগিতায় শিশুটিকে অপহরণ করেন। ঘটনার সময় শিশুটির মা ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সুযোগে নবজাতককে নিয়ে পালিয়ে যান অপহরণকারীরা।

ঘটনার পর শিশুটির পরিবার দাকোপ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাজুয়া এলাকা থেকে তানিয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তানিয়া বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির আপন চাচা এস এম গোলাম রব্বানীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রফিকুল সানা বাদী হয়ে তানিয়া বেগমসহ অজ্ঞাত আরো দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে দাকোপ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণের মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তানিয়া বেগম স্থানীয় এক পরিবারের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সেই সুযোগে তিনি নবজাতক শিশুটিকে অর্থের বিনিময়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে শিশুটির বাবা-মা রাজি না হওয়ায় পরে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়।

দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ খায়রুল বাশার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়া বেগম শিশুটির চাচা গোলাম রব্বানীর সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছেন। দুজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।