• ই-পেপার

নিজের ছবিযুক্ত নতুন পাসপোর্ট উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

বেইজিংয়ের বহুতল ভবনে বিমান বিধ্বস্ত : পাইলট নিহত, আহত ১৩

অনলাইন ডেস্ক
বেইজিংয়ের বহুতল ভবনে বিমান বিধ্বস্ত : পাইলট নিহত, আহত ১৩
ছবি : সংগৃহীত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে একটি ছোট বিমান বহুতল ভবনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পাইলট নিহত এবং আরো ১৩ জন আহত হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে দুই আসনের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান বেইজিংয়ের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা চাওইয়াং জেলায় ১০৮ তলার একটি বহুতল ভবনের আছড়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ ভবন বা পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করেনি। 

তবে ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, বিমানটি বেইজিংয়ের বিখ্যাত সিআইটিআইসি টাওয়ারে (চায়না জুন) আঘাত হানে। ১০৮ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারটি বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলোর একটি। প্রাচীন চীনা মদের পাত্রের আদলে নির্মিত এই আকাশচুম্বী ভবনটি শহরের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা।

কঠোর আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত বেইজিংয়ে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

রাশিয়ায় সর্ববৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ায় সর্ববৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন
ছবি : এপি

রাশিয়ার ১২ অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং পার্শ্ববর্তী সাগরে একযোগে ৬৬০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার অগ্রাসনের পর থেকে অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা ছিল এটি। গতকাল শুক্রবার রাতে নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৬৬০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করেছে। এর আগে সবচেয়ে ৫৫৬টি ড্রোন ব্যবহার করে আরেকটি বড় হামলা চালিয়েছিলো কিয়েভ। খবর এপি

দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মোড় ঘোরাতে রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার, তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে অবিরাম ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন।

পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের লাগাতার বড় আকারে দুরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকে ব্যাহত করেছে। যা যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোর প্রচেষ্টাকে স্থবির করে দিয়েছে এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, রাশিয়ার একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা হয়েছে। এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাস্ট্রা জানিয়েছে, হামলায় রাশিয়ার নোভোমোস্কোভস্কের একটি রাসায়নিক কারখানা এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। তবে সোসিয়েটেড প্রেস স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি এবং এর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণও পাওয়া যায়নি।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাজধানীর দিকে উড়ে আসা ৪৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। 

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, ক্রিমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর কের্চে রুশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে যোগ করেন সংস্থাটি।

বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, নিন্দা দেশটির

অনলাইন ডেস্ক
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, নিন্দা দেশটির
ছবি : এএফপি

আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময়ের মাঝেই বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা দাবি তুলে তেহরানের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহারাইনে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যায়নি।  শনিবার (২৭ জুন) ভোরে তাদের ভূখণ্ডে চালানো একাধিক ইরানি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, এই হামলাকে বাহরাইন তাদের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের একটি ‌‘গুরুতর ও নগ্ন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সাথে বাহরাইন স্পষ্ট করেছে, নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির পূর্ণ আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে দেশের ভেতরে আঘাত হানে। যা বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন জায়গায় হামলা হয়েছে তা জানানো হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন উত্তেজনা প্রশমনের আন্তর্জাতিক চেষ্টা চলছে। ঠিক সেই মুহূর্তে এই হামলা চালানোর জন্য বাহরাইন এককভাবে তেহরানকে দায়ী করেছে। এই পদক্ষেপ চলমান আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে বলে বাহরাইন সতর্ক করেছে।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুগুলো হামলা চালানো হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি দেশটি।

মূলত হরমুজ প্রণালীতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার সাইটে বিমান হামলা চালায়। ইরান সেটিরই পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইনে (যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর অবস্থিত) ড্রোন হামলা চালায়।

জর্জিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে হাতাহাতি

অনলাইন ডেস্ক
জর্জিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে হাতাহাতি
ছবি : সংগৃহীত

জর্জিয়ার সংসদে তুমুল হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার ( ২৬ জুন) বসন্তকালীন অধিবেশনের শেষ বৈঠকে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি ও বিরোধী দল ফর জর্জিয়ার সংসদ সদস্যদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে তার বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করছিলেন।

নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জি গাখারিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ‘ফর জর্জিয়া’-এর সংসদ সদস্য জর্জি শারাশিদজে প্রশ্নোত্তর পর্বে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সাম্প্রতিক জর্জিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তার এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং কয়েক মিনিট ধরে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংসদের নিরাপত্তা কর্মীরা বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেন।

ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, প্রথমে দুই এমপির মধ্যে মারামারি শুরু হয়। জানা গেছে, তারা হলেন জর্জিয়ান ড্রিমের ইরাকলি খেলাদজে এবং ফর জর্জিয়ার গিগা পারুলাভা। এরপর এতে আরো পুরুষ ও নারী আইনপ্রণেতারা জড়িয়ে পড়েন।

হাতাহাতি-মারামারি যখন চলছিল, তখন কোবাখিডজে এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের দূর থেকে নিজেদের চেয়ারে বসে তা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।

প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় পোডিয়াম থেকে দেওয়া বক্তব্যে ফর জর্জিয়ার জর্জি শারাশিডজে আলিয়েভের এপ্রিল সফর এবং জর্জিয়ান ড্রিমের প্রতিষ্ঠাতা ও অনারারি চেয়ারম্যান বিদজিনা ইভানিশভিলির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। 

প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য জর্জি শারাশিদজে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের জর্জিয়া সফরের সময় প্রকাশিত ছবিগুলোতেই সরকারের ভেতরে কোবাখিদজের প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শারাশিদজের ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ যখন জর্জিয়ায় ছিলেন, তখন পুরো দেশ সেই ছবিগুলো দেখেছে। সেখানে আপনি এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা এই সরকারের মধ্যে আপনার প্রকৃত ভূমিকা ও অবস্থানকে তুলে ধরে।’ তার এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। তিনি আরো বলেন, ‘জর্জিয়ায় অনেক প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, কিন্তু এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি।’

এরপর তিনি ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের নির্লজ্জতা ও অভদ্রতা অন্য কোথাও নিয়ে যান।’ শারাশিদজের বক্তব্যের পর ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এতে সংসদ কক্ষের পরিবেশ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে শারাশিদজে মঞ্চ থেকে নামার সময় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। কয়েক মিনিট ধরে উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংসদের নিরাপত্তা কর্মীরা হস্তক্ষেপ করেন। এ সময় সরাসরি সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষে জড়িতদের মধ্যে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। তাদের মধ্যে লাশা তালাখাদজেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি ভারোত্তোলনে তিনবারের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া সংসদের আইনি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আর্চিল গোরদুলাদজেকেও সংঘর্ষে জড়িত থাকতে দেখা যায়।

হাতাহাতির ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ ভবনে জরুরি চিকিৎসা সেবা দলকে ডাকা হয়। পরে চিকিৎসাকর্মীদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।