• ই-পেপার

ওবামার বিরুদ্ধে ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
সংগৃহীত ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মার্কিন সামরিক অভিযানের কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়েছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে পেন্টাগন।

গত ১৫ জুনের ওই নথিতে এই ট্রিলিয়নেয়ারের প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের একটি বিশাল ডেটা সেন্টারের গ্যাস টারবাইনের পক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে, যা একটি পরিবেশবাদী মামলায় বিচারের মুখে রয়েছে।

এএফপির হাতে আসা নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যুক্তি দিয়েছে যে, ‘এই মামলা মার্কিন জাতীয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। কারণ, এটি এমন একটি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে চাইছে যা যুদ্ধ দপ্তরের সামরিক অভিযানে সহায়ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উদ্ভাবনকে শক্তি জোগায়।’

এই যুক্তির পক্ষে পেন্টাগনের এআই প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলির শপথপূর্বক দেওয়া সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এআই-নির্ভর টার্গেটিং প্রোগ্রাম ‘প্রজেক্ট মাভেন’–এ ‘গ্রোক’ ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রকল্পটি শুরুতে অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লদ’ মডেল দিয়ে পরিচালিত হলেও পরে ‘গ্রোক’ যুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে তিনি মাস্কের প্রযুক্তি এবং ‘গ্রোক গভ মডেল’–এর কারণে অভিযানের কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়েছে বলে প্রশংসা করেন।

স্ট্যানলির বিবৃতি অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানের ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ‘মাভেন স্মার্ট সিস্টেম’ (এমএসএস) ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে দুই হাজারের বেশি গোলা নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন এনএএসিপি এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, কম্পানিটি বিনা অনুমতিতে কয়েক ডজন টারবাইন চালিয়ে ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করছে এবং এর ফলে কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত এলাকাগুলো দূষণের শিকার হচ্ছে। 

তবে এক্সএআইয়ের দাবি, টারবাইনগুলো অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ হওয়ায় এগুলো সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে না।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অ্যানথ্রোপিক তাদের প্রযুক্তি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় হামলা বা মার্কিন নাগরিকদের গণ-নজরদারিতে ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানালে সরকার তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। 

এরপর পেন্টাগন গুগল, ওপেনএআই এবং এক্সএআইয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ঝুঁকেছে। যদিও গুগলের ৬০০-এর বেশি কর্মী গোপনীয় সামরিক অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির এআই সরবরাহ না করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্ক গত ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআইকে তার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সঙ্গে একীভূত করেন বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

শুক্রবারের মধ্যেই শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ হবে : জেডি ভ্যান্স

অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবারের মধ্যেই শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ হবে : জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া আগামী শুক্রবারের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন এই দলিল আরো দ্রুত প্রকাশের জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা কাতার ও পাকিস্তানের আলোচকরা ‘অল্প সময়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ না করার অনুরোধ’ জানিয়েছে।

মার্কিন জনগণের জন্য একটি ভালো চুক্তি হিসেবে অভিহিত করে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এটি আজই প্রকাশের জন্য চাপ দিচ্ছি, কারণ আমরা চাই মার্কিন জনগণ যেন জানতে পারে এই চুক্তিতে কী আছে।’ 

গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া খসড়া নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তির বিষয়ে কিছু ‘বিকৃত তথ্য’ ছড়ানো হচ্ছে। 

ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানান, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি ‘অবিলম্বে’ উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং এটি একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘ইরান যদি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোতে অর্থায়ন বন্ধ এবং পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা থেকে সরে আসার বিষয়ে আমাদের চাহিদা পূরণ করে, তবেই তারা কিছু সুবিধা পাবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে।’

এই সুবিধা বলতে তিনি ইরানের অর্থনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বুঝিয়েছেন। ভ্যান্স দাবি করেন, ‘আমরা তাদের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন তাদের এমন প্রণোদনা দিতে চাইছেন যাতে তারা দীর্ঘ মেয়াদে আর সেই কর্মসূচি পুনর্গঠন করার চেষ্টা না করে।’

ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ
রয়টার্স ছবি

ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণা ঠেকাতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে দেশটির সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফলে সরকারি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স বলছে, বুধবার টেলিগ্রামের আইনজীবীরা দিল্লি হাইকোর্টে সরকারের নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। আদালত শিগগিরই বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল ডুরভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেখানে তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। বরং এটি ভারতের প্রায় ১৫ কোটি টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীর জন্য শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে তোলপাড়

গত মাসে ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া এই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে সরকার নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিও ওঠে।

সরকারের অভিযোগ, টেলিগ্রামের কিছু চ্যানেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগাম সরবরাহের দাবি করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, প্রাণ হারায় কোলের শিশু

অনলাইন ডেস্ক
চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, প্রাণ হারায় কোলের শিশু
ছবি :

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি সেনাটোবিয়ায় একটি ওয়ালমার্টের পাকিংয়ে চোর সন্দেহে মাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন কোলের শিশু। নিহত শিশুর নাম কোহেন উইলে (এক বছর)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এই ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, প্রাণ হারানো শিশুটির মা ও এক আত্মীয় বিরুদ্ধে সেনাটোবিয়ায় একটি ওয়ালমার্ট থেকে ডায়াপার চুরির অভিযোগ উঠে। এসময় তারা চুরি করে গাড়ি নিয়ে পালাচ্ছিলেন। সেই সময়ে এক পুলিশকর্মী গুলি চালাতে শুরু করেন। মায়ের কোলে থাকা অবস্থাতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে কোহেনের মৃত্যু হয়।

দুই মহিলার এক জন গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছেন, গাড়িটি নাকি তাদের চাপা সামনের দিকে এড়িয়ে আসছিলো।

চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে কোহেনের পরিবার বলেছে, অর্থ প্রদান না করে গোপনে পণ্য নিয়ে গেলে কি, পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাবে। 

এই অঙ্গরাজ্য ঘটনার তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর আগে আমেরিকায় পুলিশের হাতে নিরপরাধের নিহত হওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। ২০২০ সালে পুলিশের হাঁটুর তলায় বিদ্ধ হয়ে ছটফট করেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড। বারবার বলছিলেন 'আই ক্যান্ট ব্রিদ'। শোনেনি পুলিশ। মারা গিয়েছিলেন ফ্লয়েড, তখনও নিন্দার ঝড় বয়েছিল।