• ই-পেপার

ভেনিজুয়েলায় দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার মৃতের সংখ্যা ভয়াবহ : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার মৃতের সংখ্যা ভয়াবহ : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার মহান জনগণের ওপর যে দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, তা ব্যাপক মাত্রার এবং এতে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত, আগ্রহী এবং সক্ষম!’ 

ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার জনগণের পাশে থাকবে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি ভালো নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় এক মিনিটের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং ৩৯ সেকেন্ড পর যে ভূমিকম্প হয় সেটির মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে।
 

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ২০টিরও বেশি আফটারশক

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ২০টিরও বেশি আফটারশক
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার প্রথম ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে ভেনেজুয়েলায় ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল, যার মধ্যে লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফ্যালকন।

ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। এটাই ভূমিকম্পের পর সরকারিভাবে প্রকাশিত প্রথম হতাহতের হিসাব। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা জানানো হবে।

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, এ দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় এই ভয়াবহ ভূমিকম্প দুইটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২।

এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে এবং সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার দল এবং চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার সরঞ্জাম পাঠাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির বৈদেশিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেরেমি লিউইন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি দুর্যোগ সহায়তা দল ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইয়িব বুকেলে বলেছেন, তার দেশ ৫০ টন সরঞ্জাম ও সরবরাহ প্রস্তুত করেছে, পাশাপাশি ৩০০ উদ্ধারকর্মী ‘কারাকাসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া আজিন জানিয়েছেন, তার দেশও ভেনেজুয়েলায় তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানোর জন্য সহায়তা প্রস্তুত করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পেলেন মন্ত্রী মর্যাদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পেলেন মন্ত্রী মর্যাদা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে ইউনিয়ন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। তবে এটি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্য প্রদত্ত একটি বিশেষ মর্যাদা এবং এর ফলে ভারতের বিদ্যমান ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’ বা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। গত ২৪ জুন ভারত সরকারের জারি করা এক অফিস স্মারকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত দিনেশ ত্রিবেদীকে আনুষ্ঠানিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে টেবিল অব প্রিসিডেন্সে ইউনিয়ন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমপর্যায়ের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মর্যাদা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। এটি সম্পূর্ণরূপে দিনেশ ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত মর্যাদা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভারতের টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে না। ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি কমলেশ রবিদাস স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, টবাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার শ্রী দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগতভাবে ইউনিয়ন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। তবে এ জন্য টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কোনো সংশোধন আনা হয়নি।ট

ভারতের টেবিল অব প্রিসিডেন্স হলো রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদধারী ব্যক্তি ও গণ্যমান্যদের অগ্রাধিকার নির্ধারণের সরকারি তালিকা। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, কূটনৈতিক সংবর্ধনা, জাতীয় দিবস উদযাপন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে কে কোন ক্রমে অবস্থান করবেন, তা এই তালিকার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। উল্লেখ্য, দিনেশ ত্রিবেদী বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাহরাইনে রুবিও, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
বাহরাইনে রুবিও, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বাহরাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে তার তিন দিনের সফরের শেষ ধাপ। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর সমর্থন অর্জন করা।

তবে এই উদ্যোগ সহজ হচ্ছে না। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক আরব মিত্র দেশ এখনো ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। বাহরাইন সফরের সময় রুবিও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এই আঞ্চলিক জোটে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সদস্য হিসেবে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়ে এই দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার প্রথম উপসাগরীয় অঞ্চল সফর।

সফরের শুরু থেকেই রুবিও আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি ইরানের পক্ষে একতরফাভাবে সুবিধাজনক নয়। বরং এটি অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। কুয়েতে সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না, যা এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিবে।’

রুবিওর এই সফর শুধু ইরান চুক্তি নিয়ে সমর্থন আদায়ের জন্য নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর আস্থা অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।