ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার প্রথম ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে ভেনেজুয়েলায় ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল, যার মধ্যে লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফ্যালকন।
ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। এটাই ভূমিকম্পের পর সরকারিভাবে প্রকাশিত প্রথম হতাহতের হিসাব। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা জানানো হবে।
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, এ দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় এই ভয়াবহ ভূমিকম্প দুইটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২।
এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে এবং সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার দল এবং চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার সরঞ্জাম পাঠাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির বৈদেশিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেরেমি লিউইন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি দুর্যোগ সহায়তা দল ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইয়িব বুকেলে বলেছেন, তার দেশ ৫০ টন সরঞ্জাম ও সরবরাহ প্রস্তুত করেছে, পাশাপাশি ৩০০ উদ্ধারকর্মী ‘কারাকাসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া আজিন জানিয়েছেন, তার দেশও ভেনেজুয়েলায় তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানোর জন্য সহায়তা প্রস্তুত করেছে।




