দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল (স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল) সেবা চালু করেছে ফিলিপাইন। দেশটির মোবাইল অপারেটর গ্লোব টেলিকম জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর সারা দেশে এই সেবা চালু করেছে।
দেশটির জাতীয় টেলিযোগাযোগ কমিশন (এনটিসি) গ্লোব টেলিকমকে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে যেসব এলাকায় এখনো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি, সেখানকার মানুষও মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে ফিলিপাইনের প্রায় চার শতাংশ মানুষ স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছেন। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, উপযুক্ত স্মার্টফোন সরাসরি স্টারলিংকের নিম্ন কক্ষপথে থাকা ৬৫০টির বেশি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এতে মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভর না করেই যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এসএমএস পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার, ভয়েস ও ভিডিও কল, নেভিগেশন সেবা এবং মোবাইল ডেটাও ব্যবহার করতে পারবেন।
গ্লোব টেলিকম জানিয়েছে, এই সেবা স্যাটেলাইট রোমিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তবে ফিলিপাইনের ভেতরে থাকা গ্রাহকদের কোনো অতিরিক্ত রোমিং চার্জ দিতে হবে না। তারা স্বাভাবিকভাবেই স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে যাদের সক্রিয় গ্লোব সিম রয়েছে এবং যারা অ্যান্ড্রয়েড এলটিই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তারাই এই সুবিধা পাবেন। গ্লোব জানিয়েছে, এই সেবা মূলত এমন এলাকাগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এখনো মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক পৌঁছেনি। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা বা প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে এই স্যাটেলাইটভিত্তিক সংযোগ জরুরি যোগাযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জুন মাসে দক্ষিণ কোটাবাতো, সুলতান কুদারাত ও সারাঙ্গানির কয়েকটি এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়। তখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দেড় লাখের বেশি গ্রাহকের জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। গ্লোব টেলিকমের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্ল ক্রুজ বলেন, এই বাণিজ্যিক সেবা চালুর ফলে মোবাইল টাওয়ারের বাইরে থাকা এলাকাতেও নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে দুর্গম অঞ্চল এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও মানুষ যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি শুধু নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণই করবে না, বরং জরুরি পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
সাত হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে দেশের সব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। এর অন্যতম কারণ দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি সেখানে প্রায়ই টাইফুন, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। গ্লোব জানিয়েছে, নতুন এই স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবার লক্ষ্য হলো আরু বেশি মানুষকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। জাতীয় টেলিযোগাযোগ কমিশন বলেছে, এই উদ্যোগ সরকারের সবার জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডিজিটাল বৈষম্য কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




