• ই-পেপার

জুলাইয়ে মিলতে পারে পে স্কেলের সম্পূর্ণ বেতন

ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক

অনলাইন ডেস্ক
ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক

দেশের অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তি (ইনডিভিজুয়াল) করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে প্রবীণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের এ বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত বিশেষ আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে আরো বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৮-এর উপধারা (৪)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া সব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাকে এনবিআরের ই-ট্যাক্স পোর্টাল (www.etaxnbr.gov.bd) ব্যবহার করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা; শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা (প্রয়োজনীয় সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে); বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা; মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন। তবে এসব শ্রেণির করদাতারা চাইলে স্বেচ্ছায় অনলাইনেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

এনবিআরের আদেশে আরো বলা হয়েছে, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা কারিগরি সমস্যার কারণে যদি কোনো বাধ্যতামূলক করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত কর কমিশনার বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই করদাতাকে কাগজে (পেপার) রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, ডিজিটাল করব্যবস্থা আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও সহজ করতে অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতারা ঘরে বসেই নিরাপদ ও দ্রুত আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন এবং কর প্রশাসনের কার্যক্রমও আরো গতিশীল হবে।

এ বিশেষ আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রসারিত হচ্ছে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’

বাসস
এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রসারিত হচ্ছে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’
সংগৃহীত ছবি

দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারে এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রসারিত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রমে নতুন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন অর্থবছর থেকে এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়েও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুদক ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠিত হলে স্থানীয় জনগণের এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়বে।একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ আরো শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও সুশাসনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

অতীতে এ ধরনের কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘অতীতের দুর্বলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি নতুন কাঠামো তৈরি করা যায়, তাহলে উদ্যোগটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’

দুদকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সাত সদস্যবিশিষ্ট হবে। এতে একজন সভাপতি, প্রয়োজনীয়সংখ্যক দায়িত্বশীল সদস্য এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। সমাজের সৎ, সচেতন ও স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

বিদেশি নাগরিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য, আদালতের অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত ব্যক্তি, দেউলিয়া, ঋণখেলাপি, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তি কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয় না বলে দুদকের গঠনতন্ত্রে রয়েছে।

দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, দুর্নীতি দমনে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধ আরো কার্যকর হবে।

দুদকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য মতে, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৩ সদস্য এবং উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ সদস্যের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে আলোচনাসভা, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, সেমিনার, নাটক ও বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঁচ শতাধিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব কমিটির উদ্যোগে এক বছরে দেড় হাজারের বেশি আলোচনা সভা, এক হাজারের বেশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং শত শত শোভাযাত্রা, মানববন্ধন ও অন্যান্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, বিশেষ করে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষি উপকরণ বিতরণসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সেবায় যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, সেগুলো কমিয়ে আনতে এসব কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালু, নতুন নিয়মে আবেদন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক
ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালু, নতুন নিয়মে আবেদন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও পর্যটন (টুরিস্ট) ভিসা চালু করেছে ভারত। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) এই পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই ঘোষণা দিয়ে জানান, পর্যটন ভিসার পাশাপাশি মানবিক কারণে মেডিক্যাল ভিসা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি আইভ্যাক কেন্দ্রগুলোতেও এই সেবা চালু করে ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হবে।

নতুন নিয়ম
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (IVAC) সশরীরে কাগজপত্র জমা দেওয়ার অন্তত একদিন আগেই অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। দেশের প্রধান ৫টি কেন্দ্র ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় এই পর্যটন ভিসার আবেদন করা যাবে।

প্রথম ধাপ
ভিসা আবেদনের প্রথম কাজ হলো অনলাইনের মাধ্যমে ফরম পূরণ। আবেদনকারীকে প্রথমে ভারতীয় ভিসার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/Registration) প্রবেশ করে সমস্ত তথ্য নিখুঁতভাবে পূরণ করতে হবে। ফরমটি সঠিকভাবে পূরণের পর সেটি কম্পিউটার বা মোবাইলে পিডিএফ (PDF) আকারে ডাউনলোড করে নিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ
অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিং নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক অংশ। পরবর্তী কার্যদিবসে আইভ্যাকে ফাইল জমা দেওয়ার জন্য তার আগের দিনই স্লট বুক করতে হবে

  • ১. ফাইল আপলোড টাইম: প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আইভ্যাকের নির্ধারিত পোর্টালে সাইন-আপ করতে হবে এবং ডাউনলোড করা মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ ফাইলটি আপলোড করতে হবে।
  • ২. সতর্কবার্তা: আপলোড করা ফাইলটি যেন ৩০ দিনের বেশি পুরনো না হয়। কোনো প্রকার এডিটেড বা বিকৃত ফাইল আপলোড করলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সফলভাবে ফাইল আপলোড করলেই কেবল পরের ধাপে যাওয়া যাবে।

অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন ও ওটিপি প্রক্রিয়া
সাইন-আপ করার সময় ভিসার আবেদনপত্রে যে ইমেইল আইডি ব্যবহার করেছেন, সেটি দিতে হবে। এরপর আপনার মোবাইল ও ইমেইলে দুটি পৃথক ওটিপি পাঠানো হবে। প্রথমে ইমেইলের ওটিপি এবং পরে মোবাইলের ওটিপি সাবমিট করে অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাই করতে হবে। ভেরিফিকেশন শেষে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে সাইন-আপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সাইন-আপ শেষে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর মোবাইলে আবার একটি ওটিপি আসবে, যা দিয়ে মূল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতায় প্রবেশ করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করার পর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। তখন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট সময় দেখাবে। আবেদনকারী চাইলে সেই সময়টি একবার পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনেই ১,৫০০ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে।

জানা গেছে, ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি নেয় না, তবে আইভ্যাকের এই প্রক্রিয়াকরণ চার্জ বাধ্যতামূলক।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভিসা আবেদন কেন্দ্রে যাওয়ার সময় নিচে উল্লেখিত কাগজপত্রগুলো অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে:

  • পাসপোর্ট : মূল পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিম্ন ৬ মাস থাকতে হবে। এতে অন্তত ২টি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের প্রথম ৪ পাতার কপির সাথে সব পুরনো পাসপোর্ট অবশ্যই জমা দিতে হবে।
  • ছবি : ৩ মাসের মধ্যে তোলা ২×২ ইঞ্চি সাইজের রঙিন ছবি।
  • পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধনের কপি।
  • ঠিকানার প্রমাণ: আবাসন প্রমাণ হিসেবে ৬ মাসের কম পুরোনো বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি।
  • পেশার প্রমাণ : চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি , শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
  • আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ : প্রতি আবেদনের সঙ্গে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্স বা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ ৩ মাসের হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।

ভিসা সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে পাসপোর্ট ডেলিভারির তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বাজেটে উপকূল সুরক্ষা ও বাস্তুচ্যুদের পুনর্বাসনে পদক্ষেপ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বাজেটে উপকূল সুরক্ষা ও বাস্তুচ্যুদের পুনর্বাসনে পদক্ষেপ জরুরি

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অভিযোজন কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা অভাব রয়েছে। সৌর ও বায়ুশক্তির সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন উপকূল সুরক্ষা, কৃষি অভিযোজন, নগর জলবায়ু ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জলবায়ু অর্থায়নকে কেন্দ্র করে সমন্বিত পরিকল্পনা। বাজেট পাসের আগে এসব বিষয়ে পূনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বাংলাদেশের জন্য আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি এখন বাস্তবতা। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে নতুন নতুন সংকট তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের সারিতে। এমন বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় চলতি বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি রূপান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার আগামী বছরগুলোতে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বাড়ানোর লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সৌরবিদ্যুৎ, ছাদভিত্তিক সোলার ব্যবস্থা, শিল্প খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার বিষয়গুলো প্রস্তাবিত বাজেটে উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ প্রয়োজনীয়। কারণ বাংলাদেশ এখনো আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং মূল্য অস্থিরতার ঝুঁকিতে রয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। তবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলার উদ্যোগ এক বিষয় নয়। একটি প্রশমন ও অন্যটি অভিযোজন। বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যেটা বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সেক্ষেত্রে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় অভিযোজন ব্যয় আগামীতে কয়েক গুণ বাড়বে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে লাখো মানুষ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষি উৎপাদন, সুপেয় পানি এবং জীবিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বাজেটে এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। এছাড়া দেশের প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি উপকূলরেখা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে। বহু এলাকায় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে, নদীভাঙন বাড়ছে এবং লবণাক্ত পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করছে। বিভিন্ন সময়ে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও দুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হলেও জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উপকূল ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এখনো দৃশ্যমান নয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও সেটিকে একটি সমন্বিত জাতীয় অভিযোজন কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করা যায়নি। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের মধ্যে জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়টি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট নয়। ফলে সবুজ অর্থনীতির দিকে যাত্রার ঘোষণা থাকলেও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ এখনো হয়নি। তাই সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাজেটকে গণমূখী করতে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য পৃথক জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়ন, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন কৌশল নির্ধারণ, নগর তাপপ্রবাহ মোকাবেলার কর্মসূচি গ্রহণ, উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়ন, জলবায়ু ঝুঁকিভিত্তিক স্থানীয় সরকার অর্থায়ন কাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আহরণের সুনির্দ্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

উপকূলের ইস্যুগুলো নিয়ে দীর্ঘ দিন গবেষণা করছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উপকূল ব্যবস্থাপনা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি। সেখানে শুধু বাঁধ নির্মাণ নয়; ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ, নদী ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জীবিকা সৃষ্টি এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনকেও একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। এক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর মতো উপকূলের ইস্যুগুলোতে নীতিগত নির্দেশনা রাখতে হবে। এসব বিষয়ে এরইমধ্যে বিশেষজ্ঞ মতামতসহ সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত বাজেটে বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাজেটে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার জন্য পৃথক কৌশলগত বিনিয়োগের বিষয়টি খুব বেশি স্পষ্ট নয় বলে মনে করেন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুল। তিনি বলেন, জলবায়ু সহনশীল কৃষির উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে উপকূলের লবণাক্ত জমিতে চাষাবাদ বাড়ানো সম্ভব হলে জলবায়ু উদ্বাস্তুর হার কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া নগর জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় শহরে সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, জলাধার সংরক্ষণ, ছায়াবৃক্ষ রোপণ, তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নগর পরিকল্পনায় জলবায়ু বিষয়কে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।