মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ছবি সংবলিত একটি বিশেষ স্মারক পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জীবিত প্রেসিডেন্ট, যার ছবি এমন একটি স্মারক পাসপোর্টে স্থান পেয়েছে।
বিশেষ পাসপোর্টটির এক পাশে ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখা দেখা যায়। ছবিটির নিচে কালো রঙে ট্রাম্পের স্বাক্ষরও যুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্টের অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের একটি চিত্র রয়েছে।
তাদের নিচে বড় করে ‘২৫০’ সংখ্যা লেখা আছে, যা দেশটির স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পাসপোর্টের একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এটাই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট। যেখানে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ‘স্বাগতম, তবে ভালো ব্যবহার করবেন।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের আগে ওয়াশিংটন পাসপোর্ট অফিসে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার নতুন পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে। ওয়াশিংটন অফিসে যারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, তারা স্বাভাবিকভাবে এই নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাবেন। তবে অনলাইনে বা দেশের অন্য অঞ্চল থেকে আবেদনকারীরা চাইলে সাধারণ পাসপোর্টও নিতে পারবেন।
এই পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বহু বছর ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ মার্কিন পাসপোর্ট সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টে শুধু মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিস্তম্ভের ছবির মাধ্যমে সাবেক চার প্রেসিডেন্ট, জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিংকনের প্রতিকৃতি রয়েছে।
সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে ট্রাম্পের নাম ও ছবি যুক্ত করার ধারাবাহিকতায় এবার স্মারক পাসপোর্টেও তার প্রতিকৃতি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস এবং জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সঙ্গেও ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা হয়। তবে একটি ফেডারেল আদালত পরে কেনেডি সেন্টার থেকে তার নাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এ ছাড়া শিশুদের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামে একটি সঞ্চয় কর্মসূচি, প্রেসক্রিপশন ওষুধসংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইট ‘ট্রাম্পআরএক্স’ এবং অভিবাসীদের জন্য ‘ট্রাম্প ভিসা কার্ড’ কর্মসূচিতেও তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নতুন একটি যুদ্ধজাহাজ বহরের নামও ‘ট্রাম্প ক্লাস’ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।