• ই-পেপার

১২ বছরেও খোঁজ মেলেনি, ‘এমএইচ৩৭০’ অনুসন্ধানের মেয়াদ বাড়াল মালয়েশিয়া

দূষণ রোধে ‘বৈদ্যুতিক গাড়ি’ কিনলে নগদ প্রণোদনা দিবে দিল্লি

অনলাইন ডেস্ক
দূষণ রোধে ‘বৈদ্যুতিক গাড়ি’ কিনলে নগদ প্রণোদনা দিবে দিল্লি
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের অন্যতম দূষিত মেগাসিটি নয়াদিল্লির বাতাসকে বিষমুক্ত করতে এবার নতুন পদক্ষেপ নিল স্থানীয় কেজরিওয়াল সরকার। সোমবার (২৯ জুন) চূড়ান্ত হওয়া চার বছর মেয়াদী এক নতুন বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) নীতিমালায় বলা হয়েছে, পুরোনো পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ি বাতিল (স্ক্র্যাপ) করে যারা নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনবেন, তাদের ১০০০ ডলারের (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা) বেশি নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে এই নতুন নিয়ম।

বিশেষ করে শীতকালে দিল্লির আবহাওয়া নরককুণ্ডে পরিণত হয়। ধীরগতির বাতাস, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধূলিকণা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে ফসল কাটার পর খড় পোড়ানোর ধোঁয়া মিলে তৈরি করে ঘন ও মারাত্মক ‘স্মোগ’। এই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে দিল্লিবাসীকে বাঁচাতে আগামী চার বছরে ১৫০ বিলিয়ন রুপি (১.৫৯ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ের একটি বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছে দিল্লি সরকার।

নতুন নীতিমালার তথ্য অনুযায়ী, যেসব গাড়ি মালিক ১ এপ্রিল, ২০২০-এর আগে কেনা পুরোনো গাড়ি বদলে নতুন ইভি নেবেন, তারা ‘স্ক্র্যাপিং ইনসেনটিভ’ হিসেবে ১,০৬০ ডলার পাবেন। পাশাপাশি, প্রথম বছরে নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার বা মোটরবাইক কিনলে মিলবে ৩০,০০০ টাকার নগদ ছাড়, যা পর্যায়ক্রমে কমে তৃতীয় বছরে ১০,০০০ টাকায় নামবে। ক্রেতাদের জন্য আরো বড় আকর্ষণ হচ্ছে ট্যাক্স মওকুফ। ৩০ লক্ষ রুপি পর্যন্ত মূল্যের যেকোনো ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনলে কোনো রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে না। সাধারণত দিল্লিতে গাড়ি কিনতে গেলে মূল দামের ৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত এই ফি বাবদ গুণতে হয়। তবে এই নীতিমালায় কোনো হাইব্রিড গাড়িকে (যা তেল ও ব্যাটারি উভয়ে চলে) সুবিধা দেওয়া হয়নি।

দিল্লির সড়ক থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির গাড়ি পুরোপুরি হটাতে একটি ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। বলা হয়েছে, ১ এপ্রিল, ২০২৮ থেকে দিল্লিতে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক দুই-চাকার যান (বাইক ও স্কুটার) নিবন্ধন করা যাবে। অর্থাৎ, এরপর থেকে কেউ চাইলেও পেট্রোল চালিত বাইক কিনতে পারবেন না। ইভি চালকদের চার্জিংয়ের সুব্যবস্থা করতে পুরো দিল্লি জুড়ে ৩২,০০০ নতুন ইভি চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করা হবে।

দিল্লি সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের শেয়ার বাজারে বড়সড় ঝাঁকুনি লেগেছে। এই নীতির সুবিধা নিয়ে ভারতের ইভি খাতের শীর্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যেমন টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, টিভিএস মোটর, বাজাজ অটো ও এথার এনার্জির মতো কোম্পানিগুলোর বিক্রি ও মুনাফা বিপুল পরিমাণে বাড়বে বলে আশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, দাবি নাকচ করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, দাবি নাকচ করল ইরান
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে হওয়ার চুক্তি নিয়ে আজ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই বৈঠকের অনুরোধ করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্যে ইরান বলছে, এ সপ্তাহে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো কৌশলগত আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা নেই। 

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেই বৈঠক হবে।' তবে বৈঠকে কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নেবেন বা কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দোহায় যাবেন। এদিকে, আলোচনার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কূটনীতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, চলতি মাসের শুরুতে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দোহায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেই কূটনীতিক বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত কারিগরি দলগুলোর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দোহায় বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তেজনাপূর্ণ না হয়ে ওঠে, সে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। 

তবে এই তথ্যের সঙ্গে একমত নয় ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, এ সপ্তাহে কোনো কারিগরি আলোচনা হবে- এমন খবর সঠিক নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলার পরও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বন্ধ হচ্ছে না। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই আপাতত হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।

এই বৈঠকের ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের পর প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয় নিয়ে ওমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরান। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেও পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। রবিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক পদক্ষেপের জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ এখনো রয়ে গেছে। এই বিষয়টিই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। হরমুজ প্রণালির এক পাশে রয়েছে ইরান, অন্য পাশে ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার ইরান জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে তাদের প্রথম বৈঠক হয়েছে। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মাসকাট সফরের সময় যৌথ হরমুজ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে পড়লেও সাধারণভাবে কোনো দেশ একতরফাভাবে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে বা টোল আরোপ করতে পারে না। তবে রবিবার ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের নির্ধারিত নৌপথ এড়িয়ে অন্য কোনো পথ ব্যবহার করার চেষ্টা হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে। তেহরানের দাবি, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলসংলগ্ন নির্ধারিত করিডোর ব্যবহার করেই চলতে হবে। 

যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পদ্ধতি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, প্যারিস ও মাসকাট যৌথভাবে মাইন অপসারণ অভিযান পরিচালনা করবে। এর প্রতিক্রিয়ায় কাজেম গারিবাবাদি এক্সে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী মাইন অপসারণের কাজ শুধুমাত্র ইরানই করবে। অন্য কোনো দেশের এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। তাই ফ্রান্সকে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাদের তথ্য বলছে, শনিবার প্রণালি দিয়ে ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও রবিবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১২টিতে। ক্লেপলার আরো জানিয়েছে, ওমানের জলসীমার দক্ষিণ দিকের করিডোর দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। অন্যদিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এএক্সএসমেরিনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪৪টি জাহাজ নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানানো বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রকাশিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওমান এবং উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করবে ইরান।
 

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১৭০০ ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১৭০০ ছাড়াল
ছবি : রয়টার্স

মধ্য-উত্তর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পরও চলছে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকাদের উদ্ধারের চেষ্টার মাঝেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ২৪ জুনের এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৭১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ব্যাপক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হলেও, পুরো অঞ্চলকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০০ মানুষ আহত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২০০০-এরও বেশি মানুষ। নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ ও ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ১০,০০০ মৃতদেহ রাখার ব্যাগ (বডি ব্যাগ) সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানান, রবিবার (২৮ জুন) ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি দেশের ২০০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি দূরন্ত অনুসন্ধানকারী কুকুর মোট ৪০টি দলে বিভক্ত হয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশের মোট সাতটি রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ‘লা গুয়াইরা’ রাজ্য এবং রাজধানী কারাকাসের ‘ডিস্ট্রিটো ক্যাপিটাল’ এলাকায়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ওই অঞ্চলের প্রায় ২,৫০০টি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার একটি বড় অংশই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিনিধি রামপোলা সামগ্রিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপজ্জনক একটি পরিবেশের মধ্যে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’ এদিকে আবহাওয়া ও প্রকৃতির প্রতিকূলতার কারণে স্থলভাগের উদ্ধার অভিযান চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সোমবার (২৯ জুন) ভোরে আঘাত হানা ৫.২ মাত্রার কম্পনটি অন্যতম। এর ওপর দুর্গত এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ধসে পড়া ভবনগুলোর উদ্ধারকাজকে আরো জটিল করে তুলছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১০

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১০

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই হামলায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সোমবার দিনভর হামলা চলায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিনিপ্রো শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন।

দেশটির আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, হামলায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি স্কুল, ব্যক্তিগত বাড়িঘর ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় বলেন, রাশিয়া দিনিপ্রোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি ইউরোপকে নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরো জোরদার করার আহ্বান জানান।

এদিকে, জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুই পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় সাত বছর বয়সী এক শিশুসহ আরো আটজন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ টেলিগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে রক্তাক্ত একটি সাদা মিনিবাস ও এর ভেতরে এক ব্যক্তির মরদেহ দেখা যায়। পরে বিকেলে একই শহরে একটি বেসামরিক ভ্যানে আরেকটি হামলা চালানো হলে সেটিতে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ শহরেও রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় ২৩ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। হামলায় একটি ট্রাম ও অন্তত ১৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহোর তেরেখভ।

তিনি জানান, এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে আরেকটি গ্লাইড বোমা শহরে আঘাত হানলেও সেটি বিস্ফোরিত হয়নি।

দিনিপ্রো, জাপোরিঝঝিয়া ও খারকিভ—ইউক্রেনের এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।

এ হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার আগ্রাসনে এ পর্যন্ত হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মস্কোও অভিযোগ করে আসছে যে ইউক্রেন রাশিয়া ও রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যদিও তা তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র : এনডিটিভি