• ই-পেপার

‘কালো জাদু’ নিয়ে সন্দেহের বশে গৃহকর্মীকে হত্যা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন—ট্রাম্পকে মেলোনির পরামর্শ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন—ট্রাম্পকে মেলোনির পরামর্শ
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহজাত মিত্র। কিন্তু বছরের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপ ও ন্যাটোর কাছে সাহায্য চেয়েও না পেয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর থেকেই ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে আগের সেই হৃদ্যতা আর নেই।

যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর গত সপ্তাহে ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যে একসময়ের সবচেয়ে কাছের মিত্র ইতালির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন তলানিতে। দুই নেতার সাম্প্রতিক কথার লড়াই সে সম্পর্ককে আরো তিক্ত করেছে।

শুরুটা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পই। ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠক চলাকালে ইতালির লা সেভেন টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘তিনি (ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি) আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতি করেছিলেন। তিনি খুব বেশি করে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। আমি ছবিটা তুলতামই না, কিন্তু তার জন্য আমার খারাপ লেগেছিল।’

মেলোনিও কড়া ভাষায় এর প্রতিক্রিয়া জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া। সত্যি বলতে আমি হতবাক।’ মেলোনি ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আপনাকে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, ইতালি এবং আমি কখনো মিনতি করি না।’ ট্রাম্পের মন্তব্য ইতালিকে এতটা ক্ষুব্ধ করেছে যে এর প্রতিক্রিয়ায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনিও তাজানি তার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে শান্ত হওয়ার সুযোগ না দিয়ে উল্টো আগুনে ঘি ঢেলেছেন। শনিবার নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে এক স্ট্যাটাসে ট্রাম্প তার পুরনো দাবিই পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠক চলাকালে আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।’

ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনির জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তার ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে মেলোনির অস্বীকৃতির কারণেই তার জনপ্রিয়তা কমছে। ট্রাম্পের ইঙ্গিত ছিল, জনপ্রিয়তা ফিরে পেতেই মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যাকুল ছিলেন।

তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী আবারও কড়া ভাষায় ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শনিবারই ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মেলোনী ট্রাম্পের দাবিকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। ফেসবুকে মেলোনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এই ক্রমাগত ও অহেতুক আক্রমণগুলো একেবারেই অর্থহীন।’ মেলোনি দাবি করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই তার জনপ্রিয়তায় কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন ভূমিকাই তার জনপ্রিয়তার মূল কারণ। আর ইতালির স্বার্থ রক্ষা করতেই তিনি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দেননি।

মেলোনি ফেসবুকে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে  লিখেছেন, ‘যাই হোক না কেন, আমার জনপ্রিয়তা আপনার চিন্তার বিষয় নয়। আমি পরামর্শ দেবো, আপনি আপনার নিজের জনপ্রিয়তার দিকেই মনোযোগ দিন।’

ছবি তোলা বিতর্কে মেলোনি অবশ্য তার দেশের সমর্থন পেয়েছেন। শনিবার ইতালির একটি কট্টর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম তাদের প্রথম পাতার শিরোনাম করেছে, ‘ট্রাম্প একজন আস্ত গাধা।’

মেলোনিকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের উপর্যুপরি আক্রমণ, ইতালির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যাবে। অথচ ইতালি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ইউরোপিয় মিত্র। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের অভিষেকের সময় ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে একমাত্র মেলোনিই উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে নানা ইস্যুতে একজন আরেকজনের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। কিন্তু এখন তাদের মধ্যে প্রকাশ্য বৈরিতা বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মূলত কী চুক্তি হয়েছে—জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মূলত কী চুক্তি হয়েছে—জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা

কাতারে থাকা আমাদের ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হবে জানিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সব ধারাই আমাদের পক্ষে। এই আলোচনা ও আলোচনার অর্জন খুব শিগগিরই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।’

তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধের কথা বলেছিলেন, আলোচনায় সেসব বিষয়কে ইরানি জনগণের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

তেহরান দীর্ঘদিনের আলোচনায় পরমাণু অস্ত্র তৈরি নিয়ে। তবে এ বিষয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমেরিকার একমাত্র দাবি ছিল আমরা যেন পারমাণবিক বোমা না রাখি। শহীদ নেতা (সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) বহুবার বলেছেন, আমরা পারমাণবিক বোমা চাই না।’

পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ‘আমেরিকা বলেছে—এটি লিখে স্বাক্ষর করুন, আর আমরা স্বাক্ষর করেছি।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় সবচেয়ে অসন্তুষ্ট ব্যক্তি হবেন নেতানিয়াহুই।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে এখনো উভয়পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিনাবের নিহতদের স্মৃতিচারণা করলেন ইরানের স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিনাবের নিহতদের স্মৃতিচারণা করলেন ইরানের স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার কারিগরি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা শুরুর আগে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (এমবি গালিবাফ) তাদের দেশের ‘মিনাব স্কুল’ হামলায় নিহতদের স্মরণ করেছেন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত কমাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সময় এই শহীদদের আত্মত্যাগই তাদের পথ দেখাবে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চলমান কূটনৈতিক বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা। তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে ইরান এবার অপর পক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। অতীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের নজিরের কথা উল্লেখ করে বাঘাই বলেন, বিপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এবার তাদের অঙ্গীকার পূরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করা হবে।

এই কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে এসেছেন। সংসদ স্পিকার গালিবাফের নেতৃত্বে এই দলে আরো রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী আলী বাঘেরি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুলনাসের হেম্মাতি, উপ-তেলমন্ত্রী ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির চেয়ারম্যান হামিদ বোর্দে।

ইরানি প্রতিনিধিদল জুরিখে পৌঁছানোর পর সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের স্বাগত জানিয়েছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই দেশের সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের পরবর্তী আলোচনার জন্য ইরানি দলটি এখন বার্গেনস্টকের পথে রয়েছে।

 

আইন অমান্য করায় সৌদিতে ১৫ হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
আইন অমান্য করায় সৌদিতে ১৫ হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

বাসস্থান (ইকামা), শ্রম আইন ও সীমান্ত নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৫ হাজার ২৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র দিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ৮৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে আবাসন বা বাসস্থান আইন লঙ্ঘনের দায়ে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার সময় ৪ হাজার ৫৭৬ জন এবং শ্রম আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে আরো ২ হাজার ৮৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অবৈধভাবে সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টাকালে মোট ১ হাজার ৬৬৮ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ৫৩ শতাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যাওয়ার সময় আরো ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের কাজের সুযোগ দেওয়া, থাকার জায়গা বা যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ার অপরাধে ২৪ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে বা থাকতে যেকোনো উপায়ে সাহায্য করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা আইন লঙ্ঘনের তথ্য জানাতে অনুরোধ করেছে।